সিটি ব্যাংক পিএলসির প্রধান অর্থনীতিবিদ এবং কান্ট্রি বিজনেস ম্যানেজার মো. আশানুর রহমান। বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকান্স্যুরেন্স-সংক্রান্ত কারিগরি কমিটি এবং গাইডলাইন প্রিপারেশন কমিটির সদস্য হিসেবে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। তার নেতৃত্বে সিটি ব্যাংক দেশের প্রথম ব্যাংক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইন্স্যুরেন্স ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রেগুলেটরি অথরিটি (আইডিআরএ) থেকে ব্যাংকান্স্যুরেন্স ব্যবসার লাইসেন্স পেয়েছে। ব্যাংকান্স্যুরেন্সের নানা বিষয় নিয়ে সম্প্রতি কথা বলেছেন বণিক বার্তায়। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাবিদিন ইব্রাহিম
ব্যাংকান্স্যুরেন্স কী, সহজে যদি ব্যাখ্যা করতেন...
ব্যাংক ও ইন্স্যুরেন্সের সম্মিলনেই বাংকান্স্যুরেন্স শব্দটি। এটি নতুন কোনো পণ্য নয়। বিদ্যমান পণ্যগুলোই ব্যাংক তার চ্যানেলে বিক্রি করবে। এটাকেই বলা হয়েছে বাংকান্স্যুরেন্স। ১৯৮০ সালে প্রথম ফ্রান্স ও স্পেনে শুরু হয়। ক্রমান্বয়ে দক্ষিণ এশিয়াতেও জনপ্রিয় হয়। ভারতে মানুষের বাংকান্স্যুরেন্সে অভিগম্যতা তাদের জিডিপির (মোট দেশীয় উৎপাদন) ৪ দশমিক শূন্য ২ ভাগ। ব্যাংক মূলত তিনটি পণ্য: আমানত, ঋণ ও বিনিয়োগ পণ্য বিক্রি করে। এখন ব্যাংক তাদের এ তিন পণ্যের সঙ্গে ইন্স্যুরেন্স পণ্যটিও বিক্রি করবে। ব্যাংকিং চ্যানেলে একজন গ্রাহকের যতগুলো আর্থিক সেবা দরকার তার মধ্যে ইন্স্যুরেন্স সেবাটিই তার বাইরে ছিল। এখন একজন গ্রাহক ব্যাংকের মাধ্যমেই এ সেবা পাবেন। অর্থাৎ একজন গ্রাহকের যতগুলো আর্থিক সেবা দরকার তার সবগুলোই এখন ব্যাংক থেকে নিতে পারবেন। সংক্ষেপে এটাই ব্যাংকান্স্যুরেন্স।
আপনি বলছেন, ১৯৮০ সালে ব্যাংকান্স্যুরেন্স ফ্রান্স ও স্পেনে প্রথম চালু হয়। বাংলাদেশে এত দেরি হলো কেন?
