বাংলাদেশের নারীর রাজনৈতিক আন্দোলন ও কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের এক গৌরবময় ঐতিহ্য রয়েছে। বিশেষ করে ব্রিটিশ শাসনামলে বিভিন্ন আন্দোলন ও সংগ্রামে এ অঞ্চলের নারীরা পুরুষের পাশাপাশি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়া, অধিকার দাবিতে সোচ্চার হওয়া, বাঙালি মুসলিম মেয়েদের রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও ঘরের বাইরে এসে প্রত্যক্ষ আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেছে। পরবর্তী সময়ে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন এবং মুক্তিযুদ্ধে এ দেশের নারী সমাজের অংশগ্রহণ ছিল প্রশংসনীয়। তাই বাংলাদেশের নারীর রাজনৈতিক আন্দোলন ও কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের ভূমিকা অপরিচিত কোনো বিষয় নয়। রানী ভবানী, নবাব ফয়জুন্নেসা, সুলতানা রাজিয়া, প্রীতিলতা, ইলা মিত্র, লীলা নাগ, আশালতা সেন, মনোরমা বসু, জোবেদা খাতুন, বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন, কবি সুফিয়া কামাল, জাহানারা ইমাম, শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া প্রমুখ বাংলাদেশে রাজনৈতিক নারীর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি নাম।

বাংলার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আন্দোলনের ঘটনাপ্রবাহ, রাজনৈতিক ঘটনাবলির গভীর প্রভাব অবিভক্ত ভারতের নারী আন্দোলনের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ দিক, যা পরবর্তী সময়ে স্বাধীন বাংলাদেশে নারী আন্দোলনের একটি নির্দিষ্ট চরিত্র দান করেছে। নারীর বিদ্রোহ-বিক্ষোভ, আন্দোলন এমনকি বিপ্লবী কর্মকাণ্ড নারীকে একক বীরত্বের মহিমায়ও উদ্ভাসিত করেছে। বিদেশী শাসক-শোষকের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করার সংগ্রামে একদা সংগঠিত নারীসমাজ বিশ শতকের শেষ পর্যায়ে এসে যুক্ত হয়েছে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে। তারা রাজনৈতিক অধিকার আদায়ে ও সামরিক শাসন উচ্ছেদের লড়াইয়েও নিজেদের সম্পৃক্ত করেছে। ঊনবিংশ শতকের শেষার্ধে এবং বিংশ শতকের প্রথমার্ধে ভারতীয় জাতীয়বাদী আন্দোলন নারীদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হতে প্রভাবিত করে। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের জন্মলাভের পর ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলার নারীরা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হতে থাকে। বিশেষ করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়া, অধিকার দাবিতে সোচ্চার হওয়া। বাঙালি মুসলিম মেয়েদের রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও ঘরের বাইরে এসে প্রত্যক্ষ আন্দোলন সংগ্রামে অংশগ্রহণের পেছনে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ভূমিকা সবচেয়ে প্রত্যক্ষ, একক ও মহোত্তম। ’৬০-এর দশক থেকে বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন সুস্পষ্ট গতিবেগ পেতে থাকে যার অগ্রভাগে ছিল নারী সমাজ। এ সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরাও ক্রমবর্ধমান হারে ছাত্ররাজনীতিতে অংশগ্রহণ করতে থাকে। আর উত্তাল এ ছাত্ররাজনীতিই সূচনা করেছিল ’৬৯-এর গণ-আন্দোলন। ’৭৫-পরবর্তী সময়টায় আমাদের দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা চরম আকার ধারণ করে। ’৮০-এর দশকে স্বৈরাচারবিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামে ব্যাপক সংখ্যক নারীর অংশগ্রহণ নারীদের জাতীয় রাজনীতির স্রোতধারায় সম্পৃক্ত করে। আশির দশকের গোড়ায় দুজন মহিলা, খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা, যথাক্রমে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর পদ দখল করে। দীর্ঘ এক দশক স্বৈরশাসন-বিরোধী আন্দোলনের পর ১৯৯১-এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে তারা দুজন যথাক্রমে সংসদ নেত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রীর পদ অলংকৃত করেন। ১৯৮৩ থেকে ১৯৯০—এ সময়টায় অসংখ্য আন্দোলন-সংগ্রামে সারা দেশব্যাপী নারীরা শরিক হন। জুলুম, নির্যাতন মোকাবেলা করেন, অনেকে আহত হন। ১৯৯৬-এর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের আন্দোলনে নারী সমাজের অংশগ্রহণ ছিল ব্যাপক। এভাবে বাংলার নারীরা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর হতে ২০২০ সালের মধ্যে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্দোলন, যৌতুকবিরোধী আন্দোলন, শিক্ষানীতি-বিরোধী আন্দোলন, রাষ্ট্রধর্ম বিল-বিরোধী আন্দোলন, ইউনিফর্ম কোড-বিরোধী আন্দোলন, ফতোয়ার প্রতিরোধ, মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদ, যৌন নিপীড়ন-ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন, অ্যাসিড নিক্ষেপবিরোধী কঠোর আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে। ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে যে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠা পর্ব শুরু হয়েছে সেখানে জাতীয় সংসদের স্পিকার, সংসদ উপনেতা, সংসদের হুইপ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রীর মতো মর্যাদাপূর্ণ পদে নারীরা নিয়োগ পায়। 

