প্রবাসী আয় তথা প্রত্যক্ষ বৈদেশিক মুদ্রা আহরণের কার্যকর কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে কীভাবে রফতানি আয়ের বিপরীতে আমদানি ব্যয়ের ঘাটতি পুষিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ানো যায় কিংবা কীভাবে টাকার মূল্যমান বাড়িয়ে আমদানীকৃত নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের দাম ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা যায়, মুদ্রাস্ফীতি কমানো যায়—গত দুই বছর এ নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে নতুন মুদ্রানীতি প্রণীত হয়েছে, রফতানি বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, আমদানি নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, রফতানি আয়ের ক্ষেত্রে ডলারের রেট নির্ধারণ করা হয়েছে, প্রবাসী আয়কারকদের জন্য উৎসাহমূলক রেট নির্ধারণ করা হয়েছে কিন্তু কাজের কাজ খুব কমই হয়েছে। এত কিছুর পরও ১৭ এপ্রিল আইএমএফের বিপিএম ৬ অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ১৯ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলার, যা কিনা নিট রিজার্ভ। অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সনাতনি হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভ ২৫ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার।

রফতানিকারকদের আনা বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত রেটে ঠিকই কিনে নিচ্ছে দেশে কার্যরত ব্যাংকগুলো, কিন্তু আমদানির ক্ষেত্রে সেই ক্রয়কৃত ডলার বা বৈদেশিক মুদ্রা ব্যাংকসমূহ বিক্রি করছে কমপক্ষে ১৫ টাকা বেশি দরে। তাই সরকারের উদ্যোগ মাঠে আসার আগেই মারা যাচ্ছে। কমছে না আমদানীকৃত নিত্যপণ্যের দাম। মুদ্রাস্ফীতি কমার তেমন লক্ষণ নেই। তবে গৎবাঁধা আলোচনা হচ্ছে। সেই আলোচনার পর নেয়া কোনো পদক্ষেপ খুব বেশি কার্যকর হয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে না।

বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে একটি ক্রান্তিকাল চলছে। বিশেষ করে আমদানি ব্যয় পরিশোধে বৈদেশিক মুদ্রার স্বাভাবিক জোগান নিশ্চিত করার বিষয়টি সবাইকে চিন্তিত করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সাম্প্রতিক সময়ে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তবে তা সংকট উত্তরণে যথার্থ নয়। সব মহলে আলোচনা কীভাবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়িয়ে সবকিছু স্বাভাবিক করা যায়। রিজার্ভ বাড়াতে হলে আমদানি সংকুচিত করতে হবে। সরকার করছেও তাই। একেবারেই তো আমদানি বন্ধ করা যায় না। রফতানি বাড়ানোর কথা বলা হচ্ছে। চাইলেই একদিন ঘুম থেকে উঠেই রফতানি বাড়ানো যায় না। এতে সময় প্রয়োজন, প্রয়োজন সরকারি সঠিক নীতিসহায়তার, রফতানি বাজারের ক্রেতাদের ক্রয় সক্ষমতা বাড়ার। তবে যে বিষয়টি আমরা সহসা করতে পারি তা হলো প্রবাসী আয় বাড়ানো। তবে নতুন জনশক্তি রফতানি সহজে বাড়ানো সম্ভব নয়। যেটা সম্ভ তা হলো এখন পর্যন্ত যেসব নাগরিক বিদেশে কর্মরত তাদের আয়কৃত অর্থ ব্যাংক চ্যানেলে দেশে আনা। অন্যদিকে বাংলাদেশে আগত বিদেশী নাগরিক এবং বিদেশী নাগরিকত্ব গ্রহণকারী দেশীয়দের কাছ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আহরণ।

আমাদের দেশের প্রায় এক কোটিরও বেশি নাগরিক স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে বিদেশে আছেন। যাদের কম-বেশি সবাই বিভিন্ন দেশে কাজ করছেন। তারা গড়ে বৈধভাবে প্রেরণযোগ্য ৩০০ ডলার কামাচ্ছে না তা কি বোধগম্য? আমরা যদি এক কোটি প্রবাসীর কাছ থেকে প্রতি মাসে অন্তত ৩০০ ডলার রেমিট্যান্স পাই তাহলে আমাদের প্রবাসী আয় ৩০০ কোটি ডলার (৩ বিলিয়ন) হওয়ার কথা ছিল। হুন্ডিতে বেশি টাকা পায় বলে বেশির ভাগ প্রবাসী এর মাধ্যমে বৈদেশিক আয় পাঠাচ্ছেন। অথচ এই হুন্ডি রোধের তেমন প্রচেষ্টা না চালিয়ে আইএমএফ থেকে ঋণ পেতে মরিয়া সরকার। কারেন্সি সোয়াপ করছেন, আরএফসিডি হিসাব খোলার ব্যবস্থা করেছেন, অফশোর ব্যাংকিং আইন করেছেন। 

