মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী সাবেক মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক। এর আগে তিনি অর্থ সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। অর্থ সচিবের পূর্বে তিনি অর্থ বিভাগের উপসচিব, যুগ্ম সচিব ও অতিরিক্ত সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফাইন্যান্স ও অ্যাকাউন্টিংয়ে মাস্টার অব সায়েন্স (এমএসসি) ডিগ্রি অর্জন করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিসাববিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। নতুন বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির নানা চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাবিদিন ইব্রাহিম

বিদায়ী বছরটি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য কেমন ছিল?

আমাদের সবচেয়ে বড় উল্লেখ করার মতো বিষয় হলো, প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে আমাদের সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা খুবই সন্তোষ পর্যায়ে ছিল, যাকে আমরা ইংরেজিতে ‘ম্যাক্রো ইকোনমিক স্ট্যাবিলিটি’ বলি। অর্থাৎ অর্থনৈতিক মূল খাতগুলোর মধ্যে একটি পারস্পরিক স্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করছিল। অন্যভাবে যদি বলি, সরকারি খাতে অর্থাৎ ‘ফিসক্যাল সেক্টরে’ জিডিপির অনুপাতে বাজেট ঘাটতি ছিল সহনীয় মাত্রায় (৫ শতাংশের নিচে)। বৈদেশিক খাতে আমাদের অনেক দিন ধরেই কারেন্ট অ্যাকাউন্ট এবং ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্টের প্রবাহও ইতিবাচক ছিল, যার কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের স্থিতি একটা সন্তোষজনক পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল। রিয়েল সেক্টরেও জিডিপি প্রবৃদ্ধি অনেকদিন ধরে ভালো পর্যায়ে ছিল, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ছিল। বৈদেশিক, রিয়েল সেক্টর কিংবা হাউজহোল্ড সেভিংসের কথা যদি বলি সবদিক থেকে আমরা স্থিতিশীল পর্যায়ে ছিলাম। মাঝখানে কভিডের-১৯ মহামারী এবং কিছুটা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আমাদের শেষ বছরটা তেমন ভালো যায়নি। আমাদের সবারই জানা আছে, আর্থিক খাতে আমাদের দীর্ঘদিনের সমস্যা অনেকদিন ধরেই ছিল, নন-পারফর্মিং লোন (এনপিএল)-ব্যাংক খাত থেকে প্রকল্প ঋণ নিয়ে তা প্রকল্পে ব্যয় না করে অনেক সময় অর্থ পাচার হয়েছে, এটা কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই চলেছে এবং চলছে। তা সত্ত্বেও অন্যান্য খাত বিশেষ করে আমাদের বৈদেশিক, রিয়েল ও সরকারি খাতের ভালো অবস্থা এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকার কারণে আমরা স্থিতিশীল পর্যায়ে ছিলাম। ২০২৩ সালে আমরা সব সূচকেই ব্যর্থ হয়েছি, জিডিপি প্রবৃদ্ধি আছে কিন্তু প্রবৃদ্ধির হার কমে গেছে। সবদিক বিবেচনায় ২০২৩ সাল ভালো যায়নি।

গত বছর আমরা আমদানি কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সঞ্চয় করতে চেয়েছি। এ সিদ্ধান্ত কীভাবে মূল্যায়ন করেন?

আমদানি কমিয়ে রিজার্ভ অক্ষুণ্ন রাখতে গিয়ে অনেক সময় বিলাসবহুল পণ্য আমদানি বন্ধের সঙ্গে সঙ্গে মূলধনি পণ্য আমদানির ওপর বাধা এসেছে। ঋণপত্র বা এলসি খুলতে গিয়ে হিমশিম খেয়েছেন আমদানিকারকরা। সংগত কারণেই কাঁচামাল, মধ্যবর্তী ও মূলধনি পণ্য আমদানি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় টেক্সটাইল, ফার্মাসিউটিক্যালসসহ অন্যান্য খাতেও প্রাইভেট বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

আপনি এনপিএলের কথা বলছিলেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এনপিএল বা কুঋণ ঠেকাতে পারেনি কেন?

