ড. জাইদি সাত্তার বাংলাদেশভিত্তিক থিংক ট্যাংক পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) চেয়ারম্যান। বাংলাদেশ সরকারের ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়নের বিশেষজ্ঞ দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। বোস্টন ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি অর্জন করেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি অব আমেরিকা, বোস্টন ইউনিভার্সিটি ও ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটসে অর্থনীতি পড়িয়েছেন। এছাড়া বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। দেশের তৈরি পোশাক, বৈদেশিক বাণিজ্য, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, বাণিজ্যনীতিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সম্প্রতি কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাবিদিন ইব্রাহিম
তৈরি পোশাক খাতই আমাদের মোট রফতানির ৮০-৮৪ শতাংশ। একটা খাতের ওপর অতিনির্ভরতার ঝুঁকি কী দেখছেন?
একটা শিল্পে অতিনির্ভরতার অনেক ঝুঁকি রয়েছে। গার্মেন্ট শিল্পে বাংলাদেশের উন্নতি হয়েছে ঠিকই কিন্তু এই একটা শিল্পের ওপর নির্ভর করে। এখানে বলা উচিৎ যে একটা শিল্প মানে কিন্তু একটা প্রডাক্ট নয়। এর সঙ্গে কিন্তু ২১৬টি গার্মেন্ট পণ্য রফতানি করি। শার্ট একটি প্রডাক্ট, প্যান্ট একটি প্রডাক্ট, কোট একটি প্রডাক্ট। এভাবে পণ্য কিন্তু ২১৬টি আছে। এটি সত্য যে একটি প্রডাক্ট গ্রুপের ওপর নির্ভর করে আছি। বিষয়টিকে দুভাবে দেখতে হবে। প্রথমত, কাপড়ের চাহিদা কমে যাবে ভবিষ্যতে এমন কোনো ঝুঁকি নেই। এ শিল্পের ঝুঁকির জায়গা সেখানে নয়। শ্রমঘন শিল্প হিসেবে এখানে আমাদের কিছু সুবিধা আছে। কিন্তু এটা যখন শ্রমঘন থাকবে না তখন অনেক ঝুঁকি আসবে। যদি কাপড় শিল্প সব মেশিন ইনটেনসিভ, ক্যাপিটাল ইনটেনসিভ বা টেকনোলজি ইনটেনসিভ হয়ে যায় তখন তো আমরা সমস্যায় পড়ে যাব। এখন তো তৈরি পোশাক শিল্পে রোবটিকস চলে এসেছে। গাড়ি তৈরির বেশির ভাগই তৈরি হচ্ছে আজকাল একদম রোবট দিয়ে। পোশাক শিল্পেও যদি হয়ে যায়, তখন কিন্তু এ শ্রমঘন উৎপাদনে আমাদের কোনো সুবিধা হবে না। এটাই এ শিল্পের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। এখন যা শ্রমঘন শিল্প তা যদি প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে যায় কিংবা ক্যাপিটাল (মূলধন) ইনটেনসিভ হয়ে যায়, তখন আমাদের তুলনামূলক সুবিধা থাকবে কি? সেখানে আশাবাদের জায়গা হলো, আমাদের আজকালকার যে উদ্যোক্তা আছেন তারা কিন্তু প্রথম প্রজন্মের উদ্যোক্তা। তারা বাপ-দাদাদের কাছ থেকে ব্যবসা উত্তরাধিকার সূত্রে পাননি। তারা অনেক কর্মঠ ও উচ্চাভিলাষী। তারা দেখছেন পৃথিবীর ফ্যাশনগুলো কীভাবে পরিবর্তন হচ্ছে। আমাদের পোশাক রফতানির সিংহভাগই কটন বেজড (তুলায় তৈরি)। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে ম্যান-মেড ফাইবার প্রচলন হয়ে গেছে। যেসব ফাইবার সরাসরি প্রকৃতি থেকে প্রাপ্ত নয় অথবা সম্পূর্ণরূপে পরীক্ষাগারে নির্মিত তাদের ম্যান-মেড ফাইবার বা কৃত্রিম ফাইবার বলে। এখন যত স্পোর্টসওয়্যার আছে সব ম্যান-মেড ফাইবার। তাই সেখানে আমাদের যেতে হবে। আমাদের উদ্যোক্তারা সেদিকে খেয়াল রাখছেন। সুতরাং আশা করা যাচ্ছে ম্যান-মেড ফাইবারে নতুন বিনিয়োগ হবে।
ম্যান-মেড ফাইবারে গেলে আমাদের বিদ্যমান শিল্প কাঠামোয় পরিবর্তন আসবে, মেশিনারিজে কেমন পরিবর্তন আনতে হবে?
