কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্ট সুসি গ্লোবাল স্কলার ২০২৩ ছিলেন (আমেরিকান পলিটিকস অ্যান্ড পলিটিক্যাল থট)। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ব্যবস্থা, বিশেষ করে গণতান্ত্রিক ও কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছেন। ২০১৯-২৪ সাল পর্যন্ত ছয় বছর ধরে টানা তিনি বিখ্যাত মিডওয়েস্ট পলিটিক্যাল সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন কনফারেন্সে (শিকাগো) জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে বক্তব্য দিয়ে আসছেন। সম্প্রতি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন বণিক বার্তায়। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাবিদিন ইব্রাহিম
এক দশকের বেশি সময় ধরে দক্ষিণ এশিয়ার একাধিক দেশসহ আফ্রিকার কিছু দেশে আমরা এক ধরনের কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রত্যক্ষ করেছি। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় শ্রীলংকা, মালদ্বীপ, নেপাল কিংবা বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় কি মনে হয় দেশগুলো গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠার দিকে এগোচ্ছে?
গণতন্ত্রের ধারণা বারবার পরিবর্তন হয়েছে। স্নায়ুযুদ্ধের পতনের পর ফুকোয়ামা তার ‘এন্ড অব হিস্ট্রি অ্যান্ড দ্য লাস্ট ম্যান’ গ্রন্থ দিয়ে গণতন্ত্রই শেষ কথা বলা শুরু করলেও ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে তার অবস্থান পরিবর্তন করেছেন। কর্তৃত্ববাদ আসছে-যাচ্ছে, আবার গণতন্ত্র আসছে-যাচ্ছে; অর্থাৎ একবার কর্তৃত্ববাদ একবার গণতন্ত্র এ ব্যাপারটা তিনি বিভিন্ন পর্যায়ে স্বীকার করার চেষ্টা করছেন যে গণতন্ত্র যেমন ফিরে আসছে তেমনি কর্তৃত্ববাদও বড় হচ্ছে।
বিশেষ করে নাইন-ইলেভেনের পর সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের কারণে জাতীয়তাবাদী শক্তিগুলো পশ্চিমাদের কাছ থেকে এক ধরনের সুবিধা পেয়েছে। এ সুবিধার ফলে তারা পশ্চিমাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে কাউকে সন্ত্রাসবাদী বলে আবার কাউকে জঙ্গি বলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া থেকে বিযুক্ত রাখতে পেরেছে। কার্যত আল্ট্রা জাতীয়তাবাদীদের একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম হয়ে গিয়েছিল এবং এ সুযোগের মাধ্যমে তারা ক্ষমতায় থেকেছে এবং সেই ক্ষমতাকে স্থায়ী করার চেষ্টা করেছে।
এটা বুঝতে পশ্চিমাদের সময় লেগে গেল। তারপর বাইডেন ক্ষমতায় আসার পর দেখা গেল যে তিনি গণতন্ত্রের ওপর একাধিক সম্মেলন করেছেন। এ সম্মেলনের ফলে সারা বিশ্বে যে বার্তা পৌঁছেছে, অনেকেই ভেবেছিলেন সেগুলো দুর্বল হবে বিভিন্ন যুদ্ধে বাইডেনের সম্পৃক্ততার কারণে। এখন দেখা যাচ্ছে যে সে রকমটা নয়। এটার একটা প্রভাব আসলেই পড়েছে এবং কর্তৃত্ববাদীদের বিদায় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে হচ্ছে। শুধু দক্ষিণ এশিয়াতেই নয়। এখানে তো স্পষ্টত দেখতেই পাচ্ছি এখন তিন-চারটি রাষ্ট্র গণতন্ত্রের পথে গেছে। তাছাড়া আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকার রাষ্ট্রগুলোয়ও সেই প্রভাব দেখা যাচ্ছে। চিলির মতো রাষ্ট্র যারা দীর্ঘদিন ধরে চরম কর্তৃত্বের মধ্যে ছিল তারা এখন সম্পূর্ণ গণতন্ত্রে প্রবেশ করেছে। আবার মরিশাসেও একই দৃশ্য।
সেজন্য এখন আমার মনে হয়, দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষেত্রেই যদি আমরা ফুকোয়ামাকে আবার নিয়ে আসি—যেহেতু তিনি গণতন্ত্র ও কর্তৃত্ববাদ নিয়ে ব্যাপক গবেষণা করেন—আবার ফরিদ জাকারিয়ার কাছে যাই অনুদার গণতন্ত্রের আলোকে বুঝতে, তাহলে দেখতে পাই সেগুলোর লাগামে কিন্তু এখন আবার টান পড়েছে। এখানকার মানুষ এখন বুঝতে পারছে কীভাবে জাতীয়তাবাদ বা উগ্র জাতীয়তাবাদের মধ্য দিয়ে কর্তৃত্ববাদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সেখান থেকে মানুষ ফিরে আসছে এবং গণতন্ত্রের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ কী গণতন্ত্রের দিকে ধাবিত হওয়ার যাত্রাটি উতরে যেতে পারবে?