এনপিএল নির্ধারণসংক্রান্ত পলিসি শিথিল করে তা কম দেখানোর চেষ্টা ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের। কিন্তু প্রকৃত এনপিএল যেটা সেটা তো ঠিকই বেড়েছে। এনপিএলের পরিমাণ বলা হচ্ছে ১ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা, তবে শিথিল পলিসিকে যদি বিবেচনায় না নেয়া হয় তাহলে এর পরিমাণ দ্বিগুণের চেয়েও বেশি। এছাড়া বিভিন্ন কারণে রাজনৈতিক অর্থনীতিতে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর ফলে বেসরকারি বিনিয়োগে ধীরগতি এসেছে। প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগও (এফডিআই) আমাদের সন্তোষজনক পর্যায়ে নেই। যা-ও আছে তা লাভের পুনর্বিনিয়োগ, নতুন বিনিয়োগ নয়। বিদেশী পোর্টফলিও বিনিয়োগ তো উল্লেখ করার মতো কোনো সময়ই ছিল না। 

২০২৩ সালে আমরা যে রিজার্ভ দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলাম তা ২০২৩ শেষে অর্ধেক কমেছে, আমরা রিজার্ভ ক্ষয়টা নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি কেন?

রিজার্ভ ক্ষয় নিয়ন্ত্রণ না করতে পারার পেছনে অন্যতম কারণ হলো সামষ্টিক অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা, যখন অর্থনৈতিক এজেন্টগুলো অযৌক্তিক (ইরেশনাল) আচরণ করে। রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে বিদেশে আমার দেশের শ্রমিক যাচ্ছেন, প্রবৃদ্ধিও আছে, কিন্তু আনুপাতিক হারে আমাদের রেমিট্যান্স বৃদ্ধি পাচ্ছে না। 

সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা না থাকার কারণে অর্থনীতিতে অস্থিরতা রয়েছে। ফলে ফরেন এক্সচেঞ্জের অফিশিয়াল রেট এবং মার্কেট রেটের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য হয়ে গেছে। সংগত কারণেই অনেকেই অধিক লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে আনঅফিশিয়াল চ্যানেল অর্থাৎ হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠাচ্ছে। রেমিট্যান্স ছাড়াও রফতানির ক্ষেত্রেও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) শিপমেন্ট রেকর্ডে প্রদর্শিত অংক বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রত্যাবাসিত অংকের সঙ্গে মিলছে না। একটি হিসাব বলছে, এটা সর্বোচ্চ ১২ বিলিয়ন ডলার। এর পরিমাণ বর্তমানে আমাদের রিজার্ভের প্রায় ৫০ শতাংশের ওপরে। অর্থ পাচার, রেমিট্যান্স প্রবাহ হ্রাস ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নে উল্লেখযোগ্য অনুষঙ্গ হিসেবে প্রতিভাত হয়ে উঠেছে। 

এক্ষেত্রে আমি বলব, নীতিনির্ধারকদের ব্যর্থতা আছে। কারণ শিপমেন্টে যা রফতানি হচ্ছে তার সঙ্গে অর্থ প্রত্যাবাসনের মিল না থাকলে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেয়ার কথা। কিন্তু এ জায়গায় দেখা যাচ্ছে, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ঠিকঠাকভাবে নেয়া হচ্ছে না। এতে অসৎ চক্র আরো উৎসাহিত হচ্ছে। আনঅফিশিয়াল চ্যানেলে রেমিট্যান্স ঠেকাতে অনেকে কঠিন পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলেন। কিন্তু অর্থনৈতিক নীতি শুধু পুলিশিং করে কার্যকর করা কঠিন। বরং পলিসি কৌশলগুলো এমনভাবে সাজাতে হবে যাতে অর্থনৈতিক প্রভাবকগুলো (এজেন্ট) তাদের আচরণ পাল্টাতে বাধ্য হয়। 

ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে কিছুদিন চলল ৯ শতাংশ আর ৬ শতাংশ সুদহার, যা এরই মধ্যে ‘নয়-ছয়’ নামে ব্যঙ্গাত্মক পরিচিতি পেয়েছে। এতে আপনি মনে করেছেন ঋণ সস্তা করে বিনিয়োগ বাড়াবেন। বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য শুধু ঋণের সুদ একমাত্র নির্ণায়ক নয়। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক সুশাসন, উপযুক্ত ভৌত অবকাঠামো, ‘ইনক্রিমেন্টাল মূলধন-উৎপাদন অনুপাত’ ইত্যাদি ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ সম্পর্কিত নির্ণায়কগুলো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহ করতে গিয়ে সঞ্চয়কারী তার সঞ্চয় হারাচ্ছেন। ফলে সবদিক মিলে এখন একটি ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হয়েছে। 

দীর্ঘদিন ধরে ডলারের মান ধরে রাখার সিদ্ধান্তকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

দীর্ঘদিন ধরে আমরা ডলারের বিপরীতে টাকার মানকে বাজারভিত্তিক না করে ‘ম্যানেজ ফ্লোট’-এর মাধ্যমে ধরে রেখেছি। বিভিন্ন সময় দেশের অর্থনীতিবিদরা এর বিরুদ্ধে বলেছেন, কিন্তু সেগুলো আমরা উপেক্ষা করেছি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) যখন নির্দেশনা (প্রেসক্রিপশন) নিয়ে এসেছে তখন এ বিষয়ে কিছু উদ্যোগ লক্ষ করছি। অথচ দুই বছর ধরে আমাদের অর্থনীতিবিদরা তা বলে আসছিলেন, কিন্তু পাত্তা দিইনি। আইএমএফের শর্তের মধ্যে পড়ে এখন সেগুলো বিবেচনা করছি। কেউ কেউ বলবেন, না হওয়ার চেয়ে দেরিতে হওয়াও ভালো (‌বেটার লেট দ্যান নেভার)। কিন্তু অর্থনীতি এ রকম আপ্তবাক্য-নির্ভর হয়ে চলতে পারে না। অর্থনীতিকে রেগুলেট করতে গেলে বা সঠিক লাইনে রাখতে গেলে সবসময় ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণে রাখতে হয় ও যথাযথ নীতি উদ্যোগ যথাসময়ে নিতে হয়। অর্থনীতির মূল সমস্যাগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেয়ার পরিবর্তে রাজনৈতিক অর্থনীতি বিবেচনাকে প্রাধান্য দিয়ে অনেক সময় রেগুলেটররা কাজ করেছে। এ বিষয়গুলো আমরা ভুল করেছি। এ কারণে আমাদের সমস্যা হয়েছে। 

২০২৩-এ নীতিনির্ধারক এবং সাধারণ মানুষের জন্য মূল্যস্ফীতি অনেকটা মাথাব্যথার কারণ ছিল। ২০২৪-এ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসবে কি? নীতিনির্ধারকদের কোন কোন পদক্ষেপ নেয়া দরকার?

