জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় বিনিয়োগই অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক—এ সত্য দুই দশক আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ২০০৬ সালে বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ নিকোলাস স্টার্ন ‘দি ইকোনমিকস অব ক্লাইমেট চেঞ্জ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে দেখান, জলবায়ু সংকটের ক্ষতি মোকাবেলায় ভবিষ্যতে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হবে, এখনই ব্যবস্থা নিলে তার চেয়ে অনেক কম খরচ হবে। তার বিশ্লেষণে তিনটি বিষয় উঠে আসে: জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় পদক্ষেপ না নেয়ার অর্থনৈতিক ক্ষতি পদক্ষেপ নেয়ার ব্যয়ের চেয়ে বেশি, এটি মূলত বাজার ব্যর্থতার ফল এবং গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমিয়েও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা সম্ভব।
স্টার্নের গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি ছিল, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জীবন ও কল্যাণের মূল্য বর্তমান প্রজন্মের চেয়ে কম নয়। অথচ প্রচলিত অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে ভবিষ্যতের ক্ষতিকে কম গুরুত্ব দেয়ার প্রবণতা রয়েছে। গত দুই দশকে তার বিশ্লেষণের যথার্থতা আরো স্পষ্ট হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের গতি ও অর্থনৈতিক ক্ষতি অতীতের অনুমানের চেয়েও বেশি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যয়ও প্রত্যাশার তুলনায় কমেছে। তবু অনেক সরকার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারী এখনো প্রচলিত প্রবৃদ্ধিকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক ধারণায় পরিচালিত হচ্ছে। জীববৈচিত্র্যের ক্ষয়, প্রাকৃতিক সম্পদের অবমূল্যায়ন ও জলবায়ু ঝুঁকিও যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না। টেকসই অর্থনীতি ও মানবসমাজের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে তাই প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রকৃত অর্থনৈতিক মূল্য বিবেচনায় নিয়ে অর্থনৈতিক কাঠামো পুনর্বিন্যাস জরুরি।
[দ্য গার্ডিয়ানের এক নিবন্ধে]
ফিওনা হার্ভি: আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমটির পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক










