বাংলাদেশে নিরাপদ জ্বালানির উদীয়মান খাত এলপিজি। এ মুহূর্তে দেশে জ্বালানিটির চাহিদা দেড় মিলিয়ন টন। কয়েক বছরের মধ্যে এ চাহিদা প্রায় দ্বিগুণ হবে। কোনো সন্দেহ নেই, এ খাতে যারা ব্যবসা করছেন তাদের জন্য এটা খুবই আকর্ষণীয়। একই সঙ্গে এ খাতের চ্যালেঞ্জগুলো নিয়েও ভাবতে হবে। এ মুহূর্তে এলপিজির ৮০ শতাংশই ব্যবহার হয় গৃহস্থালিতে। কিছুটা ব্যয়বহুল হলেও চাহিদা আছে শিল্প খাতেও। তবে এলপিজির দাম কমাতে হবে। এজন্য কিছু জায়গায় আমাদের নজর দেয়া দরকার। আমদানি থেকে শুরু করে প্রান্তিক ভোক্তার হাতে পৌঁছানোর প্রতিটি ধাপ নিয়ে ভাবতে হবে।

এলপিজির কার্গো মূল্যের (সিপি) সঙ্গে সরকার নির্ধারিত যে দাম যুক্ত হচ্ছে, সেখানে আমরা পার্শ্ববর্তী বা অন্যান্য দেশের তুলনায় খুব একটা সুবিধা করতে পারছি না। এই একটা জায়গায় এখনো আটকে আছি। এর মূল কারণ হলো আমাদের কোনো টার্মিনাল নেই। একটি গভীর সমুদ্রবন্দর থাকলে বড় জাহাজগুলো সেখানেই নোঙর করতে পারত। এতে এলপিজির দাম প্রথম ধাপেই অনেকটা কমে যেতে পারত। কুতুবদিয়ায় একটি জাহাজ ২০-২৫ দিন রেখে সেখান থেকে ছোট জাহাজের মাধ্যমে পণ্য খালাস করতে যে ব্যয় হয়, সে টাকা কিন্তু গ্রাহকের পকেট থেকেই যায়। ফলে এলপিজির দাম কমানো সম্ভব হয় না।

মাতারবাড়ীতে একটি এলপিজি টার্মিনাল তৈরির চেষ্টা করছে বিপিসি। যদিও এটি করতে চার-পাঁচ বছর সময় লেগে যাবে। এটি সম্পন্ন হলে ৪৪ হাজার টনের জাহাজগুলো সরাসরি বন্দরে নোঙর করতে পারবে। এতে অপারেটরদের আমরা কিছু সুবিধা দিতে পারব। বড় আমদানিকারকদের নীতিসহায়তা দরকার আছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। একই সঙ্গে যারা ছোট অপারেটর আছে, সরকার যদি তাদের সাশ্রয়ী মূল্যে দিতে পারে তাহলে হয়তো প্রান্তিক পর্যায়ে কিছুটা হলেও দাম কমানোর সুযোগ থাকতে পারে।

দাম কমানোর পুরোটাই নির্ভর করছে লজিস্টিকস সহায়তা সহজীকরণের ওপর। আমাদের প্রথম চ্যালেঞ্জই হলো লজিস্টিকস সহায়তার অভাব। বে-টার্মিনাল পেলে আমরা সেখানে স্টোরেজ করেও এলপিজির দাম কিছুটা কমাতে পারব। এতে শিল্প ও ব্যবসাকেও সহায়তা করা যাবে। আরেকটা বিষয় হচ্ছে গ্যাস বোতলজাত করেই যে ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে তা নয়; বরং কমিউনিটি-ভিত্তিক প্লান্ট করেও গ্যাস সরবরাহ করা যেতে পারে। এখানে অবশ্য নিরাপত্তারও একটা ইস্যু আছে। এক্ষেত্রে প্লান্টগুলোকে বিভিন্ন জায়গায় দায়িত্ব দিয়ে ছড়িয়ে দেয়া গেলেও দাম কিছুটা সাশ্রয় হতে পারে। এ বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের অনেক কাজ করার আছে। সব মিলিয়ে একটি সমন্বিত প্রচেষ্টা দরকার। সরকার কিংবা ব্যবসায়ী—দিন শেষে সবাই মিলে আমরা ভোক্তাকে স্বস্তি দিতে চাই। সেজন্য আমাদের সবাইকে একত্রে কাজ করতে হবে। এর মাধ্যমে সবুজ জ্বালানির সুবিধাও নিতে পারব।

মো. আমিন উল আহসান: চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন

[‘বাংলাদেশে এলপিজি: অর্থনীতি, পরিবেশ ও নিরাপত্তা’ শীর্ষক পলিসি কনক্লেভে প্যানেল আলোচকের বক্তব্যে]