ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় গণহত্যা বন্ধে ব্যবস্থা নিতে ইসরায়েলের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)। দক্ষিণ আফ্রিকার করা মামলায় গত ২৬ জানুয়ারি এ আদেশ দেন নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে অবস্থিত এ আদালত। তবে গণহত্যা বন্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বললেও গাজায় অভিযান থামানোর বিষয়ে রায়ে কিছু বলা হয়নি। আইসিজের আদেশের পর ইসরায়েল কী পদক্ষেপ নিয়েছে এক মাসের মধ্যে তা আদালতকে অবহিত করতে বলা হয়েছে। রায়ে বলা হয়, গাজায় গণহত্যা ঠেকাতে ইসরায়েলকে তার সাধ্যমতো সব ব্যবস্থা নিতে হবে। এটা নিশ্চিত করতে হবে যে তাদের সেনারা যেন গণহত্যার মতো কিছু না ঘটায়। অঞ্চলটির মানবিক পরিস্থিতির উন্নয়নে তেল আবিবকে উদ্যোগী হতে হবে।
অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডটিতে ইসরায়েল গণহত্যা চালিয়েছে কিনা এ বিষয়ে আদেশে কিছু বলা হয়নি। তবে গণহত্যা থেকে সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার গাজাবাসীর রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন বিচারকরা। একই সঙ্গে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলটিতে মানবিক সহায়তা পৌঁছার সুযোগ দিতে তেল আবিবের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন তারা।
১০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে গাজার ওপর ইসরায়েলের দীর্ঘ গণহত্যার যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যকে মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছে। বৈরুতের আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট ফেলো রামি জি খুরি, ওয়াশিংটনের ভূমিকাকে একটি প্রতারণা, অসত্য, অসততা, বিকৃত ও বিভ্রান্তি হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে তা এ অঞ্চলের জন্য বিপর্যয়কর বলে পরিণতি মনে করা হচ্ছে। গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে এক অভিযান চালায় হামাস। এতে ১ হাজার ২০০ জনকে হত্যা ও ২৪০ জনকে জিম্মি করে হামাস বাহিনী। এর পাল্টা জবাবে হামাসকে নিশ্চিহ্ন করতে গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল।
গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে কমপক্ষে ২৫ হাজার ১০০ নিহত ও ৬০ হাজারেরও বেশি আহত হয়েছে। এদের মধ্যে প্রায় ১০ হাজারের বেশি শিশু ও নারী। তবে বিজয় না হওয়া পর্যন্ত হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনয়ামিন নেতানিয়াহু। অক্টোবরের শেষে ইসরায়েল স্থল অভিযান শুরু করে। ইসরায়েলের এ স্থল ও বিমান হামলায় গাজার ২৩ লাখ জনসংখ্যার ৮৫ শতাংশের বেশি বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং এতে গাজা ভূখণ্ডের বিশাল অংশ মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়া হয়েছে।
১১ ও ১২ জানুয়ারি হেগে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক বিচারালয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গাজায় গণহত্যার অপরাধ প্রতিরোধ ও শাস্তিসংক্রান্ত কনভেনশনের প্রয়োগ চেয়ে মামলা দায়ের করে এবং তার শুনানি শুরু হয়। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে নেদারল্যান্ডসে নিযুক্ত দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রদূত ভুসিমুজি ম্যাডোনসেলা এবং নেদারল্যান্ডসে দক্ষিণ আফ্রিকার দূতাবাসের লিগ্যাল কাউন্সিল কর্নেলিয়াস শোল্টজ ছিলেন।
অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ইসরায়েলের বিচার মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক আইনের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল গিলাড নোয়াম, ইসরায়েলের পররাষ্ট্র-বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন উপদেষ্টা তাল বেকার এবং প্রধান উপ-আইন উপদেষ্টা তামার কাপলান টুর্গেম্যান।
