দেশের উচ্চশিক্ষায় অধ্যয়নরতদের প্রায় ৭০ শতাংশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ২০২১ সালে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের পর তিনি সুইডেনের লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ও পোস্টডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হওয়ার আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে ছিলেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ফাতেমা-তুজ-জিনিয়া
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জনের জায়গাগুলো কী বলে মনে করেন?
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থিত কলেজগুলোয় উচ্চশিক্ষায় অধ্যয়নরতদের প্রায় ৭০ শতাংশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। পৃথিবীর অনেক দেশেই উচ্চশিক্ষা ব্যয়বহুল। আমাদের দেশেও একসময় উচ্চশিক্ষা অত্যন্ত সীমিত ছিল। তবে এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থিত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোয় স্বল্প ব্যয়ে শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে এবং কর্মক্ষেত্রে ভালো অবস্থানে যেতে পারছে। এছাড়া একসময় সেশনজট শিক্ষার্থীদের অনেক বড় একটা সময় কেড়ে নিত। এখন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সেই সেশনজটের অভিশাপ নেই। করোনার কারণে কয়েকটি ব্যাচের যেটুকু সেশনজট রয়েছে, সেটিও শিগগিরই পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান সন্তোষজনক কি?
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থিত কলেজে বৃহৎ সংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করা অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং। তবে আমাদের দিক থেকে কারিকুলামে পরিবর্তন, কলেজগুলোয় মনিটরিং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রণয়নসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার মান নিশ্চিতের প্রচেষ্টা অব্যহত আছে। যেমন শিক্ষার্থীদের বর্তমান সময়ের উপযোগী করে তুলতে বাংলাদেশের প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ, গবেষক ও উদ্যোক্তাদের সমন্বয়ে এরই মধ্যে একাডেমিক মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা হয়েছে। প্রযুক্তিগত শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে অনার্স ও ডিগ্রি পর্যায়ে প্রথম বর্ষে আইসিটি এবং তৃতীয় বর্ষে সফট স্কিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান নিশ্চিতের জন্য ১২টি কর্মমুখী পোস্টগ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা (পিজিডি) কোর্স চালু করা হয়েছে এবং শিগগিরই দক্ষতাভিত্তিক ১৯টি শর্ট কোর্স চালু করা হবে। এসব বিষয় বিবেচনায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান বর্তমানে যথেষ্ট ভালো বলা যায় এবং আমরা এ মান আরো বৃদ্ধির চেষ্টা করছি।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী?
সারা দেশে ২ হাজার ২৫৭টি কলেজের অধীনে প্রায় ৩০ লাখ শিক্ষার্থী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। এত অধিকসংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় মনিটরিং নিশ্চিত করার বিষয়গুলো অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং। তবে এগুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি। আমি মনে করি উচ্চশিক্ষায় এত অধিক শিক্ষার্থী আমাদের প্রয়োজন নেই। দায়িত্ব গ্রহণের পর আমি চার লাখ আসন কমিয়েছি। আমাদের দরকার ভালো ডিপ্লোমা কোর্স। যাতে শিক্ষার্থীরা উচ্চ মাধ্যমিক শেষে চাকরির বাজারের জন্য দক্ষ হয়ে উঠতে পারে। উচ্চশিক্ষা তাদেরই গ্রহণ করা উচিত যারা চিকিৎসক-প্রকৌশলীর মতো বিষয়ভিত্তিক পেশায় যাবে, শিক্ষকতা করবে, গবেষণা করবে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রায় আড়াই হাজার কলেজ রয়েছে। এ কলেজগুলোর সুযোগ-সুবিধা নিয়ে প্রায়ই অভিযোগ শোনা যায়। বিষয়গুলো কীভাবে দেখছেন?
