মেহেদী আহমেদ আনসারী বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক। জাপানের দ্য ইউনিভার্সিটি অব টোকিও থেকে ফোকাস অন আর্থকোয়াক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওপর ১৯৯৬ সালে পিএইচডি অর্জন করেন। তিনি বাংলাদেশ আর্থকোয়াক সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি। বুয়েট-জাপান ইনস্টিটিউট অব আরবান সেফটি অ্যান্ড ডিজাস্টার প্রিভেনশনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক। রূপপুর পাওয়ার প্লান্টের কনস্ট্রাকশন ওভারসাইট কমিটির সদস্য। আন্তর্জাতিক জার্নালে ২৬০টির বেশি গবেষণাপত্র প্রকাশ হয়েছে তার। ঢাকার অবকাঠামো, আবাসন, ভূমিকম্পের ঝুঁকি-প্রস্তুতি এবং রাজউকের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আল ফাতাহ মামুন
সম্প্রতি ঘন ঘন ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটছে। এর কারণ কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?
এ সম্পর্কে বলতে গেলে আমাকে একটু পেছনের দিকে যেতে হবে। বাংলাদেশ এবং আশপাশে গত ১০০-১৫০ বছরে প্রায় পাঁচ থেকে ছয়টি বড় ভূমিকম্প হয়েছে। তাছাড়া ১৭৬২ সালে একটি বিচ্ছিন্ন ভূমিকম্প হয়েছে, যেটা প্রায় ৮ দশমিক ৫ মাত্রার। এটা চিটাগাং বেল্টে হয়েছে। যেটার সঙ্গে সুনামিও হয়েছিল। ১৮৬৯ সালে সিলেটের খুব কাছেই ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল। ১৮৮৫ সালে হয়েছে বেঙ্গল ভূমিকম্প। যেটা বাংলাদেশের ভেতরে সিরাজগঞ্জের কাছেই হয়েছে। যে কারণে যমুনা সেতু ডিজাইন করা হয়েছে। ১৮৯৭ সালে গ্রেট ইন্ডিয়ান আর্থকোয়াক ছিল ৮ মাত্রার এবং ১৯০৮ সালে শ্রীমঙ্গলে ভূমিকম্প হয়েছিল ৭ দশমিক ৬ মাত্রার। সর্বশেষ ১৯৩০ সালে ধুবিড়ি আর্থকোয়াক, যেটা রংপুরে হয়েছিল। এর মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ১। এগুলোর সবই ছিল ৭ মাত্রার বেশি। তারমধ্যে যেগুলো ৭ মাত্রার ভূমিকম্প সেগুলো ১০০-১৫০ বছর পরপর আসে। আর যেগুলো ৮ মাত্রার সেগুলো মোটামুটি ২৫০ থেকে ৩০০ বছর পরপর আসে। ১৫০ বছরের সাইকেল হিসেবে আমাদের এখন ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ার শঙ্কা খুবই বেড়েছে। গত পাঁচ-ছয় বছরের মধ্যে এ বছর ভূমিকম্পের সংখ্যাটা অনেক বেড়েছে। আমি একটা পরিসংখ্যানে দেখিয়েছি, গত দুই মাসে বাংলাদেশ ও এর আশপাশে প্রায় ৩৪টি ভূমিকম্প হয়েছে। গত বছরের সঙ্গে তুলনা করলে এ বছর প্রতি মাসে ১৫টি করে ভূমিকম্প হয়েছে। এর সবগুলোই যে বড় তা নয়। সাধারণত ৪ মাত্রার বেশি ভূমিকম্প হলেই সেটা মানুষ ও ভবনের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়।
তার মানে কি এ ছোট ছোট ভূমিকম্প বড় ভূমিকম্পের বার্তা দিচ্ছে? সেক্ষেত্রে আমাদের কী ধরনের প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন?
