ড. শ্যামল চৌধুরী অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক শেষ করে জার্মানির কিয়েল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে এমএ করেন। কৃষি অর্থনীতিতে পিএইচডি করেন জার্মানির বন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। বর্তমানে তার গবেষণার মূল বিষয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন। বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের সামাজিক ও মানসিক দক্ষতা অর্জন নিয়ে একটি গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। ওই গবেষণার বিভিন্ন দিক নিয়ে সম্প্রতি কথা বলেন বণিক বার্তায়। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাবিদিন ইব্রাহিম
বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে আপনারা কভিড-পূর্ব সময়ে একটি গবেষণা করেছেন। আপনাদের এ গবেষণা নিয়ে বিস্তারিত জানতে চাই। কোন বিষয় নিয়ে এ গবেষণা করা হয়েছে এবং এ গবেষণায় কী কী পেলেন?
শিশুদের যে সামাজিক ও মানসিক দক্ষতাগুলো রয়েছে সেগুলোকে বাড়ানো যায় কিনা তা নিয়ে আমরা এ গবেষণা করেছি। অধিকাংশ শিক্ষা ব্যবস্থায় যে দক্ষতাগুলো শেখানো হয় তা হচ্ছে লিটারেসি ও নিউমারেসি। এ দক্ষতাগুলো আমাদের কগনিটিভ স্কিলের সঙ্গে যুক্ত। দীর্ঘদিন ধরে এগুলো শেখানো হচ্ছে এবং এর একটা ছোট্ট ইতিহাস রয়েছে। এর শুরুটা হয়েছিল ইংল্যান্ডে শিল্প বিপ্লবের সময়। শিল্প বিপ্লবের সময় ফ্যাক্টরিতে যখন শ্রমিকের দরকার পড়ে তখন তাদের লিটারেসি ও নিউমারেসি শেখানো হয়েছিল যেন তারা গুনতে ও পড়তে পারে। এরপর যেন তারা ফ্যাক্টরিতে কাজ শুরু করতে পারে। এ দুটি দক্ষতা বিরাট উপকারে এসেছিল। তখন অবশ্য অতটুকুই দরকার ছিল।
তবে এর বাইরেও এক ধরনের দক্ষতা রয়েছে যেটাকে আমরা বলি সামাজিক ও মানসিক দক্ষতা। লিটারেসি ও নিউমারেসির মতো সামাজিক ও মানসিক দক্ষতাগুলো শেখাটাও খুব জরুরি। জীবনের অনেক ব্যাপার রয়েছে যেগুলো এ দক্ষতাগুলোর ওপর নির্ভর করে। যদি শুধু চাকরির কথাই চিন্তা করেন, চাকরির ক্ষেত্রে যাদের সামাজিক ও মানসিক দক্ষতা বেশি থাকে তারা বেশি উপার্জন করে। এর একটা প্রায়োগিক মান আছে। মূলত সেজন্য আমরা গবেষণাটি করেছিলাম। প্রথমত, আমরা দেখেছি যে এ সামাজিক ও মানসিক দক্ষতাগুলো এখানকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের শেখানো যায় কিনা এবং দ্বিতীয়ত, শেখানো গেলে কোন বয়সে শেখানো যায়। অর্থাৎ কোন বয়সটা শেখার জন্য সবচেয়ে ভালো বয়স, কখন শেখালে তারা বেশি শেখে। এগুলোই ছিল আমাদের গবেষণার মূল উদ্দেশ্য।
কোন কোন সামাজিক ও মানসিক দক্ষতা শিশুদের জন্য জরুরি?