আমাদের প্রায় সব সরকারি-বেসরকারি কলেজেই এখন ভালো অবকাঠামো রয়েছে। তবে প্রশ্ন হলো আমাদের বর্তমান পৃথিবী যেভাবে ক্রমেই প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে, সেখানে আগামী ২৫ বছর পর কি অবকাঠামো এতটা গুরুত্বপূর্ণ থাকবে? যেমন আমাদের এখন সবার হাতেই স্মার্টফোন রয়েছে। সেখানে আমরা একটা ক্লিকেই অসংখ্য তথ্য পেয়ে যাচ্ছি। এখন আপনি এ স্মার্টফোনে ফেসবুক ব্রাউজ করবেন, নাকি ই-বুক পড়বেন সেটি বিষয়। আমাদের এ প্রযুক্তিগত সুযোগ কাজে লাগানোর উদ্যোগ দরকার। আমাদের উন্নত সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ল্যাব-লাইব্রেরি দরকার। আমাদের একটা লার্নিং সিস্টেম দরকার। সব কলেজের মধ্যে কানেক্টিভিটি দরকার, ক্যাম্পাস নেটওয়ার্ক দরকার। সেটি হয়তো এখনো আমরা পুরোপুরি করতে পারিনি। তবে আমরা যে লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ডেভেলপমেন্টের প্ল্যান করছি, সেখানে কিন্তু আমরা সব কলেজকে কানেক্টিভিটির আওতায় আনার প্রচেষ্টা করছি। এটি করা গেলে কলেজগুলোয় শিক্ষার মান এবং সুযোগ-সুবিধা দুই-ই বাড়বে।
মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে প্রশিক্ষিত শিক্ষক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের বিষয়ে আপনাদের পরিকল্পনা কী?
শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনার জন্য ‘শিক্ষক প্রশিক্ষণ মাস্টারপ্ল্যান’ নিয়ে কাজ চলছে। কিন্তু আমরা এভাবে এগোতে চাচ্ছি না যে আগে মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করব, তারপর প্রশিক্ষণ দেব। আমরা মাস্টারপ্ল্যানের কাজও করব এবং একই সঙ্গে প্রশিক্ষণও চলমান রাখব। আমরা এরই মধ্যে বেশকিছু কর্মশালা করেছি। ক্রমান্বয়ে দেশের সব কলেজ শিক্ষককে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। কিন্তু এত শিক্ষককে গাজীপুর এনে প্রশিক্ষণ সম্ভব না। এ কারণে আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলোয় প্রশিক্ষণ আয়োজনের একটি পরিকল্পনা নিয়েছি। এটি করা সম্ভব হলে আমরা অল্প সময়ে অধিকসংখ্যক শিক্ষককে প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে পারব। আর বর্তমান সক্ষমতায় আমরা আশা করছি আগামী এক বছরে ১০ হাজার শিক্ষককে আইসিটি এবং প্যাডাগোজিতে প্রশিক্ষিত করব।
অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্লাসে উপস্থিতির হার তুলনামূলক কম। শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির কারণ কী বলে মনে করেন এবং নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি নিশ্চিতে আপনাদের কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা।
অনুপস্থিতির বিষয়ে বললে সব বিশ্ববিদ্যালয়েই কিছু শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও অনেক শিক্ষার্থী রয়েছে যে হলে থেকেও হয়তো আড্ডা দিয়ে সময় পার করছে। ক্লাস করছে না। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা বেশি হওয়ায় আমাদের বিষয়টি আলোচনায় বেশি আসে। কিন্তু এটি চিন্তা করা হয় না যে একজন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অনেক বেশি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে। যেমন অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আর্থিক অবস্থা এক্ষেত্রে কিছুটা প্রভাব ফেলে। আমাদের অনেক শিক্ষার্থী রয়েছে যারা পার্ট টাইম চাকরির পাশাপাশি এখানে পড়ালেখা করে। তাদের অনেকের পক্ষেই ইচ্ছে থাকলেও নিয়মিত ক্লাস করা সম্ভব হয় না। কারণ সে চাকরিটা ছেড়ে দিলে হয়তো তার পরিবার সংকটে পড়বে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী ৭০ শতাংশ উপস্থিতি না থাকলে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করার বিধান রয়েছে। এখন শিক্ষকরা যদি এ নিয়মে কঠোর হন তাহলে কিন্তু যে শিক্ষার্থী চাকরির পাশাপাশি পড়ালেখা করছে তার আর উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ থাকবে না। আমরা চাই না একজন শিক্ষার্থী তার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে ঝরে পড়ুক। আবার আমরা এটিও চাই না শিক্ষার্থীরা ক্লাস না করেই গ্র্যাজুয়েট হোক। এ কারণে আমরা কলেজগুলোয় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিতের নির্দেশনা দিয়েছি। পাশাপাশি লার্নিং সিস্টেম ম্যানেজমেন্ট ডেভেলপমেন্টের বিষয়ে আমরা কাজ করছি। একজন শিক্ষার্থী সশরীরে ক্লাসে না থাকলেও যেন অনলাইনে যুক্ত হতে পারে বা ক্লাসটি পরবর্তী সময়ে অনলাইন থেকে করে নিতে পারে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিভিন্ন প্রফেশনাল কোর্স চালু রয়েছে। এসব কোর্সের মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?