আমাদের এ উপমহাদেশের কথা বলি। ইন্স্যুরেন্সের ইতিহাস কিন্তু ২০০ বছরের ওপরে। আমাদের এখানে যেটা হয়েছে, বিশেষ করে বাংলাদেশে ইন্স্যুরেন্স শুরু থেকে একটি দুর্বল ভিত্তির ওপর এ প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের রেগুলেশন, ফ্রেমওয়ার্ক, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা—এসবের ঘাটতি বহু দিনের। ইন্স্যুরেন্সগুলো আগে রিপোর্ট করত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে। তারপর এল অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে। রেগুলেটরির দিক দিয়ে চিন্তা করলে দেখা যাবে, যিনি চেয়ারম্যান হন তিনি প্রেষণে আসেন। তাহলে এখানে দীর্ঘমেয়াদে কেউ থাকেন না। আসলে ওই ভিশন ও মিশন অনুপস্থিত। ইন্স্যুরেন্স বাংলাদেশে যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। এটা রেগুলেটর বা সরকারের জায়গা বলেছি।
আর ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলোর দিক থেকে যদি বলি, শুরু থেকেই ইন্স্যুরেন্স ব্যবসাটি এখানে এজেন্ট-নির্ভর বা শাখা-নির্ভর হয়েছে। এছাড়া এখানে তার যে নির্দিষ্ট ব্যয়, যে কমিশনটা শেয়ার করে, প্রিমিয়াম থেকে যে আয় হয় তা শেয়ার করে, সেটা অনেক। আবার যে এজেন্ট এই পণ্যগুলো বিক্রি করছে, সে কিন্তু যে গোপন শর্তাবলি রয়েছে গ্রাহককে যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করে না। গ্রাহককে কোনো রকম একটি বুঝ দিয়ে পণ্যটি বিক্রি করে। জবাবদিহিতা সেখানে অনুপস্থিত। আবার প্রিমিয়ামের একটি বড় অংশই যদি খরচ হিসেবে চলে যায়, তাহলে সমস্যা হলো ইন্স্যুরেন্সে যে রিজার্ভ বলি বা একচুয়ারি উদ্বৃত্ত বলি, সেগুলো তখন আর থাকে না। ফলে দাবি নিষ্পত্তিও তখন ঠিকমতো করতে পারে না। দাবি নিষ্পত্তির বিষয়টিও তখন বড় বিবাদ হিসেবে প্রতীয়মান হয়। আর গ্রাহকের জায়গা থেকে যদি বলি, ইন্স্যুরেন্স বা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ওপর আস্থার বড় ঘাটতি হচ্ছে গ্রাহক তার দাবি পায় না।
আবার গ্রাহকও ইন্স্যুরেন্সের যখন পণ্যটা কিনছে যে ধরনের তথ্য বা ডিসক্লোজার তার দেয়া দরকার সেটা কিন্তু সে দেয় না। কারণ গ্রাহককে কেন তথ্য দেয়া উচিত সেটা তাকে বোঝানো হয় না। সে মূলত প্রিমিয়াম সাইজ কম রাখার জন্য কিছু তথ্য গোপন করে। ফলে যখন একটি ঘটনা ঘটে যায় তখন কিন্তু সে তার দাবি পাচ্ছে না।
জবাবদিহিতা, নিয়মাবলি ও মানুষের মধ্যে অসচেতনতা—সবকিছু মিলিয়ে বাংলাদেশে ইন্স্যুরেন্স ব্যবসাটি গড়ে ওঠেনি। যে কারণে ভারতেও ২০০০ সালে ব্যাংকান্স্যুরেন্স চালু হয়েছে। সেই অর্থে তারাও দেরি করেছে। তার পরও আমরা কিন্তু ২৪ বছর পর শুরু করেছি। এটার অন্যতম কারণ সার্বিকভাবে এ খাতের প্রতি অবহেলা।
ব্যাংকান্স্যুরেন্স থেকে একজন গ্রাহক কীভাবে লাভবান হবে—গ্রাহকের দিক থেকে আমরা একটু জানতে চাই।