উল্লিখিত আন্দোলনগুলো ছাড়াও আশির দশকের মধ্যভাগ থেকে দেশে ’৭১-এর ঘাতক-দালাল বিরোধী (War Criminals) আন্দোলন সংগ্রামের সূচনা করেন শহীদ জননী জাহানারা ইমাম। ক্যান্সারাক্রান্ত তেজোদৃপ্ত এ সংগ্রামী নারীর নেতৃত্বে দেশে হারিয়ে যাওয়া মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনরায় উদ্দীপ্ত হয়। পোশাক শিল্পের লাখ লাখ নারী এখন শ্রমিক আন্দোলনে শামিল হচ্ছেন। আর এভাবেই নব নব কর্মোদ্দীপনা ও রাজনৈতিক আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলার নারী ভাঙছে তার হাজার বছরের শেকল।

‘নারী আন্দোলন’ কথাটি অনেক বড় অর্থ ধারণ করে। সারা পৃথিবীতে নারী আন্দোলনের বিষয়ে অনেক কাজ হয়েছে। বাংলাদেশেও নারী আন্দোলনের ইতিহাস বেশ দীর্ঘ। ১৯৭১-২০২০ পর্যন্ত রাজনৈতিক আন্দোলনে বাংলার নারীরা ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করে। ১৯৭০ সালের ৪ এপ্রিল সর্বজন শ্রদ্ধেয় বেগম সুফিয়া কামালের নেতৃত্বে পূর্ব পাকিস্তানের মহিলা পরিষদ (বর্তমানে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ নামে পরিচিত) প্রতিষ্ঠিত হয়। মিসেস জোবেদা খাতুন চৌধুরী, বেগম আবুল হাশিম, নূরজাহান বেগম প্রমুখ এ সংগঠনে যুক্ত ছিলেন। স্বাধীনতাযুদ্ধে নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং তাদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নের জন্য এটিই একমাত্র সংগঠন। স্বাধীনতা উত্তরকালে ১৯৭২ সালে জাতীয় সংসদে এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে সংরক্ষিত মহিলা আসনে প্রত্যক্ষ নির্বাচনের দাবি প্রথম তুলেছে মহিলা পরিষদ। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নারী বিষয় নিয়ে আন্দোলন করার দাবি, নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলন, আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দাবি, নারী শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থানের দাবিতে সংগ্রাম করছে মহিলা পরিষদ।

সিডও সনদে (নারীর প্রতি বৈষম্য দূরীকরণ সনদ/CEDAW) সরকারের পূর্ণ সম্মতির দাবিতে মহিলা পরিষদ প্রথম আন্দোলন শুরু করেছে ১৯৮৪ সালে। নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে ১৯৮৫-তে প্রতিরোধ কমিটি গঠন করে আন্দোলন করছে। নারীর অধিকার, মানবাধিকার দাবিতে, ইউনিফর্ম ফ্যামিলি কোডের দাবিতে মহিলা পরিষদ সর্বপ্রথম আন্দোলন শুরু করে। তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত সংগঠনটি বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের অগ্রণী সংগঠন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে নারীরা নানাভাবে সক্রিয় অংগ্রহণ করেন, দুই লাখ বাঙালি নারী ধর্ষিতা হন জিন্নাত আরা, শিরিন বানু মিতিল, তারামন বিবি বীরপ্রতীকের মতো নারীদের সশস্ত্র অংশগ্রহণ। ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের মূল সংবিধানে অনুচ্ছেদ ২৭-এ, সর্বস্তরে নারী-পুরুষের সমতা ঘোষণা এবং অনুচ্ছেদ ৬৫(৩)-এ নারীর রাজনৈতিক সমতা অর্জনের লক্ষ্যে সংসদে আসন সংরক্ষণের ঘোষণা করা হয়, মুসলিম বিবাহ ও বিবাহবিচ্ছেদ রেজিস্ট্রির জন্য আন্দোলন এবং বিধিমালা প্রণয়ন, ২৬ জুন ১৯৭২ সালে তৎকালীন আইনসভার স্পিকার মির্জা গোলাম হাফিজের কাছে ১৭ হাজার মহিলার স্বাক্ষরসহ যৌতুকবিরোধী আইন প্রণয়নের দাবি পেশ। ১৯৮৫ সালে মহিলা পরিষদের তীব্র আন্দোলনের মুখে অ্যাসিড নিক্ষেপবিরোধী অধ্যাদেশ-১৯৮৫ প্রবর্তন। ১৯৮৫-৯৪ সালে একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল আন্দোলনে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের অবিস্মরণীয় নেতৃত্ব। ১৯৮০-৯০ সালে গোটা দশকে দেশের দুই প্রধান দল বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার সফল আত্মপ্রকাশ ও আত্মপ্রতিষ্ঠা।