ম্যান-মেড ফাইবারভিত্তিক শিল্প কটনভিত্তিক শিল্পের চেয়ে বেশি ক্যাপিটাল ইনটেনসিভ। যেটা বলছিলাম, বর্তমানে যে শ্রমঘন শিল্প তৈরি পোশাক রয়েছে তা যদি ক্যাপিটাল ইনটেনসিভ শিল্প হয়ে যায় তখন আমরা সস্তা শ্রমের সুবিধা পাব না। তখন বড় বড় মেশিন লাগবে এবং সেসব মেশিনারি পরিচালনার জন্য দক্ষ কর্মী লাগবে। আমরা এখনই দেখছি, কাপড় এবং ইয়ার্ন তৈরির মিলগুলোয় বড় বড় মেশিনারিজ ব্যবহার হচ্ছে। কাপড় বা গার্মেন্ট কিন্তু খুব কম জায়গায় হয়ে যায়। এখন বড় বড় রফতানিকারক আছেন, যাদের কারখানা পাঁচ-দশ তলা। আগে কিন্তু এগুলো খুব ছোট ছিল। গার্মেন্ট শিল্প একটা শ্রমঘন শিল্প। কিন্তু কটন বেজড শিল্প থেকে যদি আমরা ম্যান-মেড ফাইবারে যাই—ওটায় একটু মূলধন বেশি লাগবে। সেখানে আমাদের প্রতিযোগিতা থাকবে কিনা সেটা নির্ভর করবে আমাদের ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টরের ওপর। ওরা সহজে কম সুদে যাতে ঋণ পায় সে ব্যবস্থা থাকতে হবে। আমাদের মাথায় রাখতে হবে প্রযুক্তির কথা; আমরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জগতে প্রবেশ করে ফেলেছি। প্রথম প্রজন্মের উদ্যোক্তা হিসেবে আমাদের উদ্যোক্তারা প্রয়োজনীয় পরিবর্তনগুলো নিয়ে আসবেন বলে আশা করছি।
তৈরি পোশাক শিল্পে একসময় সিংহভাগ কাঁচামালই আমদানি করতে হতো। এখন কাঁচামাল সরবরাহে এ খাত কতটুকু স্বনির্ভর হতে পেরেছে?
খুব ভালো প্রশ্ন। আমরা দেখেছি, এখানে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি সিস্টেমে আমদানি হয় এসব পণ্য। আশির দশকে যেখানে শতকরা ৯০ ভাগ কাঁচামাল আমদানি হতো, এখন সেখানে শতকরা ৫০ ভাগ আমদানি হচ্ছে। যেমন নিটওয়্যার শিল্প। আমাদের গার্মেন্ট রফতানিতে নিটওয়্যারের অবদান ৫৫ ভাগ এবং ওভেন গার্মেন্টের অবদান ৪৫ ভাগ। নিটওয়্যারে আমরা ৮৫ শতাংশ কাঁচামাল দেশীয় উৎস থেকে সংগ্রহ করি। তার মানে, আমাদের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ইন্ডাস্ট্রি অনেক বড় হয়েছে। এটা একটা সফল ব্যাপার বৈকি। তার অর্থ এই যে ভবিষ্যতে আমাদের বিভিন্ন জায়গায় যেতে হবে না। দেশীয় উৎপাদন হচ্ছে এবং এখান থেকেই সোর্সিং করা যাবে। সেটা একটা বড় সুযোগ। দেশীয় উৎস থেকে কাঁচামাল সংগ্রহে সময় ও অর্থ সাশ্রয় হয় এবং দেশের টাকা দেশেই থাকে। এ কারণে গার্মেন্ট শিল্প অনেক প্রতিযোগিতামূলক।
অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনতে আমাদের কোন কোন শিল্পে মনোযোগ দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন?