নিশ্চিত করে বলা যায়, যদি সব প্রবাসী হুন্ডি চ্যানেলে তাদের অর্জিত অর্থ পাঠানোর নিরাপদ সুযোগ পেতেন তবে কেউ ব্যাংক মারফত টাকা পাঠাতেন না। তার মানে কি দাঁড়াল? মানে দাঁড়াল এই সুযোগ না পাওয়ায় কিছু মানুষ ব্যাংক চ্যানেলে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠাচ্ছেন। আর শতকরা ৭০ শতাংশ মানুষ অবৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠাচ্ছে। অর্থাৎ সুযোগের অভাবে ৩০ শতাংশ মানুষ বৈধ চ্যানেলে অর্থ প্রেরণ করছে। 

বৈদেশিক কর্মসংস্থান বেড়েছে, সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান তাই বলে। অথচ গত বছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বরে যথাক্রমে ১ দশমিক ৯৩ ও ১ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। অন্যদিকে চলতি বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চে এসেছে যথাক্রমে ২ দশমিক ১০, ২ দশমিক ১৬ ও ১ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন ডলার। এসব অর্থ এসেছে বৈধ চ্যানেলে বা ব্যাংক মাধ্যমে। অথচ হুন্ডি রোধ করা গেলে (কমপক্ষে ৭০ শতাংশ রোধ করা গেলেও) প্রবাসী কর্মসংস্থান খাত থেকে প্রতি মাসে ৩০০ কোটি ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয় হতো বাংলাদেশের। তখন বছরে আয় হতো কমপক্ষে ৩৬ বিলিয়ন ডলার। আমরা সবসময় প্রবাসী শ্রমিক/কর্মচারীদের আয়ের কথা বলি কিন্তু বাংলাদেশের যে নাগরিকগণ বিদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন তারা যখন দেশে বেড়াতে আসেন তারা কী পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বৈধ চ্যানেলে পাঠাচ্ছেন বা তারা যখন দেশে আসছেন তখন বিমানবন্দরে কি কোনোরূপ বৈদেশিক মুদ্রা বৈধভাবে ভাঙাচ্ছেন তা চিন্তা করে দেখেছি আমরা? 

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট ভিজিট করলে দেখা যায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রবাসী আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে জনগণকে বৈধ চ্যানেলে অর্থ প্রেরণের আহ্বান করেছে। আমাদের মনে রাখতে হবে শুধু আহ্বান বা অনুরোধ করার মাধ্যমে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার আহরণ বাড়বে না। তেমন হলে ধর্মীয় আহ্বান বা নির্দেশ-নির্দেশনার মধ্যেই তো সবার ভালো কাজ করার কথা ছিল। মানুষ তাহলে অবৈধ পথে অর্থ পাঠাতেন না। অর্থ যেখানে মুখ্য সেখানে দেশপ্রেম বা অন্য কিছু গৌণ। তাই বাংলাদেশ ব্যাংক/সরকারকে আইনের বিধিবিধান  উপযুক্ত মতে কঠোর করতে হবে। বিদ্যমান বিধিবিধানের সঠিক প্রয়োগ করতে হবে। তখনই কেবল বৈদেশিক মুদ্রার আহরণ বাড়বে। কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছাবে বৈদেশিক আয়। তখন রিজার্ভ বাড়বে। কমবে চলতি হিসাবের ঘাটতি। দেশের মুদ্রার মান বাড়বে। আমদানি পণ্যের ব্যয় কমবে। মুদ্রাস্ফীতি কমবে। তবে এখনকার সংকটজনক পরিস্থিতিতে কী কী করা যেতে পারে সে ব্যাপারে কিছু প্রস্তাবনা;