প্রফেশনাল কোর্সগুলো নিয়ে অনেক অভিযোগ আমরাও পাই। বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের অধিভুক্তি আমরা বাতিলও করেছি। এক্ষেত্রে একটি জটিলতা হলো ব্যবস্থা গ্রহণের পদ্ধতিতে জটিলতা। অনেক সময় দেখা যায় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে গেলে তারা মামলা করছে এবং অধিভুক্তি বাতিলের বিষয়ে স্থগিতাদেশ দেয়া হচ্ছে। এর পরও আমরা যতটা সম্ভব চেষ্টা করছি প্রফেশনাল কোর্সগুলোর মান নিশ্চিত করার। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাচ্ছি তাদের চিঠি দিচ্ছি। কারণ কেউ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তিকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য সফল করুক, এটি আমরা চাই না। বারবার চিঠি দেয়ার পরও যদি তারা সতর্ক না হয়, সেক্ষেত্রে অধিভুক্তি বাতিল করছি।
উচ্চশিক্ষা শেষে দেশের কর্মক্ষেত্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আশানুরূপ ভূমিকা রাখতে পারছে বলে মনে করেন কি?
বিসিএস ক্যাডারের সংখ্যাকে সফলতার মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করলে সেখানে হয়তো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কম, কিন্তু সামগ্রিক কর্মক্ষেত্র বিবেচনা করলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বর্তমানে কর্মক্ষেত্রে বেশ ভালো ভূমিকা রাখছে। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা ভালো অবস্থানে চাকরি করছে। আমাদের অনেক শিক্ষার্থী এখন সফল উদ্যোক্তা। তারা শুধু নিজেরাই নয়, অন্যদেরও কর্মক্ষেত্রের ব্যবস্থা করছে। এছাড়া আমি মনে করি আমাদের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনেক বেশি পরিশ্রমী। আমাদের বেশির ভাগ শিক্ষার্থী নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। দেখা যায় সে যখন স্নাতক পর্যায়ে তখন সে শুধু নিজেই পড়ছে না, ছোট ভাই-বোনকে পড়ালেখা করাচ্ছে। টিউশন বা পার্ট টাইম চাকরির মাধ্যমে বাবা-মায়ের দেখাশোনা করছে, তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছে। আমার মতে, আমাদের উচিত তাদের উৎসাহিত করা, কারণ তাদের পেছনে রাষ্ট্রের ব্যয় কম কিন্তু তারা রাষ্ট্র ও পরিবারের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতাগুলো পালনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন ক্যাম্পাস প্রোগ্রামের বিষয়ে জানতে চাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) এ বিষয়ে আপত্তি ছিল। অন ক্যাম্পাস নিয়ে পরিকল্পনা কী?
