প্রতি বছর রমজান মাস এলে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেয়া হলেও তার প্রভাব বাজারে পড়ে না। ফলে নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের ভোগান্তি আরো বাড়ে। এ বছরও রোজার মাস সামনে রেখে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা চলছে। অন্যদিকে রমজান মাসে বাজারে পণ্য সরবরাহ যেন স্বাভাবিক থাকে, সেজন্য বাকিতে আট পণ্য আমদানি করা যাবে বলে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বণিক বার্তায় প্রকাশ, রমজান মাস আসতে বাকি আরো দুই মাস। পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে এখনই বাড়তে শুরু করেছে চাল, আটা, ময়দা, ডাল, ছোলা, ব্রয়লার, চিনি, চিড়াসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম। এজন্য অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ডলার সংকট ও ঋণপত্র খোলা নিয়ে জটিলতাকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা। যদিও বাজারে এসব সংকট ও জটিলতার প্রভাব এড়াতে এরই মধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ধারে আট পণ্য আমদানির সুযোগ রেখে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা ও নীতি বিভাগ। পণ্যগুলো হলো ভোজ্যতেল, ছোলা, ডাল, মটর, পেঁয়াজ, মসলা, চিনি ও খেজুর।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নেয়া এ উদ্যোগ আসন্ন রমজান উপলক্ষে প্রয়োজনীয় পণ্যের জোগান নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। কারণ ডলার সংকটের কারণে এসব পণ্যে এলসি খোলার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা ছিল। এ উদ্যোগের ফলে তার সমাধান আসবে। তবে উদ্যোগ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি জোরদার করার বিষয়টিও সামনে আসছে।
বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে রোজার সময় নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে চিন্তিত সাধারণ মানুষ। কারণ বাজার দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিক চড়া। কোনো পণ্যের দাম কমছে না। এমনকি দেশের বাজারে নিত্যপণ্যের দাম কমার কোনো সুখবরও নেই বেশ দীর্ঘ সময়। যদিও বিশ্ববাজারে অনেক পণ্যের দাম কমেছে। বিশ্ববাজারে দাম কমলেও ডলারের বাড়তি দামসহ নানা কারণে সে সুফল মিলছে না। সরকার ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে সুলভে পণ্য বিক্রি করলেও ভোক্তার দুর্ভোগ কমেনি।
রোজার দুই মাস বাকি থাকতেই নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির হয়ে রয়েছে। এখনই এ অবস্থা হওয়ায় রোজার সময় পণ্যগুলোর দাম নাগালের বাইরে চলে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত বছর দেখা গেছে, রমজান শুরু হওয়ার কয়েকদিন বাকি থাকতেই রমজানকে কেন্দ্র করে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম বেড়ে স্থিতিশীল হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেখা যায়, পণ্যের লাগামহীন দাম বাড়ায় চরম সংকটে পড়ে নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার। আয় না বাড়ায় পরিবার নিয়ে শহরে টিকে থাকাটাই দায় হয়ে পড়ে। এমনকি পরিবারে একাধিক লোক আয় করেও খরচ মেটানো অসম্ভব হয়ে যায়। তখনো সরকারের তদারকির দুর্বলতার কারণে অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছেন বলে অভিযোগ ওঠে। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা ডলার সংকট ও এলসি খুলতে না পারায় পণ্যের দাম বেড়েছে বলে দাবি করেন।
এ বছর বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আটটি পণ্য ৯০ দিনের সাপ্লায়ার্স বা বায়ার্স ক্রেডিটের আওতায় আমদানি করার সুযোগ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ সুযোগের ফলে বাকিতে পণ্য আমদানি করা যাবে। এখন ব্যাংকগুলো যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে আমদানির এলসি খুললে পণ্য সময়মতো চলে আসবে। এতে রমজান উপলক্ষে প্রয়োজনীয় পণ্যের জোগান নিশ্চিত হবে। তবে একটা সময় পর আমদানি দায় পরিশোধের চাপ আসবে। কিন্তু দেখা যায়, প্রতি বছরই রমজানকে কেন্দ্র করে বাজারে প্রশাসনের নজরদারি, অভিযানসহ বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়। সে ধারাবাহিকতায় এবারো সে সম্ভাবনা মাথায় রেখে কয়েক মাস আগেই পণ্যগুলোর দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। সে হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের এ পদক্ষেপ কতটুকু কাজে লাগবে সেটি নিয়ে মোটা দাগে প্রশ্ন তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। মূলত রমজান মাসে নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়া এক শ্রেণীর ব্যবসায়ীর অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। সদ্য সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রীও ব্যবসায়ীদের এ ধরনের তৎপরতায় এক ধরনের অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছিলেন। মূলত কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভোক্তাদের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা এ পদক্ষেপে আশাবাদী হতে চাই। বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তের সুফল বাজারে পড়ুক সেটিই আমাদের কাম্য। পাশাপাশি ভোক্তাদের অতীতের দুর্ভোগ বিবেচনায় রমজানে নিয়মিত বাজার তদারকি অব্যাহত রাখার প্রয়োজনও পড়বে।