বাংলাদেশে কয়েক বছর ধরে মিশ্র গণতন্ত্রের প্রচলন ছিল। সেটা বোঝার জন্য যেসব পরিমাপক নির্ধারণ করা হয় তার মধ্যে ডেমোক্রেটিক ইনডেক্স অন্যতম। এ সূচকের চারটি পর্যায় রয়েছে গণতন্ত্রের মান নির্ণয়ের জন্য, সেগুলো হলো পূর্ণ গণতন্ত্র, ত্রুটিপূর্ণ গণতন্ত্র, মিশ্র গণতন্ত্র ও স্বৈরতন্ত্র।
সূচক অনুসারে পৃথিবীর বেশির ভাগ দেশেই এখনো কর্তৃত্ববাদ বিদ্যমান। সেই জায়গা থেকে বাংলাদেশ মিশ্র গণতন্ত্রে অবস্থান করছিল। যদিও দেখা যাচ্ছে, পাকিস্তানে গত দুটি ইলেকশন হয়েছে তবুও কিন্তু তারা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্র। সেদিক থেকে গত তিনটি ইলেকশন গ্রহণযোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ মিশ্র গণতন্ত্রভুক্ত ছিল নানা প্রাতিষ্ঠানিক কারণে। আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো যেভাবে একটা গণতান্ত্রিক কাঠামোয় গঠিত, পাকিস্তানে সেটি হয়নি। এটা একটা কারণ। আরেকটা হলো, আমাদের দেশের মানুষের গণতন্ত্রের প্রতি এক ধরনের ঐতিহাসিক আগ্রহ রয়েছে, সেই ঔপনিবেশিক শাসনকাল থেকেই। এটার মধ্যে আজও ভাটা পড়েনি। আমরা সেই উদাহরণ বারবার দেখে আসছি যে দুদিন পর পর আমাদের গণতন্ত্র ছিনতাই হলেও আমরা গণতন্ত্র রক্ষা করার জন্য জাতিগতভাবে এগিয়ে আসি।
এ অবস্থায় অন্তর্বর্তী সরকারের সামনে এটা একটা বিরাট সুযোগ, যে জাতি বারবার গণতন্ত্র চাচ্ছে তাদের সামনে গণতন্ত্রের একটা বাতায়ন খুলে দেয়া। এ সুযোগ যদি এ সরকার মিস করে তাহলে সবাইকেই আবার দুর্ভোগ পোহাতে হবে।
বিগত সরকার পতনের পর ওই শাসনামলের সব মন্ত্রী, এমপি, স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচিত প্রতিনিধি সবাইকে পালাতে হয়েছে। একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হিসেবে এ পুরো দৃশ্যপটকে আপনি কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় বললে, কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রের একটি চ্যানেল থাকে। পতিত সরকারের কর্তৃত্ববাদী শাসন যখন তৈরি হয়, বিশেষত ২০০৯ থেকে ২০১৪ সালে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন, আমরা যারা পলিটিক্যাল রেজিম নিয়ে কাজ করি বা পররাষ্ট্রবিজ্ঞানের মৌলিক ইস্যু নিয়ে কাজ করি তারা তখনই ধারণা করেছিলাম যে এ সরকার একটা নির্বাচনী কর্তৃত্ববাদ বা নির্বাচনী স্বৈরাচারের পথে হাঁটছে। কিন্তু এটা যে কর্তৃত্ববাদী স্বৈরতন্ত্র সেটি ২০১১ থেকে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২০১৪-এর নির্বাচনে যে প্রক্রিয়া বা মডেল অনুসরণ করা হয়েছে সেটা পরবর্তীকালে আমরা বুঝতে পারলাম যে ইচ্ছাকৃতভাবে বিএনপিসহ অন্য বিরোধী দলগুলোকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না দেয়ার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। ২০১৮-তেও এটা পরিষ্কার ছিল, তখন মুখে বলাও হয়েছে। আবার ২০২৪-এ এসে সেটা সরাসরি করা হয়েছে।
সুতরাং এ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যে চ্যানেল তৈরি করা হয়েছে নিজেদের ক্ষমতায় রাখার জন্য, সেই চ্যানেলে তারা একে অন্যের ওপর নির্ভরশীল। এই যে কর্তৃত্ববাদী সরকারের মধ্যকার সিন্ডিকেটগুলোর যে নির্ভরশীলতা সেখানে একটা ব্যতীত অন্যের ভালো থাকার কোনো সুযোগ নেই। যখনই বড় অপরাধী পালায় তখন ছোট ছোট অপরাধীও স্বয়ংক্রিয়ভাবে পালিয়ে যায়। এটা আসলে একটি চেইনের ব্যাপার ছিল। যেই চেইনটা সরকারকে রক্ষা করেছে সেই চেইনটাই আবার পালিয়ে গেছে।
জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত দলটির ঐতিহাসিক মূল্যায়ন কীভাবে করবেন?