গণহত্যার অপরাধ প্রতিরোধ ও শাস্তি-সংক্রান্ত কনভেনশনের একটি রাষ্ট্রপক্ষ হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতকে অনুরোধ জানিয়েছে, যেন যত দ্রুত সম্ভব ‘প্রভিশনাল মেজারস’ ব্যবহার করে আদালত ইসরায়েলকে থামান। মূলত ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে এ জরুরি আদেশ দিয়ে আগেভাগেই ধ্বংসলীলা থামিয়ে দেয়া যায়। এক্ষেত্রে ফিলিস্তিনিদের নিরাপত্তার জন্য জেনোসাইড কনভেনশনের লঙ্ঘনকারী ইসরায়েল যেন দায়মুক্তি না পায়, সেটিও দক্ষিণ আফ্রিকা চেয়েছে।
শুনানিতে দক্ষিণ আফ্রিকা আইসিজের কাছে যে আরজি রেখেছিল সেগুলো হচ্ছে:
১. ইসরায়েল অনতিবিলম্বে গাজার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান স্থগিত করবে।
২. ইসরায়েলের নির্দেশিত, সমর্থিত বা প্রভাবিত কোনো সামরিক বা অনিয়মিত সশস্ত্র বাহিনী, সেই সঙ্গে তার নিয়ন্ত্রিত, নির্দেশিত বা প্রভাবিত কোনো সংস্থা ও ব্যক্তি গাজায় সামরিক অভিযান পরিচালনা করবে না তা নিশ্চিত করবে।
৩. গণহত্যার কনভেনশন অনুযায়ী, ফিলিস্তিনে গণহত্যা প্রতিরোধে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইসরায়েল প্রত্যেকে তাদের ক্ষমতাধীন যুক্তিসংগত ব্যবস্থা নেবে।
৪. কোনো গোষ্ঠীর সদস্যকে হত্যা, মারাত্মকভাবে শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি ঘটানো, সম্পূর্ণ বা আংশিক শারীরিক পরিকল্পিত ক্ষয়ক্ষতি এবং শিশু জন্মদানে বাধা প্রদান থেকে বিরত রাখা।
৫. ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ ও নির্বাসনে বাধ্য করা থেকে বিরত থাকা, পর্যাপ্ত খাবার ও পানির সরবরাহ ঠিক রাখা, পর্যাপ্ত জ্বালানি, আশ্রয়, পোশাক, স্বাস্থ্য ও পয়োনিষ্কাশন এবং চিকিৎসা সরবরাহ ও সহায়তা সুবিধা প্রদান এবং গাজায় ফিলিস্তিনিদের ধ্বংস না করা
৬. ফিলিস্তিনিদের ক্ষেত্রে ইসরায়েল রাষ্ট্র নিশ্চিত করবে যে ওপরে উল্লেখিত ৪ ও ৫ ধারায় বর্ণিত গণহত্যা, গণহত্যার ষড়যন্ত্র, গণহত্যার চেষ্টা বা গণহত্যায় সরাসরি জড়িত হবে না এবং জনসাধারণকে উসকাবে না।
৭. ইসরায়েলকে গাজায় ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং গণহত্যা সম্পর্কিত অভিযোগের প্রমাণাদি সংরক্ষণের বিষয়ে নিশ্চিত করতে হবে। ইসরায়েল ফ্যাক্টস ফাইন্ডিংস মিশন, আন্তর্জাতিক আদেশ এবং অন্য সংস্থার গাজাকে সহায়তা প্রদানে ও তথ্যপ্রমাণ সংরক্ষণে তাদের প্রবেশাধিকারে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে না।
৮. ইসরায়েলকে আদেশের দিন থেকে এক সপ্তাহের মধ্যে গৃহীত সব পদক্ষেপের বিষয়ে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। আদালত এ মামলার চূড়ান্ত রায়ের আগ পর্যন্ত নিয়মিত অন্তর্বর্তী আদেশ দেবে এবং আদালত কর্তৃক সেই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।
৯. ইসরায়েল এমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করবে না বা পদক্ষেপ নেবে না যা আদালতের সামনে বিবাদকে বৃদ্ধি বা প্রসারিত করতে পারে বা তা সমাধান করা আরো কঠিন করতে পারে।
তবে এ বিষয়ে ইসরায়েল পর্যবেক্ষণ করেছে যে আদালতের বিধিগুলোর অনুচ্ছেদ ৬০ -এর ২-অনুসারে ২০২৪ সালের ১২ জানুয়ারি শুনানির সময় প্রদত্ত কারণগুলো এবং অন্য যেকোনো কারণ যেগুলোকে আদালত যথাযথ বলে মনে করেন। ইসরায়েল দক্ষিণ আফ্রিকা কর্তৃক অস্থায়ী ব্যবস্থার ইঙ্গিত প্রত্যাখ্যান করতে ও সাধারণ তালিকা থেকে মামলাটি সরিয়ে নিতে অনুরোধ করেন। নেতানিয়াহু তখন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালাচ্ছে এমন অভিযোগে তারা নিবৃত্ত হবে না। কেউ তাদের অভিযান থামাতে পারবে না; হোক সেটা দ্য হ্যাগ, অ্যাকসিস অব ইভিল (শয়তানের চক্র) বা অন্য কেউ।
লেবানন থেকে ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহ জঙ্গিরা ইসরায়েলের ওপর গুলি চালাচ্ছে এবং হামাসের সমর্থনে হুথি জঙ্গিরা লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালাচ্ছে। দ্য হেগে আন্তর্জাতিক আদালতে শুনানির দুদিন পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আদালতে দক্ষিণ আফ্রিকা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ এনেছে। তবে ইসরায়েল এ অভিযোগকে অবমাননাকর এবং ভণ্ডামি হিসেবে অভিহিত করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে।’