এখানে দুটো থিওরি আছে। ছোট ছোট ভূমিকম্প হলে বড় ভূমিকম্প নাও হতে পারে আবার বড় ঝাঁকুনির প্রস্তুতি হিসেবে ছোট ছোট ভূমিকম্প হয়ে থাকে। প্রশ্ন হলো আমরা কোনটা বিবেচনায় নিয়ে এগোব? আমাদের তো অবশ্যই সতর্ক পদক্ষেপ নিতে হবে। বড় ভূমিকম্পের প্রস্তুতি যদি নিই তাহলে আমরা ঝুঁকিমুক্ত। কিন্তু আমরা যদি মনে করি ছোট ছোট ভূমিকম্প হচ্ছে, তাই বড় ভূমিকম্প হবে না, আর সত্যিই যদি বড় ভূমিকম্প হয়েই যায় তাহলে যে বিপর্যয় নেমে আসবে তা কল্পনা করাও অসম্ভব। ২০১৫ সালে যখন নেপালে ভূমিকম্প হয় তখন আমি সরকারি যে কমিটিগুলোয় কাজ করেছিলাম, বারবার বলেছিলাম রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর আমরা যেমন ভবনগুলো চেক করেছি, চেক করে সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা করেছি; ঠিক একইভাবে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বড় শহরগুলোর বিল্ডিংগুলো চেক করে সার্টিফিকেশনের ব্যবস্থা করতে হবে। এটার খরচ খুব বেশি হবে না। ইনিশিয়াল বিল্ডিং চেকিংয়ের আনুমানিক পাঁচ কাঠা জমির ওপর নির্মিত ছয়তলা বিল্ডিংয়ের জন্য খরচ হতে পারে ৩ লাখ টাকা। একটা অ্যাপার্টমেন্ট আমরা মিনিমাম ১ কোটি টাকা দিয়ে কিনছি। ভালো জায়গায় এটা ৩-৪ কোটি টাকা হতে পারে। গড়ে ২ কোটি টাকা ধরি। একটা বিল্ডিং চেক করতে টোটাল যদি ৩০ লাখ টাকা খরচ হয় তাহলে একটা অ্যাপার্টমেন্টের জন্য পড়ে ৩০ হাজার টাকা। এটা হাতের নাগালেই। মাত্র ৩-৪ লাখ টাকা খরচ করে একটা বিল্ডিং ইনিশিয়াল চেক করা খুব বেশি খরচ নয়। এ ইনভেস্টিগেশন করতে আমাদের অনেক কিছু করতে হয়। বিল্ডিংয়ের কংক্রিট কেটে আনতে হয়। রড কেটে আনতে হয়। এ পরীক্ষাগুলো করতে এবং এটার ফলাফল জানতে মোটামুটি দেড় থেকে দুই মাসের মতো লাগে। এটা রাতারাতি করা যায় না। প্রথমে ইনিশিয়াল চেক করি। তারপর বিল্ডিংয়ের কংক্রিট কেটে আনি। বিল্ডিংয়ের নকশা কালেক্ট করার চেষ্টা করি। নকশা না থাকলে আমরা আবার নকশা তৈরি করি। ওই নকশার কম্পিউটার মডেল তৈরি করি। তারপর আমরা বলতে পারি বিল্ডিংটা ভালো না খারাপ। আমাদের এখানে ৩০-৪০টি ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্ম আছে। ইকুইপমেন্টও আছে। এখন কথা হলো, এটা শুরু করতে হবে।
ভবন চেকিংয়ের ক্ষেত্রে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) কী পলিসি নিতে পারে?