শুরু থেকেই অনেকেই মনে করেছেন যে আওয়ামী লীগের মধ্যে সহনশীলতার পরিমাণ, কাউকে নিজস্ব পরিসর দেয়ার পরিমাণ সেভাবে নেই। সেটার প্রমাণ আওয়ামী লীগ নিজেই বিভিন্ন সময়ে রেখেছে। চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনীতি করতে না দেয়ার প্রচেষ্টা আওয়ামী লীগ দল হিসেবেই করেছে। বাকশালকে আওয়ামী লীগের লোকজন পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে দরকার ছিল বলে মনে করলেও যেকোনো পরিস্থিতিতেই অন্য দলগুলোর রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নেয়ার সুযোগ নেই।
কিন্তু একই অবস্থা ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পরও দেখা গেছে যে গণভবনকে ধরে রাখাসহ অন্য আরো অনেকগুলো বিষয়কে কেন্দ্র করে মনে হয়েছে যে ক্ষমতা হস্তান্তরের সুযোগ তারা দেয়নি। আবার ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর আরো স্পষ্টভাবে দেখা গেল যে দলটি ক্ষমতা কোনোভাবেই ছাড়বে না। ২০০৮ সালের পর আওয়ামী লীগ এবং সরকার কাঠামো এমনভাবে একে অন্যের মধ্যে ঢুকে পড়েছিল যে একটি মিশ্র আওয়ামী কাঠামো বেশির ভাগ সময় সরকারকে পরিচালনা করেছে। তবে প্রকৃতপক্ষে যারা আওয়ামী সমর্থক ছিলেন তারা সরকার পরিচালনায় ছিলেন না বা তারা সেই সুযোগটা পাননি। না পাওয়ার ফলে একটি স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের বিকাশ ঘটেছিল ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর এবং সেই স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগই একটি পর্যায়ে চরম স্বৈরাচারী রূপ লাভ করে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনের ফলে।
দল হিসেবে নিকট ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের ভবিতব্য কী হতে পারে?
প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আমল থেকে শুরু করে বিএনপি তিন-চারবার ক্ষমতায় এসেছে কিন্তু তার পরও গত ১৫ বছরে তারা শাসন ক্ষমতা পায়নি। সেজন্য কী বিএনপির মধ্যে জঙ্গিবাদ জন্ম নিয়েছে বা তাদের রাজনৈতিক বন্দোবস্ত হয়নি? বিএনপি এক ধরনের সমঝোতার মধ্য দিয়ে গেছে। তারা মাঠে আওয়ামী কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে এবং ১৫ বছর পর সাফল্য পেয়েছে, সেটা যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই পাক না কেন। মিশনটা শুরু করেছে বিএনপি, বিরোধী দল হিসেবেই। সুতরাং বিএনপি যদি এ ১৫ বছরে কর্তৃত্ববাদী সরকারের অধীনে থেকে নতুনভাবে খাপ খাওয়ানোর মাধ্যমে জাতি গঠনে কাজ করে যেতে পারে এবং বারবার কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে কর্তৃত্ববাদকে হটাতে পারে তাহলে ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগও যদি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে একীভূত হয়ে সে অনুযায়ী কাজ করে তাহলে আলাদা করে আর অ্যাডজাস্টমেন্টের প্রয়োজন হবে না। বিশেষ করে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের যেসব লোক সত্যিকার অর্থে ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অপরাধ করেছে তাদের যদি সুষ্ঠু বিচার হয়, বিশেষত শহীদদের হত্যার বিচার যদি করা যায় তাহলে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায় বা জনগণ যদি তাদের গ্রহণ করতে চায় তাহলে সেটা তো রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ। এখানে রাষ্ট্রের কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার দরকার নেই।
বিভিন্ন মহল থেকে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবি উঠেছে। এখন বিচারিক প্রক্রিয়ায় যে নিষিদ্ধ বা রিকনসিলিয়েশনের কথা আসছে সে প্রক্রিয়াটা কীরূপ হতে পারে? এদের বিচার, অভিযোজন বা রাজনীতিতে পুনর্বাসনের প্রক্রিয়াটি কীভাবে হবে?
