বাংলাদেশের ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোয় টেকসই এবং নবায়নযোগ্য শক্তির উৎসগুলোর সন্ধান অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে। ক্রমবর্ধমান নগরায়ণ এবং শক্তির চাহিদা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে, পরিবেশগত প্রভাব কমাতে এবং স্থিতিশীল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য শক্তির বিকল্পগুলো অনুসন্ধান করা একটি প্রধান কৌশল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের মতো, বাংলাদেশও জ্বালানি-সংক্রান্ত দুটি জটিল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। প্রথমত, দ্রুত বর্ধনশীল জনসংখ্যা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চাহিদা পূরণের জন্য নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত, প্রচলিত জ্বালানি উৎসের পরিবেশগত প্রভাব মোকাবেলা করা। বর্তমানে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ চাহিদার বেশির ভাগ জীবাশ্ম জ্বালানি দিয়ে পূরণ করা হয়, যার মধ্যে প্রধান হলো প্রাকৃতিক গ্যাস ও কয়লা। এ জ্বালানিগুলো পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। প্রাকৃতিক গ্যাস জ্বললে কার্বন ডাই-অক্সাইড তৈরি হয়, যা বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী। কয়লা জ্বললে বায়ুদূষণ বাড়ে, যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

পরিবেশের ক্ষতি কমিয়ে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের জন্য বাংলাদেশকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকল্প উৎস খুঁজে বের করতে হবে। সৌরবিদ্যুৎ, জলবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ ইত্যাদি নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎস পরিবেশবান্ধব ও টেকসই। এছাড়া বিদ্যুতের কার্যকর ব্যবহার বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। বিদ্যুৎ সঞ্চয় ও পুনর্ব্যবহার প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুতের অপচয় কমানো সম্ভব। শহরগুলো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং জনসংখ্যা কেন্দ্রীভূত করার কেন্দ্রস্থল হিসেবে প্রচলিত শক্তি ব্যবহারের পরিবেশগত প্রভাবের জন্য বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। ক্রমবর্ধমান নগরায়ণ এবং শক্তির চাহিদার প্রেক্ষাপটে, নবায়নযোগ্য শক্তিতে রূপান্তরের গুরুত্ব অপরিসীম। এ প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশ তার নগর কেন্দ্রগুলোর জন্য একটি টেকসই এবং পরিবেশবান্ধব শক্তির ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্য নবায়নযোগ্য শক্তির সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে।

শক্তির উৎসগুলোর মধ্যে সৌরশক্তি বাংলাদেশের শহরাঞ্চলের জন্য একটি আশাপ্রদ ভবিষ্যতের আলোকবর্তিকা হিসেবে বিবেচিত হয়। দেশটি সারা বছর প্রচুর পরিমাণে সূর্যালোক পায়, যা সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানোর একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। ছাদে, পাবলিক স্পেসে সৌর প্যানেল স্থাপন এবং শহুরে অবকাঠামোর সঙ্গে একীভূত করার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সৌরসম্পদ কাজে লাগানো সম্ভব। ফলে আমরা পরিষ্কার ও টেকসই শক্তির একটি বিকল্প উৎস পেতে পারি।

সৌরশক্তির একটি উল্লেখযোগ্য সুবিধা হলো এর বিকেন্দ্রীভূত প্রকৃতি। এর অর্থ হলো, ব্যক্তিগত পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে। এ বিকেন্দ্রীকরণ শুধু শক্তির স্বাধীনতা বাড়ায় না, বরং কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর চাপ কমিয়ে নগর বিদ্যুৎ ব্যবস্থার স্থিতিস্থাপকতা বাড়ায়। সরকারের সোলার হোম সিস্টেম প্রচারের উদ্যোগ এবং নগর পরিকল্পনায় সৌরপ্রযুক্তি একীভূত করার পদক্ষেপগুলো সঠিক দিকে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষণ। এগুলো একটি সৌরশক্তিচালিত ভবিষ্যৎ শহরাঞ্চলের প্রতি আমাদের অঙ্গীকারের প্রমাণ।

যদিও দেশের অনেক শহরে বায়ু টারবাইন স্থাপন প্রতিবন্ধক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, তবুও নির্দিষ্ট শহুরে এলাকায় বায়ুশক্তির সম্ভাবনা উপেক্ষা করা উচিত নয়। বিশেষ করে, উপকূলীয় শহরগুলো সামঞ্জস্যপূর্ণ উপকূলীয় বাতাসকে কাজে লাগিয়ে পরিষ্কার ও টেকসই বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে। উদ্ভাবনী নকশা, যেমন উল্লম্ব অক্ষ বায়ু টারবাইন, শহুরে পরিবেশের জন্য কার্যকর সমাধান প্রদান করতে পারে, যেখানে স্থান সীমাবদ্ধতা এবং নান্দনিক বিবেচনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