রাজউক একটা কাজ করতে পারে, বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ভবন মালিকদের জানিয়ে দেবে তারা যেন এ চেকিংটা করিয়ে সার্টিফিকেট রাজউকে জমা দিয়ে দেয়। চট্টগ্রাম-রাজশাহীতেও এটা করতে হবে। আর এ কাজে প্রাইভেট সেক্টরকেও ইনভলভ করতে হবে। একা বুয়েটের পক্ষে ঢাকার ২১ লাখ ভবন চেক করা সম্ভব নয়। আবার রাজউক এটা করলে মানুষ রাজউককে বিশ্বাস করবে না। রাজউকের সে সক্ষমতাও নেই। এজন্য রাজউকের আরবান রেজিলেন্সি ইউনিট দ্রুত শুরু করতে হবে। এটা কাজ করবে স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে। গত ২ তারিখে যে ঝাঁকুনি দিয়েছে সেটা দেখে মনে হলো আমরা ১৫০ বছরের সার্কেলের কাছাকাছি যাচ্ছি। তাই ভবনের চেকিংটা জরুরি। আমরা যদি ৬ ফেব্রুয়ারির দিকে তাকাই, টার্কিশ ভূমিকম্পে ৫০ হাজার মানুষ মারা গেছে। ঠিক এক হাজার মানুষ মারা গেছে পাশের সিরিয়ায়। মরক্কোতেও এক হাজারের মতো মানুষ মারা গেছে, তবে সেখানে উঁচু ভবনের সংখ্যা অনেক কম। টার্কিশের সঙ্গে আমাদের অনেক মিল আছে। আমাদের এখানেও ঠিক একই প্যাটার্নের বিল্ডিং—হাইরাজ বিল্ডিং। হাইরাইজ বিল্ডিং ভেঙে পড়লে সেখান থেকে মানুষ বাঁচানো খুব ডিফিকাল্ট হবে। সেজন্য আমাদের এখন বিল্ডিং মজবুতকরণে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। বিল্ডিংটা ভূমিকম্প সহনীয় কিনা সে স্ক্রিনিংটাই প্রথম কাজ। রাজউক নোটিস দিয়ে ভবন মালিকদের জানিয়ে দেবে, তোমরা যথাযথ পরীক্ষা করে একটা সার্টিফিকেট নেবে বিল্ডিংটা ভূমিকম্প সহনীয় কিনা। সহনীয় যদি না হয় তার পরের স্টেপ হবে বিল্ডিং মজবুতিকরণ। তখন অনেক টাকা দরকার হবে। পাঁচ কাঠার প্লটে ছয়তলা বিল্ডিং ইনিশিয়াল চেকিংয়ে ৩ লাখ টাকা লাগবে। আর একই পরিমাণ জমিতে নির্মিত বিল্ডিং মজবুত করতে ৫০ লাখ টাকা লাগবে। যারা ১ কোটি টাকা দিয়ে একটি অ্যাপার্টমেন্ট কিনেছে তারা কিন্তু আরো ৫ লাখ টাকা খরচ করে অর্থাৎ ছয়তলা বিল্ডিংয়ে ১০টি অ্যাপার্টমেন্ট থাকলে একজনের ভাগে ৫ লাখ টাকা পড়বে, এটাও অ্যাফোর্ডেবল। সবার পক্ষে অ্যাফোর্ড করা হয়তো সম্ভব হবে না। তখন ব্যাংকগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। সারা বিশ্বেই এ রকম চর্চা রয়েছে। আমি টার্কিশ একটি রিপোর্ট দেখেছি, টার্কিতে গত ২০ বছরে প্রায় ১১৭ বিলিয়ন ডলার জমা হয়েছে আর্থকোয়াক ইন্স্যুরেন্সের প্রিমিয়াম থেকে। এবার ভূমিকম্পের পর ৪০ বিলিয়ন ডলার ওদের ইনভেস্ট করতে হয়েছে। কারণ অনেক বিল্ডিং ভেঙেছে। তার মানে গত ২০ বছরে ১২০ বিলিয়ন ডলারের যে প্রিমিয়াম নিয়েছে সেখান থেকেই এ বিনিয়োগ এসেছে। যত প্রিমিয়াম নেয়া যাবে তত বেশি বিনিয়োগ করা যাবে। বাংলাদেশেও এ ধরনের ভবন ইন্স্যুরেন্স আছে, এটাকে আরো জনপ্রিয় করতে হবে। তাহলে সরকারের ওপর লোড কমে যাবে। সরকার তো এত টাকা ঢালতে পারবে না।
রাজউক এখনো উদ্যোগী হচ্ছে না কেন?