এর জন্য সবচেয়ে উত্তম উপায় হলো বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়া। রাষ্ট্র কর্তৃক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বিতর্ক সৃষ্টি করে, কারণ সেটি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয় না। যদি সত্যিকারের বিচার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দোষী লোকদের শাস্তি দেয়া যায়, এমনকি বিচার বা আদালত যদি দলকেও শাস্তিযোগ্য মনে করেন তাহলে সেটি বিচারিক প্রক্রিয়া থেকে আসুক, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত না হোক।
২০২৪ সালে অল্প সময়ের ব্যবধানে, বলা যায় পাঁচ-ছয়দিনের মধ্যে এক-দেড় হাজার মানুষকে মেরে ফেলা শুধু একটি সরকার পদত্যাগের আন্দোলনের জন্য, এমন নজির বিশ্বের আর কোনো দেশে নেই এবং এটি অতি দুঃখজনক ও মর্মান্তিক ঘটনা। সমাজের সব প্রকৃতির মানুষই এ আন্দোলনে আক্রমণের শিকার হয়েছে।
এ অবস্থায় আওয়ামী লীগের নিজের জন্যই পুনরুজ্জীবিত হওয়া বিশাল চ্যালেঞ্জের বিষয়। কারণ যদি ধরে নিই যে তাদের সমর্থক ১০ শতাংশ বা ২০ শতাংশ, তাহলেও তো বাকি ৮০ শতাংশ লোকের কাছে তাদের যেতে হবে। এত অল্প সময়ের মধ্যে এত লোক খুন করে, যারা সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর অন্তর্গত ছিল, তারপর দেশের ৮০ শতাংশ লোকের কাছে যাওয়ার চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আর কী হতে পারে? এজন্য আলাদা করে সরকারের আওয়ামী লীগকে চ্যালেঞ্জ করতে হবে না বলে আমি মনে করি।
আওয়ামী লীগের কর্তৃত্ববাদী হয়ে ওঠার পেছনে অন্য রাজনৈতিক দলগুলোরও দায় রয়েছে, যেমন জাতীয় পার্টি বা ১৪ দলীয় জোটের অন্তর্ভুক্ত অন্য বাম দল। তাদের কীভাবে জবাবদিহিতার আওতায় আনা যেতে পারে?
আওয়ামী লীগ যদি ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য দায়ী হয়ে থাকে তাহলে রাজনৈতিক দল হিসেবে জাতীয় পার্টির নেতাদেরও এই ফ্যাসিবাদী সরকার উত্থানের পেছনে কম দায় নেই। আমরা যারা রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে কাজ করি তারা কর্তৃত্ববাদের সিন্ডিকেট বা অথরিটারিয়ান কার্টেল কথা বলি। এই যে বাংলাদেশে কর্তৃত্ববাদী কার্টেল তৈরি হয়েছে, এর পেছনে শুধু জাতীয় পার্টির অংশগ্রহণই ছিল না, বরং তারা এই কার্টেলের জুরির এজেন্ট হিসেবেও কাজ করেছে। রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ স্বৈরাচারী বন্দোবস্ত করেছে, তবে সেই ব্যবস্থাকে জাস্টিফিকেশন দিয়ে কোনো ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে দেয়নি জাতীয় পার্টি, আবার সঙ্গে থেকে স্থায়িত্বও দিয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে বাম দলগুলোকে জাতীয় পার্টির মতো দায়ী মনে করি না, এখানে একমাত্র দায় জাতীয় পার্টিকে দেব আমি। জাতীয় পার্টি যেহেতু আগে সরকার গঠন করেছে এবং সেজন্য বিদেশীদের সঙ্গে সংযোগ থাকার কারণে এবং আগের নয় বছরের শাসনামলের কারণে তাদের এক ধরনের সম্পৃক্ততা ছিল। সুতরাং এ ফ্যাসিবাদী জাতীয় পার্টিকে যদি আটকানো না হয় তাহলে তারা সামনে আবার নতুন ফ্যাসিবাদীদের সহযোগিতা করবে।