মূল্যস্ফীতিকে অনেকেই ‘মনিটারি ফেনোমেনা’ বলে মনে করেন। এ দিক দিয়ে বিবেচনায় বাংলাদেশ ব্যাংক এখন অর্থ সরবরাহে নিয়ন্ত্রণ আনছে। অনেকদিন থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারের বাজেট ঘাটতি পূরণে ট্রেজারি বিল/বন্ড অকশনের মাধ্যমে বাজার থেকে ঋণ গ্রহণের পরিবর্তে ‘ডেট মনিটাইজেশন’ করে অর্থাৎ সরাসরি টাকা প্রিন্ট করে সরকারকে ঋণ দিয়েছে। যেহেতু সরকার এ অর্থ ব্যয়ের মাধ্যমে বাজারে অর্থ সরবরাহ বাড়াত, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতিতে স্থিরকৃত মুদ্রা সরবরাহ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেত। অর্থাৎ মুদ্রানীতির প্রধান উদ্দেশ্য ‘মূল্য স্থিতিশীলতা’ রক্ষা ও ‘মূল্যস্ফীতি’ নিয়ন্ত্রণ রাজস্ব নীতির (ফিসক্যাল পলিসি) কাছে পরাস্ত হতো, এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি আইএমএফের নির্দেশনা রয়েছে, সরকারের ঋণ ট্রেজারি বিল-বন্ড অকশন থেকে আসবে, যেখানে ব্যক্তি বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো অংশ নেবে। বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি সরকারকে ঋণ দেবে না। এছাড়া বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে তারল্য সহযোগিতা ঋণ প্রদানের ‘পলিসি রেট’ বৃদ্ধি করেছে। ফলে অর্থ সরবরাহের ওপর নিয়ন্ত্রণ আসতে পারে। এ নিয়ন্ত্রণের একটা পজিটিভ প্রভাব পড়বে মূল্যস্ফীতির ওপর। এখন বিনিয়োগ বন্ধ্যাত্ব, উৎপাদনশীলতা ঘাটতি ইত্যাদি অন্যান্য যেসব কারণ মূল্যস্ফীতির প্রবণতা সৃষ্টি করছে, শুধু ওই অংশের জন্য অর্থ সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ উপযুক্ত ফল দেবে না। বরং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিসহ মোট উৎপাদন বৃদ্ধি, কাঠামোগত সংস্কার এবং কারিগরি দক্ষতার উন্নয়ন ঘটাতে হবে। বিশেষ করে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রভাব ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমাত্রার (আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স) প্রয়োগ উত্তরোত্তর বৃদ্ধির কারণে অর্থনীতির সব খাতেই বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। কর্মসংস্থানের প্রকৃতি ও গুণমানে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। এরই মধ্যে অনেক কাজ প্রযুক্তির হাতে চলে যাচ্ছে। আমরা ব্যাংকগুলোর দিকে লক্ষ করলে দেখতে পাই, সেখানে ‘ওভার দ্য কাউন্টার’ লেনদেন কমে যাচ্ছে এবং যন্ত্রভিত্তিক কিংবা স্পর্শহীন লেনদেন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২৪ সালে প্রধান কাজ হবে সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা। রফতানিতে বৈচিত্র্য আনতে হবে। পণ্যে যেমন বৈচিত্র্য আনতে হবে তেমনি রফতানি গন্তব্যেও আনতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, মানবসম্পদ উন্নয়নে আমাদের গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে। আমরা যে ভোকেশনাল ও কারিগরি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা চালু রেখেছি সেগুলো আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়, এগুলো প্রাথমিক ধাপের স্কিল যা এখন মেশিন লার্নিং পদ্ধতির দখলে চলে যাচ্ছে। এ প্রাথমিক স্কিল দিয়ে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের যুগে চলা সম্ভব নয় এবং এই স্কিল দিয়ে তৈরি জনশক্তির বহির্বিশ্বে চাহিদা তো থাকবেই না এমনকি অদূর ভবিষ্যতে অভ্যন্তরীণ কর্মসংস্থানও হ্রাস পাবে। এতে বেকারত্ব বৃদ্ধি পাবে।

আমাদের কারিগরি শিক্ষা কাঠামো অনেক পুরনো। এ পুরনো কাঠামো বর্তমানের প্রয়োজন মেটাতে কতটুকু সক্ষম?

আমি এ কথাই বলছিলাম। এজন্য আমাদের কারিগরি শিক্ষা কাঠামোকে পুরোপুরি ঢেলে সাজাতে হবে। আমরা ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড পেতে চাইলে তরুণদের প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে হবে। উপজেলা পর্যায়ের কলেজগুলোয় অনার্স কোর্স চালু করা কতটুকু যৌক্তিক সেটা ভেবে দেখতে হবে। দেখা গেছে, চার-পাঁচজন শিক্ষক নিয়ে চলছে এ অনার্স কোর্স। তারা শিক্ষার্থীদের কী শিক্ষা দেবেন এবং শিক্ষার্থীরা এ শিক্ষা নিয়ে কী করবেন তা গভীরভাবে ভাবতে হবে ও উপযুক্ত নীতিকৌশল নিতে হবে। গ্রামের ডিগ্রি কলেজ কিংবা বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এত অনার্স, মাস্টার্স পড়ুয়ারা কি বর্তমান বিশ্ববাজারের জন্য উপযুক্ত জনশক্তি হিসেবে তৈরি হচ্ছে? এ প্রশ্নগুলো সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি শিক্ষা কাঠামোয় আমূল পরিবর্তন আনতে হবে।