জলবায়ু নীতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সাম্প্রতিক পশ্চাদপসরণ সত্ত্বেও বৈশ্বিক শিল্প খাতে কার্বন নিঃসরণ কমানোর উদ্যোগ এগিয়ে চলেছে। বিশ্বব্যাপী গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের জন্য দায়ী শিল্প খাতের অনেক প্রতিষ্ঠান এখন পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা, আয় ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর কৌশল হিসেবে ডিকার্বনাইজেশনকে গ্রহণ করছে।
ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) গবেষণায় দেখা গেছে, সিমেন্স, সেন্ট-গোবাঁ, আউটোকুম্পু ও ন্যাশনাল সিমেন্টের মতো প্রতিষ্ঠান পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তি, বিদ্যুতায়ন ও ডিজিটাল ব্যবস্থায় বিনিয়োগ করে উৎপাদন ব্যয় কমাচ্ছে এবং উন্নত মানের পরিবেশবান্ধব পণ্য তৈরি করছে। কোথাও সরকারি ভর্তুকি, কোথাও জ্বালানি সাশ্রয় এবং কোথাও আন্তর্জাতিক কার্বন বিধিমালা এ রূপান্তরকে উৎসাহিত করছে।
গত এক দশকে পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে বৈশ্বিক বিনিয়োগ প্রায় ৮০ শতাংশ বেড়েছে। জীবাশ্ম জ্বালানির তুলনায় পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধিও বেশি। প্রতিষ্ঠানগুলো বুঝতে পারছে, জ্বালানি নিরাপত্তা, ব্যয় সাশ্রয়, দক্ষ কর্মী আকর্ষণ এবং বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য নিঃসরণ কমানো জরুরি।
যদিও প্রাথমিক বিনিয়োগ ব্যয় ও কিছু শিল্পের অনীহা বড় বাধা, তবু উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবোটিকস এ রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করছে। লেখকদের মতে, ডিকার্বনাইজেশন এখন আর কেবল পরিবেশ রক্ষার নৈতিক উদ্যোগ নয়; এটি উৎপাদনশীলতা, প্রবৃদ্ধি, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সাফল্যের কার্যকর কৌশল।
[প্রজেক্ট সিন্ডিকেটের এক নিবন্ধে]
এলিজাবেথ রেনল্ডস: ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) নগর অধ্যয়ন ও পরিকল্পনা বিভাগের প্রফেসর অব প্র্যাকটিস।
নাথান কোলেট: অর্থনৈতিক নিরাপত্তাবিষয়ক কানাডার সাবেক সরকারি কর্মকর্তা।