রাজউক উদ্যোগী না হওয়ার পেছনে ইন্টারনাল অনেক পলিটিকস আছে। রাজউক হয়তো চিন্তা করছে ভবন চেকিংয়ের জন্য একটা নতুন ইনস্টিটিউট যদি গঠন করা হয় তাহলে রাজউকের পাওয়ার কমে যাবে। কিন্তু তা নয়। রাজউক তো কাজ করে নতুন বিল্ডিং নিয়ে। পুরনো বিল্ডিং নিয়ে রাজউকের কোনো কাজ নেই। রাজউকের ম্যানডেট হচ্ছে নতুন বিল্ডিং। রাজউকের আসল কাজ হলো ঢাকার প্ল্যান করা। রাজউক কিন্তু এখন ল্যান্ড বিজনেস আর হাউজিং করতে ব্যস্ত। এটা কিন্তু রাজউকের ম্যান্ডেটে নেই। এটা থেকে রাজউককে বের করে আনতে হবে। জমির ব্যবসা থেকে বেরিয়ে এসে রাজউক ঢাকার পরিকল্পনা করবে। পুরনো বিল্ডিং চেকিং, নতুন বিল্ডিংয়ের অনুমোদন এসব নিয়ে রাজউকের ব্যস্ত থাকা উচিত। রাজউকের ম্যান্ডেটই নেই জমি বা আবাসন ব্যবসা করার। রাজউকের প্রধান ব্যবসা হচ্ছে, পূর্বাচল—বিশাল জায়গা ভরাট করে বিক্রি করছে। তারপর ঝিলিমিলও ল্যান্ড ফিল করে ফেলেছে। রাজউক কিছু বিল্ডিংও তৈরি করেছে। এটা তো রাজউকের কাজ নয়।
রাজউক বলছে, পরিকল্পিত আবাস গড়ার জন্য তারা আবাসন ব্যবসায় নামতে বাধ্য হয়েছে।
রাজউক কোথায় পরিকল্পিত আবাসন বানিয়েছে? গত দু-তিন দশকে যে কাজ করেছে, রাজউকের ভবনগুলো কি ভূমিকম্প সহনীয় হয়েছে? রাজউকের কিছু পরিকল্পনা আছে। রাজউককে একটু প্রেসার দিলে নিয়মের বাইরের বিল্ডিংও অনুমোদন দেয়। রাজউকের তো ভবন বানানোর বৈধতা নেই। ভূমি উন্নয়নের বৈধতা নেই।
আমরা দেখছি, সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ভূমিকম্পগুলোর উৎপত্তিস্থল সিলেটের আশপাশেই হচ্ছে বেশি। এটা কেন?
একটু আগেই আমি ইতিহাসের বরাত দিয়ে বলেছি, আমাদের বড় তিনটি ভূমিকম্প সিলেটের আশপাশে হয়েছে। সিলেট জোনটা ভূমিকম্পের জন্য অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। সম্প্রতি যে ভূমিকম্পগুলো হয়েছে তার সবই কিন্তু সিলেটের আশপাশে হয়েছে। এর কারণ হলো সেখানে তিনটি সোর্স রয়েছে। বাংলাদেশে পাঁচটি ভূমিকম্পের সোর্স রয়েছে, যার তিনটিই সিলেটের আশপাশে।
সম্প্রতি ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল হিসেবে দোহার দেখেছি। এটা নিয়ে কী বলবেন?
এটা খুবই লোকালাইজড আর্থকোয়াক। এটা কেন হয়েছে আমি জানি না। এখন পর্যন্ত এখানে কোনো ফাটল আমরা দেখিনি। অনেক সময় বড় ফাটলের মাঝে ছোটখাটো একটি-দুটি ফাটল তৈরি হয়ে থাকে।
মেট্রোরেল বা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মতো ভারী অবকাঠামোগুলো কি ঢাকায় ভূমিকম্পের ঝুঁকি বাড়ানোর ব্যাপারে কোনো ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন?