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সারা দেশের কলেজগুলোয় শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে হলে তার অবশ্যই নিজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী থাকা দরকার। নয়তো এ কারিকুলাম শিক্ষার্থীদের ওপর কেমন প্রভাব ফেলছে, কোন জায়গাগুলোয় পরিবর্তন প্রয়োজন, সেটি বোঝা সম্ভব নয়। আবার অনেক সময় সিলেবাস আপগ্রেডের প্রয়োজন হয়। আমাদের যদি নিজেদের শিক্ষক না থাকে তবে সিলেবাস নিয়ে কাজ করবেন কারা। এসব কারণে আরো আগে থেকেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন ক্যাম্পাস প্রোগ্রাম প্রয়োজন ছিল। ইউজিসির যে বিষয়ে আপত্তি ছিল তাদের আমরা সে বিষয়টি পরিষ্কার করে উত্তর দিয়েছি। আশা করছি তারা আমাদের জায়গাটি বুঝবে। আপাতত আমরা বিভাগ বাড়াচ্ছি না। তবে আমাদের সারা দেশের অধিভুক্ত কলেজগুলোয় যেসব বিভাগ চালু রয়েছে তার সবই অন ক্যাম্পাসে চালু থাকা প্রয়োজন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান বাড়াতেই এটি প্রয়োজন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বড় চ্যালেঞ্জ কলেজগুলোয় মনিটরিং নিশ্চিত করা। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী একটি নির্দেশনা দিয়েছিলেন প্রতিটি জেলার সরকারি কলেজগুলোকে ওই জেলার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা। আপনি বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?
কলেজগুলোয় মনিটরিং নিশ্চিতে আমরা বিকেন্দ্রীকরণের বিষয়ে কাজ করছি। অর্থাৎ আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চলছে। এরই মধ্যে আমাদের ছয়টি আঞ্চলিক কেন্দ্র আছে। আরো চারটি আঞ্চলিক কেন্দ্র করার পরিকল্পনা আছে। এসব কেন্দ্রে এখন পরিচালকরা দায়িত্বে রয়েছেন। যদি একজন করে উপ-উপাচার্য নিয়োগ দেয়া যায় তাহলে মনিটরিং নিয়ে সমস্যা হবে না। আর একসময় কলেজগুলো নিকটবর্তী বিশ্ববিদ্যালয়েরই অধিভুক্ত ছিল। সেটি ফলপ্রসূ না হওয়ায় কলেজগুলোকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়। এ কারণে আমি মনে করি, জেলার কলেজগুলোকে ওই জেলার বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় নেয়ার ক্ষেত্রে এটি বিবেচনা করা জরুরি যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সেই সক্ষমতা আছে কিনা। যদি সবকিছু মিলিয়ে সরকার মনে করে কলেজগুলো ওই জেলার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত থাকা উচিত তাহলে আমাদের আপত্তির কারণ নেই এবং আমরা সার্বিক সহযোগিতা করব। তবে এক্ষেত্রে আইনের সংশোধন প্রয়োজন হবে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
দায়িত্ব গ্রহণের পর গত আড়াই বছরে আমি প্রায় ১০০ নতুন কাজ করেছি। আগামী দেড় বছরে আমি আরো কিছু নতুন কাজ করতে চাই এবং একটি রূপকল্প তৈরি করে যেতে চাই, যেটা দিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আগামী ১০ বছর স্বচ্ছন্দে কার্যক্রম চালাতে পারবে। যেমন এরই মধ্যে আমরা একাডেমিক মাস্টারপ্ল্যানের কাজ শুরু করেছি, শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত শিক্ষা নিশ্চিত করেছি, তাদের সফট স্কিলের উন্নতিতে উদ্যোগ নিয়েছি, বিভিন্ন কর্মমুখী কোর্স চালু করেছি, মেন্টাল হেলথসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। এছাড়া সিলেবাস নিয়ে আরো কাজ চলছে, শিক্ষক প্রশিক্ষণে মাস্টারপ্ল্যান তৈরি হচ্ছে, কলেজগুলোয় ভালো মনিটরিং নিশ্চিত ও শিক্ষার্থীদের ক্লাসে উপস্থিতি নিশ্চিতে কাজ চলছে। এক কথায় বললে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থার লক্ষ্যে কাজ করছে, যাতে আমাদের শিক্ষার্থীরা শ্রমবাজারের জন্য পর্যাপ্ত দক্ষ হয়ে উঠতে পারে।