১. এখন থেকে যারা কাজ নিয়ে বিদেশে যাবেন; যাত্রার আগে সরকারকে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা প্রদান করবেন যে তারা তাদের আয়ের কমপক্ষে ৭০ শতাংশ দেশে প্রেরণ করবেন (অবশ্যই বৈধ পথে)। অন্যথায় সরকার আইনানুগ যে ব্যবস্থা নেবে তা তারা মেনে নেবে। ৩০ শতাংশ অর্থ তারা কর্মস্থলে ব্যক্তিগত খরচ করতে পারে।

২. যারা আগে অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করে যান নাই তাদের পিতামাতা বা তাদের ব্যাংক হিসাবের নমিনি তাদের পক্ষে এখন অঙ্গীকারনামা প্রদান করবেন।

৩. প্রবাসীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বরের সঙ্গে পাসপোর্ট নম্বরের লিংক সংযুক্ত করে দিতে হবে যেন সরকার নিশ্চিত হতে পারে নির্দিষ্ট ব্যক্তি ব্যাংক চ্যানেলে অর্থ প্রেরণ করেছেন কিনা? ব্যাংকগুলো প্রতি মাসে তাদের নমিনিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বৈদেশিক মুদ্রা আহরণ নিশ্চিত করবেন। 

৪. পাসপোর্ট নম্বরের লিংক থাকায় বিমানবন্দরের আগমনী অবস্থানের ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা অথবা পুনরায় বিদেশে গমনের ক্ষেত্রে বহিঃগমন কর্মকর্তা দেখতে পারবেন তিনি বৈদেশিক মুদ্রা বৈধ চ্যানেলে এনেছিলেন কিনা?

৫. বিএমইটি ইমিগ্রেশন কার্ডের সঙ্গে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের লিংক সংযুক্ত করে দিলে বৈদেশিক মুদ্রা বৈধ চ্যানেলে প্রেরণের হিসাব সংরক্ষিত থাকতে পারে। প্রবাসীগণ বিদেশে বসে তার কার্ড চেক করে জানতে পারবেন তিনি কত অর্থ প্রেরণ করেছিলেন এবং পাঠানো অর্থের অ্যান্ট্রি হয়েছে কিনা?

৬. বাংলাদেশের নাগরিক যারা বিদেশে স্থায়ী হয়েছেন এবং পাসপোর্ট পেয়েছেন তারা কমবেশি সবাই হুন্ডি চ্যানেলে অর্থ আনেন। প্রয়োজনে হুন্ডি চ্যানেলে অর্থ নিয়ে যান। এই বিদেশী নাগরিকরা যখন দেশে আসবেন তারা জনপ্রতি দেশ ভেদে ১০০০/৫০০ ডলার/পাউন্ড বিমানবন্দরে ভাঙাবেন ব্যাংক কাউন্টারে। শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকের কাউন্টার থাকবে বিমানবন্দরে এবং তা থাকবে ইমিগ্রেশন অতিক্রম করার আগে। বিমানবন্দরে বৈদেশিক মুদ্রা ভাঙানোর অনলাইন রসিদ দেখালেই কেবল তারা দেশে প্রবেশের ভিসা পাবেন। ‘নো ভিসা রিকোয়ার্ড’ সিল প্রথা বাদ দিতে হবে। অন্য দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করা ব্যক্তিরা বৈদেশিক মুদ্রা ভাঙাবেন তো দেশ ঢোকার অনুমতি পাবেন। এ প্রথা চালু করলে প্রতি বছর ২-৩ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত আয় হবে দেশের।

৭. ইউরোপ, আমেরিকার নাগরিকদের বাংলাদেশে ঢোকার ক্ষেত্রে ভিসা প্রথা বাদ দিয়ে প্রতি বিদেশী ১০০০ ডলার ভাঙাবেন বিমানবন্দরে এবং ১৫ দিনের ভিসা পাবেন। এমন শর্ত দিন। এমন হলে বিদেশীদের আগমন সহজ হবে। বাংলাদেশের রফতানি বাণিজ্যের প্রসার হবে। পর্যটন ব্যবসারও প্রসার হবে। কর্মসংস্থান বাড়বে। এশিয়ার অনেক দেশ, এমনকি ইরান ৩০টির ও বেশী দেশের নাগরিকদের এয়ারপোর্ট অন অ্যারাইভাল ভিসা প্রথা চালু করেছে।