১৯৮৮ সালে এরশাদ সরকার রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বিল পাস করানোর পরিপ্রেক্ষিতে নারীপক্ষ কর্তৃক মামলা দায়ের। ১৯৯০ সালে পরিবেশবাদী চিংড়িঘের-বিরোধী আন্দোলনে চিংড়িঘেরের নারী শ্রমিক করুণাময়ী সর্দ্দারের মৃত্যু। ১৯৯১ সালে দীর্ঘ নয় বছরের স্বৈরশাসনের অবসানের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী ও শেখ হাসিনা বিরোধীদলীয় নেত্রী নির্বাচিত। ১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী ও খালেদা জিয়া বিরোধীদলীয় নেত্রী নির্বাচিত। ১৯৯৭ সালের ৮ মার্চ বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ১৪ দফা জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালা ঘোষিত হয়।

১৯৯৮-২০০৯ সালে তারামন বিবি ও সেতারা বেগমের মতো প্রান্তিক নারী মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান, জাতীয় পরিচয়পত্র ও সব সরকারি সনদপত্রে পিতার নামের পাশাপাশি মায়ের নাম সংযোজনের যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নারী নিবর্তনমূলক মধ্যযুগীয় ফতোয়া প্রথা নিষিদ্ধ করে হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়, অ্যাসিড সন্ত্রাস ও যৌন নিপীড়ন রোধে কঠোর শাস্তির বিধান সংবলিত আইন প্রণয়ন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলে পুলিশি হামলার প্রতিবাদে সফল ছাত্রী অভ্যুত্থান, স্থানীয় সরকার কাঠামোয় ব্যাপক নারীদের যুক্তকরণ। ২০১০-২০ সালের মধ্যে বাংলার নারীরা রাজনৈতিক আন্দোলনে আরো সক্রিয় হয়। ২০১১ সালে নারীদের দাবির মুখে প্রগতিশীল নারী উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন ৫০-এ উন্নীত করা হয়েছে। ২০২০ সাল নাগাদ সব রাজনৈতিক দলের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য রাখার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত নারী প্রতিনিধি আছে ১২ হাজারের মতো। বাংলাদেশই সম্ভবত পৃথিবীর একমাত্র দেশ যেখানে সংসদ নেতা, সংসদীয় উপনেতা, বিরোধীদলীয় নেত্রী ও স্পিকার, শিক্ষামন্ত্রী—তারা সবাই নারী। 

নারীর রাজনৈতিক আন্দোলনের অর্জন মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী একুশ শতকের শুরুতে গুণগতভাবে বেড়েছে। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার আন্দোলন চলছে। নারী-পুরুষের সম-অধিকারের বিষয়ে সমাজে এখনো পুরুষতান্ত্রিক বৈষম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। সামাজিক এবং রাজনৈতিক কূপমণ্ডকতা ধীরে ধীরে কমছে। কিন্তু নারীকে ভোগ্যপণ্য হিসেবে বিবেচনা করা বাড়ছে। উচ্চ শিক্ষা, ব্যবসায়, সংসদে, রাজনৈতিক উচ্চ পদে, প্রশাসনে, নানা পেশায়, সেনাবহিনীতে, পুলিশ প্রশাসনে, গার্মেন্টসসহ শিল্প-কারখানায় আত্মকর্মসংস্থানে নারী আজ দৃশ্যমান। একাদশ জাতীয় সংসদে বর্তমানে ৭৩ জন নারী, ৫০ জন সংরক্ষিত আসনে এবং ২৩ জন সরাসরি ভোটে নির্বাচিত। অর্থাৎ প্রায় ২১ শতাংশ নারী আছে, যা নারীদের রাজনৈতিক আন্দোলনেরই সুফল। নারীরা আজকে দীর্ঘ প্রচেষ্টা ও রাজনৈতিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে। নারী মুক্তি, নারী প্রগতির বিষয়ে বাংলাদেশের সমাজে মিশ্র প্রতিক্রিয়া চলছে। নিশ্চয়তার অভাব, নির্যাতনের শঙ্কা, চলাফেরার স্বাধীনতার অভাব, শিশুরক্ষণ কেন্দ্রের অভাব, নারীর প্রতি মর্যাদাপূর্ণ দৃষ্টির অভাব নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের পথে বাধা হিসেবে রয়েছে। বাংলার নারীসমাজ এসব চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে তৃণমূল পর্যন্ত নারী আন্দোলন প্রসারিত করে চলছে। একুশ শতক হয়ে উঠবে সমতার যুগ—সেটাই নারীর রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রত্যাশা।

ফারজানা আক্তার ও মো. তানভীর হোসাইন: এমফিল গবেষক, ইতিহাস বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়