ইসরায়েল বলছে, ‘৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলের সেনাঘাঁটি এবং আশপাশের গ্রামগুলোয় হামাস আক্রমণ করে, শত শত ইসরায়েলিকে বন্দি করে নিয়ে যায়, যা গাজা যুদ্ধের সূচনা করেছিল এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে। ইসরায়েলি দলের আইনজীবী টেল বেকার আদালতকে বলেছেন যে গণহত্যার কনভেনশনটি হলোকাস্টে ইহুদিদের গণহত্যার পর তৈরি করা হয়েছিল এবং ‘আর কখনো নয়’—এ বাক্যাংশটি ইসরায়েলের জন্য সর্বোচ্চ নৈতিক বাধ্যবাধকতাগুলোর মধ্যে একটি। ইসরায়েলের আক্রমণের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তী আদেশের বিষয়ে অনুরোধ করে বেকার বলেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকা গাজা সীমান্তের নিকটবর্তী সম্প্রদায়গুলোর কাছ থেকে ৭ অক্টোবরের হামলার পর বন্দিদের এবং বাস্তুচ্যুত ইসরায়েলিদের প্রতি কর্তব্য পালনের সুযোগকে অস্বীকার করার চেষ্টা করছে।’
গাজা ইস্যুতে বাংলাদেশ তার অবস্থান স্পষ্ট করে আন্তর্জাতিক আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার মামলার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুনর্ব্যক্ত করেছে যে ফিলিস্তিন অধিকৃত গাজায় ইসরায়েল ১৯৪৮ সালের গণহত্যা কনভেনশনটি লঙ্ঘন করেছে।
বাংলাদেশ দক্ষিণ আফ্রিকার অস্থায়ী পদক্ষেপের আবেদনকেও সমর্থন করেছে, যেখানে গাজার অভ্যন্তরে ও তার বিরুদ্ধে সব সামরিক অভিযান স্থগিত এবং নিরাপদ, পর্যাপ্ত ও বাধাহীনভাবে মানবিক কার্যক্রম পরিচালনার কথা বলা হয়েছে। গাজায় মানবিক বিপর্যয়ের অবসান ঘটাতে অস্থায়ী পদক্ষেপের অনুরোধের মধ্যে প্রয়োজনীয় এবং সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ উভয়ই ছিল। এটিও উল্লেখ করা হয়েছে যে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর চলমান হামলায় হাজার হাজার নির্দোষ ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকের প্রাণহানি ঘটেছে, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। বাংলাদেশ বলেছে যে তাদের ইচ্ছাকৃত আগ্রাসনের এ কাজগুলো গণহত্যা কনভেনশন ও মানবাধিকারসহ আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট অবজ্ঞা এবং লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত। কনভেনশনের একটি রাষ্ট্রীয় পক্ষ হিসেবে গণহত্যার অপরাধ প্রতিরোধ ও শাস্তি দিতে গণহত্যা কনভেনশনের অধীনে আইনগত বাধ্যবাধকতার প্রতি সম্মান জানাতে সব রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। বাংলাদেশ গাজায় অতিদ্রুত যুদ্ধবিরতি এবং জীবন রক্ষা করতে দ্রুত, নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন সহায়তার পুনরায় আহ্বান জানায়। ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের অবসান ও পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে ১৯৬৭ সালের পূর্ব সীমানায় একটি সার্বভৌম ও স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠায় একটি স্থায়ী সমাধানের আহ্বান জানায়।
এ প্রসঙ্গে পুনর্ব্যক্ত করা উপযুক্ত হবে যে পুরো মামলাটি শুনানির পর যদি আদালত দেখতে পায় যে ইসরায়েল গণহত্যা করছে, তাহলে কেবল ইসরায়েলকেই নয়, বিশ্বের সব দেশকেই গণহত্যা বন্ধে পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করবে।
প্রথমত, আন্তর্জাতিক আদালত অনুসারে, জাতিসংঘের প্রতি সদস্য দেশকে আন্তর্জাতিক আদালতের সিদ্ধান্তকে মেনে নিতে হয়।
যদি তারা মেনে না চলে তবে অন্য পক্ষটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে যেতে পারে, তখন নিরপাত্তা পরিষদ আদালতের রায়কে কার্যকর করতে পদক্ষেপ নিতে পারে। অবশ্যই, এটা ইসরায়েলের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ, ইসরায়েলকে বয়কট ও অনুমোদন এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে পারে।
তবে এটা দুর্ভাগ্যজনক, যুক্তরাষ্ট্র যদিও মনে করছে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ছাড়া সংকট নিরসন সম্ভব নয়, কিন্তু গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু দুই রাষ্ট্র বন্দোবস্তকে বারবার প্রত্যাখ্যান করছেন।
মোহাম্মদ জমির: সাবেক রাষ্ট্রদূত; বৈদেশিক সম্পর্ক, তথ্য অধিকার ও সুশাসনবিষয়ক বিশ্লেষক










