জলবায়ু ও চরম আবহাওয়াজনিত কোনো দুর্যোগে পুরুষের তুলনায় নারীদের মৃত্যুর আশঙ্কা ১৪ গুণ বেশি। এর জন্য দায়ী তাদের সীমিত চলাচলের সুযোগ, তথ্য ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সীমিত প্রবেশাধিকার এবং স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সেবায় সীমিত সুযোগ। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, দুর্যোগ বা চরম জলবায়ু ঘটনার সময় নারীরা লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার ঊর্ধ্বগতি, তীব্র মানসিক চাপ, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যের অবনতিসহ নানা সমস্যার মুখোমুখি হন। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোয় এসব প্রভাব বিশেষভাবে তীব্র, যেখানে জলবায়ু সংকটের সঙ্গে স্বল্প সম্পদসম্পন্ন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং অন্যান্য বাহ্যিক বিষয় যেমন মানবিক সংকট ও দারিদ্র্য একত্রে কাজ করে। ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার মতো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোয় নারীরা প্রতিদিন জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতার মধ্য দিয়ে জীবন কাটাচ্ছেন।

ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার নারীদের নিয়ে পরিচালিত আমাদের গবেষণায় দেখা গেছে, নারীরা জলবায়ু ও স্বাস্থ্যবিষয়ক গবেষণার প্রতিটি পর্যায়ে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় জ্ঞান, বাস্তব অভিজ্ঞতা ও সামাজিক নেটওয়ার্ককে তারা গুরুত্বপূর্ণ অবদান হিসেবে তুলে ধরেছেন। তবে পারিবারিক বাধা, লিঙ্গবৈষম্য ও সহিংসতার আশঙ্কা তাদের অংশগ্রহণ সীমিত করে। নারীদের অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নিরাপদ পরিবেশ, শিশু পরিচর্যার ব্যবস্থা এবং স্থানীয় কমিউনিটির সঙ্গে আস্থাভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে তোলা জরুরি। জলবায়ু-স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়নেও নারীদের অভিজ্ঞতা ও অগ্রাধিকারকে গুরুত্ব দিতে হবে।

[দ্য ডিপ্লোমেট-এর এক নিবন্ধে]

ড. রক্ষা পান্ডিয়া-উড: জ্যেষ্ঠ প্রভাষক, ওয়েস্টার্ন সিডনি ইউনিভার্সিটি

ড. গ্যাব্রিয়েলা ফার্নান্দো: সহকারী অধ্যাপক, মোনাশ ইউনিভার্সিটি ইন্দোনেশিয়া

ড. গ্রেস ওয়াংগে: সহযোগী অধ্যাপক, মোনাশ ইউনিভার্সিটি ইন্দোনেশিয়া