অনেকগুলো সামাজিক ও মানসিক দক্ষতা জরুরি। আমরা তিনটি মৌলিক দক্ষতা নিয়ে গবেষণাটি করেছিলাম। এগুলো হচ্ছে ধৈর্য, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও পরার্থপরতা। এ তিন মৌলিক দক্ষতার ওপর আমরা কাজ করেছি—দক্ষতাগুলো বাড়ানো যায় কিনা বা কীভাবে বাড়ানো যেতে পারে। এ দক্ষতাগুলো মানুষের জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যাদের আত্ম নিয়ন্ত্রণ নেই, তাদের স্কুল থেকে ঝরে পড়ার হার বেশি। যেসব শিশুর ধৈর্য কম, তারা পরীক্ষায় ভালো করে না, ফলে বেশি দূর যেতে পারে না। সুতরাং একজন শিক্ষার্থী কতদূর এগোতে পারবে সেটা অনেকটা নির্ভর করে তার ধৈর্যের ওপর। পরার্থপরতার বিষয়টি বলতে গেলে বলতে হয়, আমরা এমন একটি সমাজ চাই যেখানে একজন আরেকজনকে সাহায্য করবে। সমাজে যেন দলবদ্ধ কাজ হয়, যেন জনকল্যাণমূলক কাজের সংখ্যা বাড়ে। এগুলোর জন্য পরার্থপরতার মতো গুণের বিকাশ অত্যন্ত জরুরি। না হলে দেখা যাবে সবাই একা একা এগোতে চাইবে, কাজের ক্ষেত্রে নৈতিকতা কমে যাবে। সমাজে যখন স্বার্থপরতার মতো নেতিবাচক গুণ বেড়ে যায় তখন কল্যাণমূলক চিন্তা ও কাজ কমতে থাকে। সুতরাং পরার্থপরতার গুণটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
আপনি যে তিনটি গুণের কথা বললেন এ গুণগুলোর লালন ও বিকাশে আমাদের বর্তমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো কতটুকু প্রস্তুত ও সক্ষম বলে আপনি মনে করেন?
বিষয়টি দুভাবে চিন্তা করা যেতে পারে। প্রথমত, আমরা বিষয়টিকে শেখানোর চেষ্টা করছি কিনা অর্থাৎ আমাদের কারিকুলামে এটি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কিনা এবং অন্যটি হচ্ছে, আমাদের শিক্ষকরা তা শ্রেণীকক্ষে পাঠদান করতে সক্ষম কিনা। মোটাদাগে বলতে গেলে আমাদের কারিকুলামে বা এর লক্ষ্য, উদ্দেশ্য কোনটিতেই এটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এ কারণে আমরা একটা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কন্টেন্ট নিয়ে এসেছিলাম যেটা যুক্তরাষ্ট্রসহ শতাধিক দেশের কারিকুলামে রয়েছে। শিশুর সামাজিক ও মানসিক দক্ষতা অর্জন ও বিকাশে এ গুণগুলোর পাঠ প্রায় সব দেশের শিক্ষাক্রমেই রয়েছে। বলা চলে এটি একটি বিশ্ব স্বীকৃত পাঠদান পদ্ধতি। দ্বিতীয় যে বিষয়টি সামনে আসে তা হলো, আমাদের শিক্ষকরা এজন্য প্রস্তুত কিনা। শিক্ষকদের আমরা প্রশিক্ষণ দিয়েছিলাম। যদিও সেটা ছিল তিনদিনের একটা সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ, কিন্তু শিক্ষকরা সেটা খুব ভালোভাবেই রপ্ত করেছিলেন এবং শ্রেণীকক্ষে তা পাঠদান করতেও সক্ষম হয়েছিলেন। আমি বলব যে আমাদের শিক্ষকদের এজন্য প্রস্তুত করা তেমন একটা কঠিন কাজ নয়।
শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে আর কী কী সমস্যা রয়েছে বলে মনে করছেন? সমসাময়িক চাহিদা পূরণে তাদের কি পর্যাপ্ত দক্ষতা ও সক্ষমতা রয়েছে?