৮. এরপরও হুন্ডি বন্ধে সব রেডিও/টিভিতে বিশেষ প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে। সব টিভি চ্যানেল নিজস্ব উদ্যোগে প্রচার করবে। এমন নয় মন্ত্রণালয়/বাংলাদেশ ব্যাংক একটি বিজ্ঞাপন বানিয়ে দিল এবং টিভি ও রেডিওগুলো তা তোতা পাখির মতো প্রচার করল।

৯. দেশের নাগরিক হিসেবে প্রবাসে আয় করতে যাচ্ছেন আমাদের নাগরিকরা। দেশের স্বার্থ দেখতে হবে আগে। বিদেশের দূতাবাসগুলোকে কর্মতৎপর করতে হবে। বিভিন্ন দেশের বাংলাদেশস্থ দূতাবাসগুলোকে অনুরোধ করতে হবে তারা যেন তাদের দেশে কর্মরত আমাদের দেশের নাগরিকদের বৈধ পথে অর্থ প্রেরণ আইনের মধ্যে আনেন। এতে উভয় দেশের ব্যাংক খাত সুদৃঢ় হবে।

১০. অন্যদিকে প্রতিটি থানায়, ইউনিয়নে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে মাইকিং করতে হবে যেন সবার প্রিয়জন বৈধ চ্যানেলে অর্থ প্রেরণ করেন। বৈধ চ্যানেলে অর্থ প্রেরণ না করলে জবাবদিহি এবং শাস্তি ভোগ করতে হবে সে কথা মাইকে প্রচার করতে হবে।

এ কথা নিশ্চিত করে ধরে নেয়া যায় বৈধ পথে অর্থ আহরণের মাধ্যমেই কেবল বর্তমান বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহজনিত সংকট দূর সম্ভব। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের সনাতনি  হিসাবে ১৭ এপ্রিল নাগাদ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ২৫ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে বিপিএম ৬ অনুযায়ী নিট রিজার্ভ ১৯ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলার। নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও মার্চে ৫ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি রফতানি আয় দেশে এসেছে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি আয় করেছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে প্রবাসীদের কাছ থেকে মার্চে বৈদেশিক মুদ্রা এসেছে ১ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন ডলার। নিশ্চিত করে বলা যায়, প্রবাসী আয় প্রতি মাসে হতে পারে ৩ বিলিয়ন ডলার বা তার চেয়ে বেশি, যদি হুন্ডি রোধ বা মোটা দাগে কমানো যায়।

বৈদেশিক মুদ্রার সংকট উত্তরণে আমরা কার্যকর উদ্যোগ নিইনি। শুধু প্রচলিত গৎবাঁধা আলোচনা করেছি। বিজ্ঞানভিত্তিক আলোচনা হয়নি। মনে রাখতে হবে মানুষ নিজের স্বার্থে দেশপ্রেমিক। আবার নিজের স্বার্থে দেশকে ভুলে যেতে এক সেকেন্ড দেরি করবে না। বাবা-মা কঠোর না হলে শিশুসন্তান বখে যায়। তাদের সুপথে আনতে মাঝেমধ্যে বাবা-মাকে কঠোর হতে হয়। সুষ্ঠুভাবে আইন প্রণয়ন এবং তার সঠিক প্রয়োগের অভাবে আমাদের নাগরিকরা আইন পালনে অনীহা দেখাচ্ছে, অবাধ্য হচ্ছে। তারা হুন্ডিতে অর্থ পাঠাচ্ছে। অনেকেই হুন্ডি ব্যবসায় উৎসাহিত হচ্ছেন। উপযুক্ত ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন করে তাদের কাছ থেকে সুচিন্তিত মতামত নিতে হবে বাংলাদেশ ব্যাংককে। মতামত নিতে হবে অর্থ মন্ত্রণালয়কে। মতামতের ভিত্তিতে সমন্বিত স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশল ঠিক করে তার বাস্তবায়ন করতে হবে। 

আইএমএফের কাছ থেকে অর্থ পেতে যে তৎপরতা চালাচ্ছে তা না করে যদি রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলো নেয়া হতো তবে এতদিনে সংকট উত্তরণের আলো দেখা যেত।

মোহাম্মদ মারুফ হোসেন: রফতানিকারক ও সাবেক পরিচালক

বাংলাদেশ জুট গুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন