ড. এ কে এনামুল হক ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ফ্যাকাল্টি অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকসের ডিন ও অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক। এছাড়া তিনি এশিয়ান সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্টের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিজয়ের ৫২ বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির অর্জন, সম্ভাবনা ও সাম্প্রতিক সংকটসহ নানা ইস্যুতে কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাবিদিন ইব্রাহিম

বিজয়ের ৫২ বছরে এসে আপনার দৃষ্টিতে বাংলাদেশের অর্থনীতি কতদূর এগোল? আমাদের অর্জন কেমন?

নানা দিক থেকেই আমাদের অর্জনের অনেক জায়গা আছে। সাধারণভাবে জিডিপির অংকে বললে অনেক দূর এগিয়েছি। সেই ৯০ টাকা মাসিক উপার্জন থেকে আমরা এখন গড়ে ২৫ হাজার টাকায় পৌঁছেছি। প্রায় ৩০০ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে উপার্জনে। আগে যেখানে ১ টাকা আয় হতো সেখানে তার বিপরীতে আমাদের আয় ২৮২ টাকায় দাঁড়িয়েছে। অর্থনৈতিক বিচারে অনেক বড় অংকের টাকাই বলা চলে। আমাদের থেকে অর্থনৈতিকভাবে কিছুটা এগিয়ে থাকা দেশকেও আমরা সাম্প্রতিক বছরগুলোয় পেছনে ফেলেছি। যেমন আমরা পাকিস্তানকে পেছনে ফেলেছি, ভারতের চেয়ে আমাদের পার ক্যাপিটা ইনকাম (মাথাপিছু আয়) ৩০০ ডলার বেশি। এ আর্থিক অবস্থা অনেকের কাছেই ঈর্ষান্বিত হওয়ার মতো। কেননা এ অঞ্চলে আমাদের চেয়ে বেশি আয় কেবল মালদ্বীপ ও শ্রীলংকার। এমনকি মিয়ানমার থেকেও আমাদের আয় বেশি! ইতিবাচক ব্যাপারগুলো নিয়ে বলতে হলে আরো বলতে হয় যে স্বাধীনতার পর আমাদের দারিদ্র্য হার ছিল ৮২ শতাংশ, যা এখন ২১-২২ শতাংশে নেমে এসেছে। কত লোক না খেয়ে থাকত—এমন লোকদের বিবেচনায় আনলেও তিনবেলা না খেয়ে থাকতে পারা লোকের হারও এখন মাত্র ১১ শতাংশ! পরিবর্তনের ছাপটা আসলে দৃশ্যমান এবং এগুলো উন্নয়নের চিহ্ন বহন করে। সংকটের দিক বলতে গেলে, ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য বেশ বেড়েছে। শঙ্কার বিষয় হলো, এত ধনী হলাম অথচ ধনী লোকেরা দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছে! এভাবে ধনী ও তরুণ অংশের দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া কোনো ভালো ইঙ্গিত বহন করে না। বিরোধী পক্ষের ধনীরা তো ভয় পাচ্ছেই, সরকার পক্ষের লোকজনও ভয়ে আছে। অর্জনের পাশাপাশি দেশ ছেড়ে পালানোর অনেক নেতিবাচক দিক থাকতে পারে যা আমাদের চিন্তায় ফেলার মতোই বিষয়।

মৌলিক অধিকার নিশ্চিতে আমাদের অর্জন কতটুকু; বিশেষ করে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে আমরা কেমন এগিয়েছি? 

সাফল্যের দিকে তাকালে, শিক্ষায় গড়ে এনরোলমেন্ট (ভর্তি) বেড়েছে। প্রায় প্রতিটি শিশুই স্কুলে যায়। তবে শিক্ষার মান কমে গেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র ভর্তিতে অনেক এগিয়েছি কিন্তু মানে এগোয়নি। আমরা অর্থনীতিতে বিশ্বের ৩৫তম দেশ হলেও উদ্ভাবন সূচকে ১৪০তম। বোঝাই যাচ্ছে, শিক্ষার মানে দিনদিন পিছিয়েছি। নতুন উদ্ভাবনের পরিপ্রেক্ষিতে এগোতে না পারলে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে আমরা ব্যর্থ বলে গণ্য হব। প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে আমরা খড়কুটোর মতো ভেসে বেড়াব, যদি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের দরকারি জায়গাগুলোয় দৃষ্টিপাত না করতে পারি। আমাদের স্বাস্থ্য খাতকে বিকেন্দ্রীকরণ করা দরকার, না হলে গ্রামের মানুষের শহরে ছুটে আসা আর শহরের মানুষের বিদেশে পাড়ি দেয়া থামিয়ে রাখা যাবে না। কিন্তু ১৭ কোটি লোক ঢাকাকেন্দ্রিক চিকিৎসা নিয়ে পড়ে থাকবে, এটা ভালো লক্ষণ নয়। শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার আমাদের কমেছে—এটা বেশ ইতিবাচক। কিন্তু আমাদের পরবর্তী ধাপে তাকাতে হবে। এক মুঠো গুড় ও এক চিমটি লবণ দিয়ে স্যালাইন বানিয়ে দেশ থেকে কলেরা বিতাড়িত করেছিলাম। এটা আমাদের জন্য যত সহজ ছিল এখন আমাদের স্বাস্থ্যগত চ্যালেঞ্জ ততটা সহজ নয়। আমাদের লাইফস্টাইলে পরিবর্তন আনার মতো বিষয়গুলোতেও জোর দিতে হবে। শহরে খোলা জায়গা বেশি না রাখতে পারলে বেশির ভাগ মানুষই ডায়াবেটিকসে আক্রান্ত হবে। এখন আমাদের অনেক চিন্তাভাবনা করে ইকোনমিক জায়গাটা মাথায় নিয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে। সিদ্ধান্ত গ্রহণে আমাদের বুদ্ধিমত্তা, পেশাদারত্ব দরকার, খামখেয়ালিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে না।

আমাদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে কোয়ান্টিটি বা সংখ্যাগত জায়গায় উন্নতি করেছি, কোয়ালিটি বা গুণগত জায়গায় কতটুকু উন্নতি দেখি? শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিকের সংখ্যা বেড়ে চলছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যগত সেবার মান কি বেড়েছে?

শুরুতে কোয়ান্টিটি বা সংখ্যাগত দিক থেকে এগোনো প্রয়োজন ছিল। সংখ্যাগত জায়গায় উন্নতি করতে না পারলে আসলে পরবর্তী ধাপে যাওয়া যায় না। এখন আমাদের পরবর্তী ধাপে যেতে হলে পলিসিগত পরিবর্তন দরকার। যে পলিসিতে আমরা কোয়ান্টিটি বাড়িয়েছি একই পলিসিতে আমরা কোয়ালিটি বা গুণ বাড়াতে পারি না। যেভাবে চলছি সেভাবে হবে না। শিক্ষার মানোন্নয়নে আমাদের কোয়ালিটিটিভ পরিবর্তন আনতে হবে। অর্থনীতিতে একটা দেশ বিশ্বের ৩৫তম দেশ, অথচ গবেষণায় অর্থ খরচ করে না। তাহলে কীভাবে কোয়ালিটি বাড়বে? ইনোভেশন না থাকলে কোনো জাতি উন্নত হতে পারে না। উন্নত জাতিতে পরিণত হতে হলে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলোর মতো ভাবতে হবে। ১৯৭২ সাল পর্যন্ত চীন আমাদের সমপর্যায়ে ছিল, দক্ষিণ কোরিয়া এখন স্যামসাংয়ের মালিক অথচ একসময় তারা আমাদের সঙ্গে অর্থনৈতিক দৌড়ে ছিল। সবই সম্ভব হয়েছে তাদের নতুন উদ্ভাবনের ফলে। তাই আমাদের ফোকাসও চেঞ্জ করতে হবে।

পর্যাপ্ত উদ্ভাবন ও গবেষণার অভাবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বেকার তৈরির কারখানায় পরিণত হয়েছে বলে মনে করেন অনেকেই। আপনি এ বিষয়টি কীভাবে দেখছেন? 

সেটা সত্য হলেও এভাবে দেখার দরকার নেই। বুয়েটকে আমরা দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গণ্য করলেও এ প্রতিষ্ঠানের ছাত্ররাও দেশ ছেড়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ শিক্ষার মান এভাবে চিন্তা করলেও কিন্তু বাড়ছে না। শিক্ষিত শ্রেণীর কর্মসংস্থান নিশ্চিতে পাবলিক ও ইকোনমিক পলিসিতে পরিবর্তন আনতে হবে। বাইরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমরা কাজ করলেও তারা তাদের রিসার্চ উইংটা এ দেশে আনে না। যদি তারা এখানে রিসার্চ উইং চালু করে তাহলে চাকরির ক্ষেত্রও বাড়বে। দেশের গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রি এত এগিয়েছে, অথচ সেখানে এদেশের শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থান নেই। যতটুকু আছে সেখানে ভারতীয় ও শ্রীলংকানদের উপস্থিতি বেশি। এরপর যদি আমাদের দ্বিতীয় বৃহৎ শিল্প খাত আবাসনের দিকে তাকাই, সেখানে কতজন বুয়েটের লোক চাকরি করে কিংবা কতজন যোগ্য ইঞ্জিনিয়ার রয়েছে? উত্তর হচ্ছে, সেখানে নেই। তার মানে এসব ইন্ডাস্ট্রিতে কোয়ালিটির পরিবর্তন করতে হবে। এ পরিবর্তন আসলে সরকারের পলিসির পরিবর্তন। যেভাবে চলছে, এভাবে চললে বেকারত্ব বাড়বেই। এমনকি শিক্ষার মান বাড়লেও বেকারত্ব বাড়বে। অধিকাংশ ডাক্তার, প্রকৌশলী বিসিএস দিচ্ছে। আমি স্রেফ ভুঁইফোঁড় ইউনিভার্সিটির কথা বলছি না। ঢাকা মেডিকেল, বুয়েটের ছেলেরা বিসিএসের পেছনে দৌড়াচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বারান্দায় অধিকাংশ ছাত্র বিসিএসের প্রিপারেশন নেয়। তার মানে আমাদের কর্মসৃজন পলিসি নেই। এর দায় তো বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ জব তৈরি করা নয়। তারা কর্মী সাপ্লাই করবে তা ঠিক আছে, কিন্তু তা ডিমান্ড করবে সেসব প্রতিষ্ঠান কোথায়? 