এ প্রশ্নটা আমাকে অনেকেই করে থাকে যে আর কী কী শিল্পে বৈচিত্র্য আনা যায়। সরকার বা বিশ্বব্যাংক মাঝে মাঝে বলে দেয়, আমরা যেন বৈচিত্র্য আনি। আমরা যেন লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং, প্লাস্টিক শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে মনোযোগ দিই। অর্থাৎ যেসব পণ্য অল্পবিস্তর রফতানি হচ্ছে তা যেন আরো সম্প্রসারণ করা যায় এ পরামর্শই দিচ্ছে তারা। কিন্তু এ দৃষ্টিভঙ্গিটা পুরোপুরি সঠিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে নেই। আমরা আসলে কোন খাতে ভালো করতে পারব এটা আগেভাগে বলে দিতে পারি না। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে আমরা যখন গার্মেন্ট শিল্পে প্রবেশ করলাম তখন কিন্তু এটা আমাদের আস্থাজাগানিয়া খাত ছিল না। আশির দশকে কেউ ভাবতেই পারেনি বাংলাদেশ গার্মেন্ট শিল্পে বিরাট অবদান রাখবে।
আমি যেটা প্রয়োজনীয় মনে করি তা হলো সঠিক পলিসি নিয়ে এগিয়ে যাওয়া। বাণিজ্য নীতিটা ঠিক করতে হবে। কারণ আমাদের নীতির মধ্যে অনেক গলদ আছে। গার্মেন্ট থেকে নন-গার্মেন্ট পণ্য রফতানিতে যেতে হলে আমাদের বাণিজ্যনীতিতে অনেক পরিবর্তন আনতে হবে। আমাদের যে বাণিজ্যনীতি আছে তা হলো রক্ষণমূলক নীতি। আমাদের বিদ্যমান শুল্ক সংরক্ষণ নীতি বৈদেশিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে বড় একটা বাধা। আমি আপনাকে ৫০টি পণ্যের নাম বলতে পারি যা রফতানির বেশ ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু গলদটা হচ্ছে বাণিজ্যনীতির। আমরা অল্পবিস্তর করে দেড় হাজার পণ্য রফতানি করি। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি পণ্যের রফতানি বৃদ্ধি আহামরি কঠিন নয়। আমদানি-রফতানির ক্ষেত্রে প্রণোদনা সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত। দেখা গেছে, বর্তমানে দেশীয় বাজারে পণ্য বিক্রির প্রণোদনাটা বেশি। সেজন্য নন-গার্মেন্ট খাত রফতানির দিকে ধাবিত হচ্ছে না। অর্থাৎ তারা নন-গার্মেন্ট সেক্টরের দিকে যাচ্ছে না। গার্মেন্টই একেবারে শ্রমঘন পণ্য নয়, আমাদের হাজারো শ্রমঘন পণ্য আছে। যেমন খেলনা শিল্পে বাংলাদেশ খুব ভালো করতে পারবে।
চীন খেলনা শিল্পে মনোযোগ কিছুটা কমাতে চাচ্ছে বলে আলোচনা শোনা যাচ্ছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ কীভাবে সুবিধা নিতে পারে?
চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় খেলনা রফতানিকারক। খেলনা তৈরি করে বিক্রিতে দেশীয় বাজারে মুনাফা অনেক বেশি। কারণ এতে উচ্চ শুল্ক রয়েছে। প্লাস্টিকে তৈরি খেলনায় বড় অংকের বাণিজ্য শুল্ক দিয়ে রেখেছেন। একই জিনিস দেখা যাচ্ছে মেলামাইন ও সিরামিক পণ্যে। শিল্প ক্ষেত্রে একটি কথা মনে রাখতে হবে, সব কাঁচামাল কিন্তু দেশে থাকে না। তাঁত শিল্পে সব কাঁচামাল কিন্তু আমাদের দেশে ছিল। অন্যান্য শিল্পে কাঁচামাল কিন্তু দেশে ছিল না। এগুলো আমদানি করতে হয়। আমদানি করে এটাকে একটা পণ্য হিসেবে তৈরি করার পর সেগুলো রফতানি করা হয়। আমদানি যদি অনেক শুল্ক দিয়ে করতে হয় তাহলে পণ্য উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়। ফলে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে রফতানি করা কঠিন।
আমরা কোন কোন খাতে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারি?