শিক্ষকদের দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য আমরা সরাসরি কোনো মূল্যায়ন করিনি। আমরা দেখেছি সামাজিক ও মানসিক দক্ষতার বিষয়টি পাঠদানের ফলে তা অন্য কোনো পাঠ অথবা শিক্ষণকে বাধাগ্রস্ত করছে কিনা। শিক্ষকরা যখন কোনো একটি বিষয় পড়াচ্ছেন তখন আমরা শুধু সামাজিক ও মানসিক দক্ষতার বিষয়টি দেখিনি, বরং একই সঙ্গে আমরা দেখেছি ছাত্রছাত্রীদের বার্ষিক মূল্যায়ন রিপোর্টে তারা কেমন করছে। তারা ভালো করছে কিনা। সামাজিক ও মানসিক দক্ষতার বিষয়টি শেখার ফলে তারা গণিত ভুলে যাচ্ছে কিনা, বাংলায় কম পাচ্ছে কিনা প্রভৃতি। মজার বিষয় হচ্ছে যে এর ফলে আমরা উল্টোটা দেখতে পেয়েছি। যেসব স্কুলে সামাজিক ও মানসিক দক্ষতার বিষয়টি পাঠের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, সেসব স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা বাংলায় বা গণিতে আরো বেশি ভালো করেছে। সেদিক থেকে চিন্তা করলে শিক্ষকদের দক্ষতার ঘাটতি ছিল না বলেই আমি বলব।
সামাজিক ও মানসিক দক্ষতার বিষয়ে কথা বলার সময় আপনারা একটি সংবেদনশীল পর্বের কথা বলেছেন, বিষয়টি যদি একটু বুঝিয়ে বলতেন।
মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়টির অনেকগুলো ধাপ রয়েছে। বিভিন্ন দক্ষতা বিভিন্ন ধাপে এবং বিভিন্ন বয়সে শেখা যায়। যেমন আমরা যদি আইকিউর কথা বলি, আইকিউ শেখার সবচেয়ে ভালো বয়স হচ্ছে শূন্য থেকে ৩৬ মাস অর্থাৎ শিশুর প্রথম তিন বছরের মধ্যে তার আইকিউর বিকাশ ঘটে। তখন শিশুরা মা-বাবার সঙ্গে, পরিবারের সঙ্গে থাকে। সেক্ষেত্রে মা-বাবার বাইরে সরকারের তো তেমন কিছু করার সুযোগ নেই। আমাদের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকরা দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত শিশুদের পড়িয়েছেন। আমরা দেখেছি যে কোন বয়সের বা কোন শ্রেণীর শিশুদের মধ্যে এ সামাজিক ও মানসিক দক্ষতার গুণগুলো কী পরিমাণে কার্যকরী বিকাশ ঘটতে পেরেছে। গবেষণায় দেখা গেছে যে পঞ্চম শ্রেণীর তুলনায় দ্বিতীয় শ্রেণীর শিশুরা বিষয়টি, বিশেষত ধৈর্য ও আত্মনিয়ন্ত্রণ দ্রুত শিখেছে। তাই আমরা কোমলমতি শিশুদের প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়টিকে সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত করেছি।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থায় খুদে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা চালু রয়েছে। এটা কি সামাজিক ও মানসিক দক্ষতার গুণগুলো বিকাশের ক্ষেত্রে কোনো বাধা তৈরি করতে পারে? বিষয়টিকে আপনারা কীভাবে দেখছেন?
সামাজিক ও মানসিক দক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রে র্যাংকিংয়ের প্রয়োজনীয়তা বা এর প্রভাব—এ বিষয়গুলোকে আমরা খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেখেছি, তবে আমরা এ নিয়ে সরাসরি কোনো মূল্যায়ন করিনি। আবার র্যাংকিংয়ের ব্যবস্থা যে রাখতেই হবে এমন নয়। আমরা এর পরিবর্তে গ্রেডের দিকে চলে যেতে পারি। যেমন এ গ্রেড, বি গ্রেড প্রভৃতি। অথবা কে কত নম্বর পেল তা বলে দেয়া যেতে পারে।
ইদানীং ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের কথা বলা হচ্ছে। এটি পেতে প্রাথমিক শিক্ষার কোন কোন জায়গায় জোর দেয়া উচিত বলে মনে করছেন?
এর উত্তরটি হয়তো শুনতে খারাপ লাগতে পারে। বাংলাদেশ এখনো তৈরি পোশাক ও প্রবাসী শ্রমিকের ওপর নির্ভরশীল। বিদেশে আমরা দক্ষ শ্রমের চেয়ে অদক্ষ শ্রম বেশি রফতানি করছি। সামাজিক ও মানসিক দক্ষতা অর্জনের বিষয়টিকে শিক্ষার আওতায় আনা গেলে দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে আমরা আরো বেশি জোর দিতে পারব। শুধু গার্মেন্ট খাতেই নয়, বরং বিদেশগামী শ্রমিকদেরও এই ট্রেনিং দেয়া যেতে পারে। আমাদের অর্থনীতি ও রেমিট্যান্সে সামাজিক ও মানসিক দক্ষতা অর্জনের বিষয়টি অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
এক্ষেত্রে শিক্ষকদের ভূমিকা একটি মুখ্য বিষয়। আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা বা এর চাহিদা পূরণে শিক্ষকদের কীভাবে প্রশিক্ষণ দেয়া যেতে পারে? এক্ষেত্রে আপনারা কোন ধরনের ঘাটতি দেখেছেন?
বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার অবকাঠামো অবশ্যই ভালো, এ কথা বেশ আত্মবিশ্বাস নিয়েই বলা যায়। কারিকুলাম বা পাঠক্রমও চলনসই। তবে পাঠ পর্যালোচনা বা মূল্যায়ন রিপোর্টের দিকে তাকালে মনে হয়, যেন কোথাও একটা ফারাক রয়েছে যে কারণে পুরোপুরি ফলাফল আসছে না। সেজন্য আমার মনে হয়, শিক্ষকদের আরো গতিশীল করার জন্য প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। আর সামাজিক ও মানসিক দক্ষতা অর্জনের জন্য যে প্রশিক্ষণের কথা আমরা বলেছি এটা যে খুব দীর্ঘ সময়ের তা কিন্তু নয়। আমরা মাত্র তিনদিনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছিলাম এবং অনেকটা আশানুরূপ ফল পেয়েছি। আমার মনে হয়, এজন্য প্রশিক্ষণ দেয়ার আগে প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য প্রভৃতি সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা নিয়ে পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া যেতে পারে।
সামাজিক ও মানসিক দক্ষতা অর্জনের বিষয়টির সঙ্গে খেলাধুলা এবং স্বাস্থ্য, খাদ্য প্রভৃতি কতটা সম্পর্কযুক্ত বলে মনে করেন?
খেলাধুলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় এক্ষেত্রে। শিশুরা কিন্তু একটানা বেশিক্ষণ পড়াশোনা করতে পারে না। ধরুন, তারা ক্লাসে থাকল ৫০ মিনিট আর ১০ মিনিট বাইরে এসে খেলাধুলা করল। এটা তাদের শরীরকে চাঙ্গা রাখে এবং এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাপার। তো দেখা যায় যে আমরা এটির প্রতি খুব বেশি নজর দিই না। আমরা খুব বেশি শেখাতে চাই। মজার বিষয় হলো, অনেক কম পড়িয়েও কিন্তু অনেক বেশি শেখানো যায়। যেমন ফিনল্যান্ডের কথা যদি বলি, সেখানে শিশুদের পাঠের পরিমাণ কিন্তু খুব বেশি নয়, তবে তারা শেখে খুব বেশি। বিপরীত দিকে দক্ষিণ কোরিয়ায় শিশুদের পাঠের পরিমাণ বেশি হওয়া সত্ত্বেও কিন্তু তুলনামূলকভাবে ফিনল্যান্ডের শিশুদের চেয়ে বেশি শিখছে না।
একই সঙ্গে খাদ্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। একটি শিশু যদি ক্ষুধার্ত থাকে তাহলে তার পক্ষে ক্লাসে মনোযোগ দেয়া সম্ভব নয়। পুষ্টিগুণসম্পন্ন খাবার যদি ক্লাসে দেয়র ব্যবস্থা করা যায় তাহলে তা তাদেরকে পাঠে আরো মনোযোগী করবে বলে আমি মনে করি। শিশুদের জন্য স্বাস্থ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কিছু স্বাস্থ্যসেবা অবশ্য আমরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের দিচ্ছি, যেমন ইমোনাইজেশন বা টিকা প্রদান। এর বাইরেও যদি কোনো স্বাস্থ্যসেবা যেমন ভিশন চেকআপ, হিয়ারিং চেকআপ ইত্যাদি করা যেতে পারে, তাহলে খুবই ভালো উদ্যোগ হবে।
শেষ প্রশ্নটি করছি, বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে কোন কোন বিষয়ের দিকে জরুরি ভিত্তিতে নজর দেয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন?
আমি একজন গবেষক তবে বাংলাদেশের শিশুশিক্ষা সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ নই। আমার মনে হয়, শ্রেণীকক্ষে পাঠদানের পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আরো অনেক অনানুষঙ্গিক কাজ করতে হয় যেগুলো কমানো অথবা বাদ দেয়া উচিত। পাঠ পরিকল্পনায় স্থানীয় বা দেশীয় সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্তীকরণ খুবই জরুরি। অভিভাবকদের সম্মিলনও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শিক্ষক-অভিভাবকদের মধ্যে ভালো যোগাযোগ থাকা উচিত। সর্বোপরি যেহেতু আমরা শিশুদের সামাজিক ও মানসিক দক্ষতা উন্নয়ন নিয়ে কাজ করেছি, যদি এ বিষয়টিকে শ্রেণীকক্ষে পাঠের আওতায় আনা যায় তবে আমি মনে করি তা শিশুদের ভবিষ্যৎকে আরো সুন্দর করতে সহায়ক হবে।
শ্রুতলিখন: নূশরাত জাহান সিনথিয়া