নগর পরিকল্পনাকারীরা শহুরে নকশার সঙ্গে বায়ুশক্তির পরিকাঠামোকে একীভূত করার জন্য বেশকিছু কৌশল অবলম্বন করতে পারেন। এর মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য পন্থা হলো অতিউচ্চ ভবনগুলোর স্থাপত্যে বায়ু টারবাইন অন্তর্ভুক্ত করা। এ পদ্ধতি কেবল সীমিত শহুরে স্থানের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে না, বরং টেকসই শহুরে উন্নয়নের জন্য একটি সামগ্রিক ও সমন্বিত পদ্ধতির প্রচার করে। এ পদ্ধতি ভবনগুলোকে বিদ্যুৎ গ্রিডে সক্রিয় অবদানকারীতে রূপান্তরিত করে, যা শহরের সামগ্রিক বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শহুরে এলাকায় উৎপন্ন জৈব বর্জ্যকে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি উৎপাদনের জন্য একটি মূল্যবান সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব। বায়োগ্যাস, যা জৈব বর্জ্যের বায়বীয় পরিপাকের মাধ্যমে উৎপন্ন হয়, প্রচলিত রান্নার জ্বালানির একটি টেকসই বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারে। বায়োগ্যাস প্লান্টগুলো জৈব বর্জ্যকে দক্ষতার সঙ্গে বায়োগ্যাসে রূপান্তর করতে পারে, যা রান্না এবং গরম করার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। এ পদ্ধতিগুলো বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শক্তি উৎপাদনের ক্ষেত্রে বায়োমাস ব্যবহারের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে, বিশেষ করে শহুরে প্রেক্ষাপটে। বর্জ্য-থেকে-শক্তি প্রযুক্তি, যেমন পোড়ানো এবং গ্যাসীকরণ, শহুরে জৈব বর্জ্যকে তাপ ও বিদ্যুতে রূপান্তরিত করতে পারে। এ প্রযুক্তিগুলো গ্রহণের মাধ্যমে, শহরগুলো ল্যান্ডফিলের ওপর চাপ কমাতে পারে এবং একই সঙ্গে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি উৎপাদনে অবদান রাখতে পারে।

নির্দিষ্ট শহরগুলোয় মাইক্রো-হাইড্রোপাওয়ার সিস্টেমের সম্ভাবনাকে অগ্রাহ্য করা উচিত নয়। নদী ও খালের মতো শহুরে জলাশয়গুলোকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করে ছোট আকারে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। প্রবাহিত জলের সুপ্ত শক্তিকে কাজে লাগানোর জন্য রান-অফ-দ্য-রিভার সিস্টেম এবং আন্ডারওয়াটার টারবাইনসহ উদ্ভাবনী প্রযুক্তিগুলোকে শহুরে অবকাঠামোর সঙ্গে একীভূত করা যেতে পারে।

বাংলাদেশের শহরাঞ্চলে নবায়নযোগ্য শক্তির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। সৌর, বায়ু ও জলবিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য উৎসগুলো টেকসই ও পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারে, যা শহরগুলোকে ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে এবং পরিবেশগত দূষণ কমাতে সাহায্য করবে। তবে টেকসই শক্তি অনুশীলনের দিকে একটি মসৃণ উত্তরণের জন্য বেশকিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে নবায়নযোগ্য শক্তির অবকাঠামো, বিশেষ করে সৌর প্যানেল এবং বায়ু টারবাইনগুলোর ইনস্টলেশনের সঙ্গে যুক্ত উচ্চ খরচ অনেক শহুরে বাসিন্দা এবং ব্যবসার জন্য আর্থিক বাধা তৈরি করতে পারে।

শহরাঞ্চলে সীমিত জায়গা এবং বিদ্যমান বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে সংযোগের অভাব নবায়নযোগ্য শক্তি প্রকল্পগুলোর বিকাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। নবায়নযোগ্য শক্তি খাতের বিকাশকে সমর্থন করার জন্য স্পষ্ট নীতি ও নিয়ন্ত্রণের অভাব রয়েছে। নবায়নযোগ্য শক্তির সুবিধা সম্পর্কে জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতার অভাবও বিদ্যমান।

এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকার নবায়নযোগ্য শক্তি প্রকল্পে বিনিয়োগকারীদের জন্য আর্থিক প্রণোদনা, যেমন করছাড় এবং ভর্তুকি প্রদান করতে পারে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নবায়নযোগ্য শক্তি প্রকল্পের জন্য ঋণ এবং অন্যান্য অর্থায়ন বিকল্পগুলো সহজলভ্য করে তুলতে পারে। সরকার নবায়নযোগ্য শক্তি খাতের বিকাশকে সমর্থন করার জন্য স্পষ্ট নীতি ও নিয়ন্ত্রণ প্রণয়ন করতে পারে। সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলো নবায়নযোগ্য শক্তির সুবিধা সম্পর্কে জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর প্রচারণা চালাতে পারে।

এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় সরকার, বেসরকারি সংস্থা এবং ব্যক্তিগত খাতের সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন। নবায়নযোগ্য শক্তির সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের শহরাঞ্চলগুলো আরো টেকসই ও পরিবেশবান্ধব হতে পারে।

উপরন্তু বিদ্যুৎ সরবরাহে বিরতি এবং নির্ভরযোগ্যতা সম্পর্কিত সমস্যাগুলো সমাধান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সৌর ও বায়ুশক্তি উৎপাদন আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল, যা অনির্দেশ্য হতে পারে। উন্নত ব্যাটারি প্রযুক্তির মতো বিদ্যুৎ সঞ্চয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। উচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সঞ্চয় করে, পরবর্তী সময়ে কম বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় তা ব্যবহারের জন্য, বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতির প্রভাব প্রশমিত করা সম্ভব।

অধিকন্তু বিদ্যমান শহুরে অবকাঠামোয় নবায়নযোগ্য শক্তির একীকরণের জন্য সরকারি সংস্থা, নগর পরিকল্পনাবিদ এবং বেসরকারি খাতের মধ্যে চিন্তাশীল পরিকল্পনা ও সহযোগিতা অপরিহার্য। নগর উন্নয়ন পরিকল্পনায় স্থায়িত্বের নীতি অন্তর্ভুক্ত করা, নতুন নির্মাণে নবায়নযোগ্য শক্তির বৈশিষ্ট্য অন্তর্ভুক্তি বাধ্যতামূলক করা এবং বিদ্যমান ভবনগুলোর পুনরুদ্ধারকে উৎসাহিত করা শক্তি-দক্ষ এবং পরিবেশবান্ধব নগর পরিবেশ তৈরির জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও শিক্ষা টেকসই সংস্কৃতি গড়ে তোলার এবং নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সরকারের প্রচারণা, শিক্ষামূলক কর্মসূচি এবং সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ টেকসই নগর উন্নয়নের জন্য সমর্থন তৈরি করে। নবায়নযোগ্য শক্তি সমাধান সম্পর্কে জ্ঞান ও অনুপ্রেরণা দিয়ে শহুরে বাসিন্দাদের ক্ষমতায়িত করে।

বাংলাদেশের শহরাঞ্চলে নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে রূপান্তর কেবল প্রযুক্তিগত পরিবর্তন নয়, বরং শক্তি উৎপাদন, বিতরণ এবং ব্যবহারের ধরনকে মৌলিকভাবে পরিবর্তন করে। বিভিন্ন নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস ব্যবহার এবং শক্তি-দক্ষ নগর পরিকল্পনা টেকসই শহর গঠনের মূল চাবিকাঠি।

নবায়নযোগ্য শক্তিকে অগ্রাধিকার, বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ উৎসাহিত এবং নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া সরলীকরণ টেকসই নগর উন্নয়নের জন্য সক্ষম পরিবেশ তৈরি করে। সরকার, বেসরকারি খাত, এনজিও এবং একাডেমিকদের মধ্যে সহযোগিতা, উদ্ভাবনী সমাধান ও নবায়নযোগ্য শক্তির অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব, সহযোগিতা, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করে টেকসই নগরের জন্য বাংলাদেশের প্রচেষ্টাকে জোরদার করা যেতে পারে। অন্যান্য দেশের সফল মডেল থেকে শিক্ষা এবং বাংলাদেশের অনন্য চ্যালেঞ্জের সঙ্গে সেগুলোকে খাপ খাইয়ে নেয়া নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহারকে ত্বরান্বিত করতে পারে।

বাংলাদেশের শহরাঞ্চলে নবায়নযোগ্য শক্তির বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। সৌর, বায়ু, বায়োগ্যাস, বায়োমাস এবং জলবিদ্যুতের মিশ্রণ ভবিষ্যতের পথ দেখায়, যেখানে শহরগুলো শক্তির চাহিদায় স্থিতিস্থাপক, পরিবেশবান্ধব ও স্বনির্ভর। টেকসই নীতি গ্রহণ করে শহরাঞ্চল আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নেতৃত্ব দিতে পারে।

ড. মতিউর রহমান: রিসার্চ কনসালট্যান্ট, হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ সেন্টার (এইচডিআরসি)