আমরা যে রফতানি বৈচিত্র্যকরণের কথা বলছি এখানেও কিন্তু বৈদেশিক বিনিয়োগের কথা আছে। বৈদেশিক বিনিয়োগকারীরা কিন্তু চ্যারিটি করতে আসে না। কোনো বিদেশী বিনিয়োগকারী যদি বাংলাদেশে ১০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করেন তাহলে তার লক্ষ্য থাকবে তিন থেকে পাঁচ বছরে মূলধন তুলে নিতে এবং লাভ করতে। তারা বিনিয়োগ করলে মুনাফার জন্যই করবে। আমাদের দৃষ্টি দেয়া উচিত রফতানিমুখী বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা। রফতানিমুখী বৈদেশিক বিনিয়োগ কত ডলার এল তা ব্যাপার নয়। মূল ফোকাস থাকা উচিত, আমরা কেমন কর্মসংস্থান করতে পারি। বৈদেশিক বিনিয়োগের সঙ্গে সঙ্গে কিন্তু আসে উন্নততর প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনা। এতে আমাদের নতুন নতুন শিল্প খাত ডেভেলপ করে। ধরুন, আমরা বলছি জুতা শিল্পে আমাদের প্রভূত সম্ভাবনা। এখানে যদি বিদেশী বিনিয়োগ আসে তাহলে সেখানে আধুনিক প্রযুক্তি ও সক্ষমতা নিয়ে আসবে। প্লাস্টিকের পণ্য যদি তারা তৈরি করে তাহলে নতুন প্রযুক্তি দিয়ে করবে।
প্রযুক্তি, ব্যবস্থাপনা (ম্যানেজমেন্ট) ও মূলধন বিনিয়োগ—এ তিনটি মিলে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা যেখানে বেশি সে রকম বৈদেশিক বিনিয়োগ আমাদের প্রয়োজন। রফতানিমুখী বিনিয়োগে আমাদের উৎসাহ দেয়া উচিত। শুধু এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন বা ইপিজেডে নয়, বরং এর বাইরে বৈদেশিক বিনিয়োগ আনতে হবে। আমাদের এখানে বৈদেশিক বিনিয়োগের একটা বড় অংশ আসে দেশীয় বাজারে বিনিয়োগ করার জন্য। যেমন স্যামসাং বাংলাদেশে স্মার্টফোন ও টিভি তৈরি করছে। স্থানীয় বাজারে শুল্ক বেশি থাকায় তাদের মুনাফা বেশি হয়। কিন্তু স্যামসাং যদি বাংলাদেশে পণ্য তৈরি করে রফতানি করত তাহলে আমাদের এখানে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতো। কারখানার আকার হয়তো আরো ১০ গুণ বাড়ত।
আমরা কেন স্যামসাং, অ্যাপল ও এলজির মতো বড় কোম্পানিকে বাংলাদেশে আকৃষ্ট করতে পারছি না? ভারত ও ভিয়েতনামের মতো দেশ যেখানে বেশ এগিয়ে যাচ্ছে।
বৃহৎ কোম্পানি আকৃষ্ট না হওয়ার বড় একটি কারণ হচ্ছে আমাদের লিগ্যাল সিস্টেম। প্রলম্বিত ও ত্রুটিপূর্ণ আইনি ব্যবস্থায় বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের ভরসা খুব কম। আরেকটি সমস্যা হলো আমাদের বাণিজ্যনীতি। আমাদের যে আমদানি-রফতানি নীতি রয়েছে তা বড় আকারে রক্ষণশীল। বিদেশী বিনিয়োগকারীরা উদার বাণিজ্যনীতি চায়।
আমাদের বাণিজ্যনীতিতে কী কী সংস্কার জরুরি বলে মনে করেন?
ওই যে বললাম, এক নম্বর হলো বাণিজ্যনীতিকে আরো উদার করতে হবে। আমাদের যে বাণিজ্যনীতি তা হলো মধ্যযুগের বাণিজ্যনীতি। এ নীতি দিয়ে খুব একটা এগোনো যায় না। যতই রোড শো করি, যতই তাদের তোষামোদ করি, তারা আসবে না। তারা হিসাব করে দেখে—আইনি ব্যবস্থা ঠিক আছে কিনা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আছে কিনা এবং বাণিজ্য ব্যবস্থাটা ঠিক আছে কিনা। আমরা আমাদের বাণিজ্য ব্যবস্থাই তো ঠিক করতে পারিনি। তারা যদি দেখে বিনিয়োগে অনেক ঝুঁকি আছে তাহলে তারা কেন আসবে? এসঅ্যান্ডপি, মুডি’স ও ফিচ রেটিংয়ে আমাদের ঋণমানের অবনমন হয়েছে। এতেও বৈদেশিক বিনিয়োগকারীরা আস্থা পাচ্ছেন না। বাংলাদেশে প্রতি বছর ৪ বিলিয়ন ডলারের মতো বৈদেশিক বিনিয়োগ আসে যা দেশের মোট জাতীয় উৎপাদনের ১ শতাংশেরও কম। ভারতে তো অনেক বেশি, পাকিস্তানে এর চেয়ে বেশি যাচ্ছে। এমনকি যুদ্ধবিধ্বস্ত মিয়ানমারেও আমাদের চেয়ে বেশি বৈদেশিক বিনিয়োগ আসছে। বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করার ব্যাপারে আমরা কিন্তু পিছিয়ে আছি। এটার কিছু করা উচিত।