খুব ভালো পয়েন্ট। গ্রাহক কীভাবে লাভবান হবে—এখানে অনেকভাবেই বলা যায়। প্রথমত, এটা এখন ওয়ানস্টপ সার্ভিস। গ্রাহককে একটি ইন্স্যুরেন্স পণ্য কেনার জন্য তাকে এখন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির অফিস বা এজেন্টের কাছে যাওয়ার দরকার নেই। এখন কোনো গ্রাহক বাসায় বসেই কিন্তু ব্যাংক থেকে ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমেই ইন্স্যুরেন্স পণ্য কিনতে পারবে। অর্থাৎ ব্যাংক থেকে অন্য পাঁচটি আর্থিক পণ্যের সঙ্গে ইন্স্যুরেন্স পণ্যটিও কিনতে পারবে। দ্বিতীয়ত, সার্ভিসের সহজলভ্যতা। একজন গ্রাহক যখন যেখানে যেভাবে চাচ্ছেন সেভাবেই তা পাচ্ছেন। এটা গ্রাহকের জন্য খুবই সুবিধাজনক। আগে বাসায় বাসায় গিয়ে ইন্স্যুরেন্সের প্রিমিয়াম সংগ্রহ করত, আর প্রিমিয়াম জমা হচ্ছে কিনা তা গ্রাহক জানত না। আবার অনেক সময় প্রিমিয়াম দিয়েছে কিন্তু তা জমা হয়নি। আর এখন প্রিমিয়াম জমা দিতে আসতে হচ্ছে না। প্রিমিয়ামের বিষয়ে একটি নির্দেশনা ব্যাংকে দিয়ে দিলে অ্যাকাউন্ট থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডেবিট হয়ে যাবে। অন্য যেকোনো ব্যাংক বা উৎস থেকে নির্দেশনা দিলেই স্বয়ংক্রিয় ডেবিট হয়ে যাবে। আগে যে খরচ হতো সেই খরচও লাগবে না। এতে খরচও কমে যাবে।
আরেকটি বিষয়, একটি অফিস রাখতে গেলে বা এজেন্টদের কমিশন দিতে গেলে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির যে খরচ হতো—এ বিষয়ে আমার গবেষণা বলছে, সরাসরি খরচের প্রায় ১৫ শতাংশ কমে যাবে এবং পরোক্ষ ব্যয় ১০-১৫ শতাংশ কমে যাবে। এছাড়া লেনদেনের খরচও কমে যাবে। এ খরচ কমলে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির একচুয়ারি উদ্বৃত্ত বেড়ে যাবে। আর এই উদ্বৃত্ত বাড়লে সেটার ৯০ ভাগ গ্রাহককে লভ্যাংশ হিসেবে দিতে পারবে। আর ১০ ভাগ শেয়ারহোল্ডারদের দিতে পারবে। এতে গ্রাহকই লাভবান হবে।
অন্যদিকে বীমার প্রিমিয়াম চার্জ কমার কারণে প্রচুর মানুষ বীমা কিনতে উৎসাহী হবে। দাবির নিষ্পত্তি যখন নিয়মিত হবে এবং স্বচ্ছতা আসবে তখন মানুষ উৎসাহ বোধ করবে। আর প্রিমিয়ামের পরিমাণ কমলে গ্রাহকরাই লাভবান হবে। কারণ গ্রাহকের সংখ্যা বাড়লে প্রিমিয়াম বাড়বে। গ্রাহকের দিক থেকে বলছি, সবদিক মিলিয়ে গ্রাহকের ব্যয় কমবে। প্রতিযোগিতামূলক দামে এখন পণ্য কিনতে পারবে।
ব্যাংকান্স্যুরেন্স নিয়ে সিটি ব্যাংকের পরিকল্পনা কী?
আমাদের বড় পরিকল্পনা রয়েছে। ব্যাংকান্স্যুরেন্সে ব্যাংকের কোনো ঝুঁকি নেই। কারণ ঝুঁকি নিচ্ছে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি। ইন্স্যুরেন্স নিয়ে দাবি উঠলে তা পরিশোধ করবে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি। আমাদের কোনো দায়দায়িত্ব নেই। আমরা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গ্রাহকের সামনে আমাদের তুলে ধরছি। কিন্তু ব্যাংক কিন্তু একটি কমিশন পাবে। ইন্স্যুরেন্স এক ধরনের ভালো ব্যবস্থাপনা সেবা। গ্রাহক তার ঝুঁকিটা পূরণ করতে চায়, ব্যাংক হিসেবে আমি তাকে পরামর্শ দিচ্ছি। আমি তাকে একটি পণ্য অফার করছি এবং সে যদি যথাযোগ্য মনে করে তাহলে সেটা সে কিনছে। ব্যাংক হিসেবে সিটি ব্যাংক যা ভাবছে এটা আমাদের জন্য নতুন পথ। আমাদের গ্রাহক যারা আছেন তাদের ইন্স্যুরেন্সের চাহিদা আছে। কিন্তু ইন্স্যুরেন্সের প্রতি আস্থা নেই বলে এবং ব্যাংক এটাকে নিয়ে কখনো গুরুত্বসহকারে ভাবেনি এবং ব্যাংক এ ধরনের পণ্য অফার করতে পারে না বলে আমরা গ্রাহকের কাছে পৌঁছতে পারি না। আমাদের যারা গ্রাহক তাদের ইন্স্যুরেন্সের যে চাহিদা তা আমরা মেটাতে পারব। ফলে গ্রাহক সন্তোষজনকের জায়গা থেকে বললে সেটা আমাদের জন্য লাভ। আমাদের যেসব পণ্য রয়েছে, বিশেষ করে ক্রেটিড পণ্য, এ পণ্যগুলোকে আমরা আর্থিক সুরক্ষা দিতে পারি। এছাড়া ছোট আকারের যে ঋণ আছে সেগুলো আমরা কাভারেজ করতে পারি। যেমন গবাদি পশুসহ কৃষিপণ্যগুলোকে ইন্স্যুরেন্স সুবিধার আওতায় আনতে পারি। আমরা বড় আকারে ভাবছি। আমাদের সিটি ব্যাংকের সব চ্যানেলেই ব্যাংকান্স্যুরেন্স চালু করব। এ-সংক্রান্ত সব সেবা অনলাইনে নিয়ে আসার চেষ্টা করছি। গ্রাহকরা অনলাইন থেকেই এখন এসব সেবা পাবেন।
গ্রাহকের ঝুঁকির ভার তো আপনারা নিচ্ছেন না। এ ভার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ওপর দিয়েছেন। গ্রাহকের কোনো সমস্যা সৃষ্টি হলে আপনাদের কাছ থেকে কী সুবিধা পাবে?
এক্ষেত্রে দুটি বিষয় রয়েছে। প্রথমত, গ্রাহককে সচেতন থাকতে হবে। এক্ষেত্রে তারা সঠিক পণ্যটি বাছাই করতে পারছে কিনা? এ বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। এখন কোনো গ্রাহক যদি ইন্স্যুরেন্স খোলার সময় কোনো বিষয় আমাদের অবহিত না করেন সেক্ষেত্রে আমরা কিন্তু তাকে সঠিক সেবা বা পরামর্শ দিতে ব্যর্থ হব।
গ্রাহকের প্রয়োজন বুঝে সঠিক পণ্য বিক্রি করি এবং গ্রাহককে বোঝাতে সক্ষম হই যে কোনো কিছু গোপন করলে—অনেক শর্তাবলি থাকে যেখানে গ্রাহক সুবিধা পাবেন না কিংবা কোনো সমস্যায় পড়লে আশানুরূপ সেবা নাও পেতে পারেন। তাই এ বিষয়ে গ্রাহককে নিজ থেকেই সচেতন হয়ে তার সব বিষয় আমাদের জানাতে হবে।
আমাদের ব্যাংকের সঙ্গে কিন্তু ইন্স্যুরেন্স প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্ভিস লেভেল এগ্রিমেন্ট (এসএলএ) রয়েছে। সেখানে কত দিনে দাবি নিষ্পত্তি করতে হবে তা বলা আছে। এ সময়ের মধ্যে যদি গ্রাহক দাবি নিষ্পত্তি না করে তাহলে তিনি এসএলএ লঙ্ঘন করছে। আমরা তখন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিকে দাবির নিষ্পত্তির বিষয়ে বলার অধিকার আছে। সুতরাং আমরা কখনই চাই না যে আমাদের গ্রাহক ভোগান্তির শিকার হোক। শুরুতে স্বচ্ছতা আসবে বলছি না। তবে ধীরে ধীরে স্বচ্ছতা আসবে। আর গ্রাহকের সমস্যা সমাধান করাই আমাদের কাজ।
সিটি ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকের ভালো আস্থা আছে। দীর্ঘদিন ধরে আপনারা ভালো সেবা দিয়ে আসছেন। কিন্তু ইন্স্যুরেন্স অংশীদারের ওপর গ্রাহকের আস্থা কীভাবে নিশ্চিত করবেন?