জব ক্রিয়েশন পলিসি ছাড়া এগিয়ে তার দোষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর চাপিয়ে দেয়া যায় না। যত দিন পর্যন্ত পাবলিক পলিসিতে আমরা জব ক্রিয়েশনে যদি নজর না দিই, যত যোগ্য গ্র্যাজুয়েটই হোক না কেন তাদের প্রথম লক্ষ্য হবে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া। ১০০টি মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৈরি করলেও যদি জব ডিমান্ডের জায়গা থেকে নতুন কোনো চাকরির ক্ষেত্র তারা না পায়, তাদের কাউকে ধরে রাখা যাবে না। কারণ আমাদের সাপ্লাই সাইডে কোনো ব্যবস্থা নেই। বেকার গ্র্যাজুয়েটদের নিয়ে আফসোস করছি, অথচ এটা ভাবছি না যে এমপ্লয়ার তৈরি কেন হচ্ছে না? এমপ্লয়ার তখনই তৈরি হবে যখন আমাদের দেশের প্রফিট আমাদের প্রয়োজনে বিনিয়োগ করা সম্ভব হবে। কিন্তু আমার দেশের প্রফিট বা লাভের অর্থ বিনিয়োগ হচ্ছে সিঙ্গাপুরে, দুবাইয়ে! সরকারের প্রথম চিন্তা হওয়া দরকার এই যে যারা নাগরিকত্ব ছেড়ে দিচ্ছে, দ্বৈত নাগরিকত্ব নিচ্ছে, দেশ থেকে পালিয়ে অন্য দেশের বিলিয়নেয়ারের তালিকায় নাম লেখাচ্ছে, তাদের আটকানো। দোষ কেবল তাদের নয়, আমাদের পাবলিক পলিসি বা সরকারি নীতিরও। সরকারি নীতিতে যদি ঐকমত্য তৈরি করতে না পারি তাহলে সে নীতিতে আস্থা পাওয়ার কথাও নয়। সরকারি ও বিরোধী উভয় দলকেই অর্থনীতির ব্যাপারে ঐকমত্যে পৌঁছতে হবে। এ জায়গাগুলোয় পরিবর্তন না আনলে রাজনৈতিক দলের রদবদলেও কেউ আসলে মাথা ঘামাবে না। দুই দলেরই ধনী লোকরা দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছে—এটাই নির্মম সত্য।

২০২৬ সালে এলডিসি থেকে আমাদের উত্তরণ হচ্ছে। এখন উন্নয়নশীল দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশ হতে হলে আমাদের কী করণীয়?

অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্যারামিটারে আমরা তো অনেকটাই এগিয়ে গেছি। আমরা যে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশের দিকে এগোচ্ছি তাতে কারো কোনো দ্বিমত নেই। চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, আমরা এখনো মূলত গার্মেন্টসমুখী। আমাদের বুঝতে হবে গার্মেন্টস এখন একটা পরিপক্ব শিল্প। এ রকম পরিপক্ব শিল্প খাতকে অতিরিক্ত সুরক্ষা দেয়া চলবে না। তাদের এখন বাজারে ছেড়ে দিতে হবে নিজের সক্ষমতায় চলার জন্য। এখন আমাদের নতুন কয়েকটি শিল্পকে দাঁড় করাতে হবে। ১৯৮০ সাল থেকে যে গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রি সরকারি সহায়তা পেয়েছে সে সহায়তা নতুন শিল্প খাতকে দিতে হবে। 

আমরা মধ্যম আয়ের দেশ হতে চাইলে প্রতিষ্ঠিত শিল্পগুলো বিশ্ব মঞ্চে নিজ সক্ষমতায় প্রতিযোগিতা করতে হবে। এটাকে আর সরকারি সুরক্ষা কবজে রাখার কিছু নেই। এখন আমাদের প্রয়োজন নতুন শিল্পকে সুরক্ষা কবজে আনা এবং সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়া। কিন্তু আমাদের মাথায় একটা ভুল ধারণা গেঁথে গেছে—একটা শিল্পকেই সাহায্য করতে হবে। আমাদের রফতানি খাতে বৈচিত্র্য আনতে হবে। আমরা যদি নতুন শিল্প সৃষ্টি না করি এবং রফতানি গন্তব্য সম্প্রসারণ না করি তাহলে আমরা বিপদে পড়ব। বিদ্যমান রফতানি বাজারে গার্মেন্ট খাতকে সহায়তা করা যাবে না। যদি চীন ও ভারতের মতো বড় বাজারে প্রবেশ করতে চায় তাহলে সহায়তা দেয়া যায়। শুধু ইউরোপের বাজারে টিকে থাকতে গার্মেন্ট খাতকে সহায়তা করা যাবে না। একক বাজারে নির্ভরশীলতায় যেকোনো সরকারই বিপদে থাকতে পারে। 

গার্মেন্ট শিল্পের বাইরে বাংলাদেশে আর কোন কোন খাত সম্ভাবনাময়?