ভূমিকম্প বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নয়, বরং আমাদের এভোকেশনের ক্ষেত্রে, আমাদের মাস্টারপ্ল্যানের ক্ষেত্রে অবকাঠামোগত দিকটা বিবেচনা নিতে হবে। আমি জানি না তবুও ধরে নিচ্ছি, আমাদের মেট্রোরেল যেহেতু জাপানিজ কন্ট্রাক্টর কাজ করছে তারা ভূমিকম্প সহনীয় হিসেবেই তৈরি করেছে। আমি জানি, এমআরটির ডিপোটা যেখানে তৈরি হয়েছে সেখানে অনেক খরচ হয়েছে। কারণ সেখানের মাটিটা ভূমিকম্প সহনীয় ছিল না। মাটি ডেবে যেত। ওখানে কয়েক মিলিয়ন ডলার খরচ করে তারপর ইম্প্রুভ করছে। সাধারণত এমআরটিগুলো করার সময় ডাবল কলামে করতে হয়। এখন অনেকগুলো সিঙ্গেল কলাম দেখতে পাচ্ছি। ১৯৯৫ সালে জাপানে যখন কোভি আর্থকোয়াক হয়, সিঙ্গেল কলামের ইনফ্রাস্ট্রাকচারগুলো উল্টে পড়ে গিয়েছিল। ইনফ্রাস্ট্রাকচারগুলো যদি ভূমিকম্প সহনীয় হয় তাহলে ঠিক আছে। যদি তা না হয় তাহলে এটা আমাদের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। ঢাকায় বিল্ডিং আমাদের জন্য বড় বার্ডেন, এগুলো ভূমিকম্পের জন্য সহনীয় নয়, হাইরাইজ বিল্ডিংগুলো মোটামুটি সহনীয়, লোরাইজগুলো খুব কম। ঢাকায় প্রচুর ফ্লাইওভার আছে। এগুলোর কনস্ট্রাকশন অবস্থা কী এটা আসলে সময় বলে দেবে। যদি ভূমিকম্প হয় তাহলে ফ্লাইওভার ভেঙে নিচের রাস্তা ব্লক করে দেবে। তখন তো উদ্ধারকাজ, ইমার্জেন্সি ফুড সাপ্লাই দিতে সমস্যা হবে। জাপানে কিন্তু এ ধরনের সমস্যা হয়েছে। কোবি আর্থকোয়াকে একটি ফ্লাইওভারের দশমিক ৬ কিলোমিটার উল্টে পড়ে যায়। তখন উদ্ধারকাজে সমস্যা দেখা দেয়। এ তো গেল একটা দিক। আরেকটা বিষয় হলো, ঢাকায় যদি এ ধরনের ঘটনা ঘটে, তাহলে কে কাকে কীভাবে সাহায্য করবে এ নিয়ে একটা প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা থাকা দরকার। অনেক আগে একবার এটা নিয়ে কাজ হয়েছিল। এটা করা হয়েছিল আর্মিদের আন্ডারে। ঢাকাকে আটটা জোনে ভাগ করে কোথায় নেভি কাজ করবে, কোথায় এয়ারফোর্স কাজ করবে এটা একটা প্ল্যান করেছিল। কিন্তু ঢাকার ভেতর আর্মি-নেভির যে অফিসগুলো আছে তারা নিজেরাই কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তার মানে এটা প্ল্যানে থাকতে হবে ঢাকার বাইরে যেগুলো আছে—হয়তো কুমিল্লা কম ইফেক্টেড হবে, সাভার কম ইফেক্টেড হবে, তারা এসে ঢাকায় সাপোর্ট দেবে। পাশাপাশি ক্রিটিক্যাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার যেমন হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস এগুলো মজবুত করা দরকার জরুরি ভিত্তিতে। যখন ইনজুরি হবে, তখন হসপিটালাইজড না করা গেলে তো জীবন বাঁচানো যাবে না। ফায়ার সার্ভিস আমাদের ফার্স্ট রেসপন্ডার। তাদেরও অনেক শক্তিশালী করতে হবে। তাদের ইকুইপমেন্ট কেনা হয়েছে কিছু। কিন্তু তাদের ভবনগুলো ভূমিকম্প সহনীয় কিনা আমার সন্দেহ আছে।