ব্যাংকের সঙ্গে গ্রাহকের সম্পর্ক প্রাথমিক আর বীমা কোম্পানির সঙ্গে গ্রাহকের সম্পর্ক সেকেন্ডারি। তাই আমরা কখনই চাইবো না গ্রাহকের সঙ্গে সিটি ব্যাংকের প্রাথমিক সম্পর্কটা কোনো কারণে খারাপ হোক। ফলে আমি যখন অংশীদার করছি তখন যাচাই করছি, দাবি নিষ্পত্তির ইতিহাসটা কী এবং হার কত? আমরা এমন কোনো ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিতে যাব না যার দাবির নিষ্পত্তির হার ৯০ ভাগের নিচে। ফলে এখানে অংশীদার নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অংশীদার নির্বাচনের মডেলটি আমরা ও প্রাইসওয়াটারহাউজ কুপার’স (পিডব্লিউসি) যৌথভাবে করেছি। দেশের শীর্ষ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলো ৬৪টি ক্রাইটেরিয়া বিবেচনায় নিয়েছি। যে ইন্স্যুরেন্স শীর্ষে আমরা তার সঙ্গে অংশীদার চুক্তি করছি। বাজারে যেহেতু এই ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সুনাম রয়েছে, তাই সেও চাইবে না তাদের মাধ্যমে গ্রাহক কোনো ক্ষতিগ্রস্ত হোক।
শুরুর দিকে ব্যাংকান্স্যুরেন্স নিয়ে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলোর একটু অসন্তুষ্টি ছিল। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?
সারা বিশ্বেই ইন্স্যুরেন্স ব্যবসাটি ছিল এজেন্টভিত্তিক। তাই এজেন্টরা মনে করছে, বাংকান্স্যুরেন্স হলে তারা চাকরি কিংবা ব্যবসা হারাবে। তাদের আয়ের ওপর একটি হস্তক্ষেপ মনে করছে। আরেকটা দিক হচ্ছে, মানুষ ব্যাংকের মাধ্যমে স্বচ্ছতা পেলে ইন্স্যুরেন্সের কাছে আর যাবে না, এটা অনেকটাই স্বাভাবিক। কারণ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলোর তুলনায় ব্যাংকের বিশ্বস্ততা বেশি। এ রকম বেশকিছু বিষয় নিয়ে হয়তো তাদের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা থাকতে পারে। সেই জায়গা থেকে বিরোধিতা বা বিরোধিতার প্রশ্ন আসছে। তবে এখন সমাধান হয়েছে।
আমাদের জিডিপিতে বীমা খাতের অভিগম্যতা দশমিক ৪৬ শতাংশ, যেখানে ভারতে ৪ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। আপনি কি মনে করেন ব্যাংকান্স্যুরেন্স চালুর ফলে বীমা খাত সম্প্রাসারণ হবে?
পরিসংখ্যান বলছে, ভারত ও বাংলাদেশের অর্থনীতি একই, কিন্তু আমাদের চেয়ে ভারতের অর্থনীতির আকার অনেক বড়। কিন্তু একই অর্থনীতিতে আমাদের সম্ভাবনা ছিল বীমা খাত সম্প্রসারণ করা। কিন্তু আমরা পারিনি। কেন পারিনি তার কিছু কারণ এর আগে বলেছি। আমরা মনে করি, আমাদের এখানে ব্যাংকান্স্যুরেন্স চালুর ফলে বীমা খাত সম্প্রসারণের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে।
ভারতে গড়ে একজন মানুষ বছরে ৭৫-৮০ ডলার খরচ করে ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়াম হিসেবে। অন্যদিকে বাংলাদেশে খরচ করছে জনপ্রতি ৯ ডলার। এর থেকেই পার্থক্য সহজে বোঝা যায়। আর বিশ্বে ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়াম হিসেবে প্রতিজন খরচ করে বছরে ৫৮২ ডলার।