গার্মেন্টের বাইরেও আমাদের অনেকগুলো খাতে ভালো করার সুযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে আমি প্রায়ই কিছু উদাহরণ দিয়ে থাকি। যেমন আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত কয়েক বছর ধরে বার্ষিক প্রায় ১০ লাখ গাড়ি তৈরি করছে, চীন তৈরি করছে ১৪ লাখ গাড়ি। এখন আমরা যদি এসব দেশে গাড়ির টিউবের বাজারও ধরতে পারি তাহলে আমাদের জন্য বিশাল বাজার সৃষ্টি হবে। তাই আমাদের এসব বাজার সৃষ্টির দিকে নজর দিতে হবে। পাশাপাশি আমরা যদি বৈদ্যুতিক লাইটের কাভারের মার্কেট ধরতে পারি তাহলে আমরা কত বড় একটি বাজার ধরতে পারব সেটা আমাদের চিন্তা করতে হবে। আমরা যদি ডোর হ্যান্ডেল তৈরি করতে চাই তাহলে আমরা কত বড় বাজার পাব! এর মাধ্যমে কিন্তু আমাদের প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রি বহু দূর এগিয়ে যাবে। সুতরাং রফতানিতে এখন আমাদের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনের কথা চিন্তা করতে হবে। অন্যথায় সরকারে যে-ই আসুক তারা হুমকির মুখে পড়বে। এছাড়া আপনি যদি পোশাক খাতে দেখেন, আমরা কিন্তু এখনো আমাদের আশপাশের অনেক দেশে এর বাজার সৃষ্টি করতে পারিনি। সেদিকেও আমাদের নজর দিতে হবে। আমরা শুধু ইউরোপীয় বাজারের দিকেই আমাদের দৃষ্টি নিবদ্ধ করে রেখেছি। অন্যদিকে আমাদের আশপাশের যে দেশগুলো আছে সেদিকে বাজার সৃষ্টিতে আমাদের তেমন কোনো উদ্যোগ নেই। 

বছর দেড়েক ধরেই নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠা কতটুকু জরুরি?

আমাদের দেশের ধনীরা দেশ ছেড়েই চলে যাচ্ছে। কারণ তারা এখানের রাজনীতিতে আস্থা পাচ্ছে না। দেশে যদি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না থাকে তাহলে ক্ষমতাসীন দলের ব্যবসায়ীরাই দেশে থাকার আস্থা পাবে না। আর এ বিষয়গুলো খোলামেলাভাবেই হচ্ছে, লোকচক্ষুর আড়ালে হচ্ছে না। সরকারি দলের লোকজনই অন্য দেশের নাগরিকত্ব নিয়ে বিদেশ চলে যাচ্ছে। এমনটা হলে অন্যরা কীভাবে আস্থা পাবে? এজন্যই বলি, দেশে আইনের শাসন জারি রাখা প্রয়োজন। তাহলে মানুষ রাজনৈতিক আস্থা পাবে। উদাহরণ হিসেবে যদি বলি, আমাদের দেশের যেসব লোকজন ইউরোপে থাকে তারা সেটা নিয়ে প্রাউড না? অন্য দেশে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হয়ে কে থাকতে চায়? কিন্তু তারা দেশে আসতে ভয় পাচ্ছে। তার কারণ সেখানে আইনের শাসন রয়েছে, বাংলাদেশে নেই। কোনো দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য আইনের শাসন জরুরি উপাদান। অন্যথায় কেউই দেশে কিছু করার আস্থা পাবে না। যদি আমরা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে না পারি তাহলে আমাদের কী হবে এটা বলা মুশকিল। এটা শ্রীলংকা হবে নাকি সিঙ্গাপুর হবে তা বলা যাচ্ছে না। অন্যদিকে দেশে যদি আইনের শাসন থাকে, দল-মত নির্বিশেষে সবাই আস্থা পায়। অর্থনীতিতে এগিয়ে নিতে হলে এ আস্থার জায়গা নিশ্চিত করতে হবে।