ড. মো. মনিরুজ্জামান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক এবং সাবেক চেয়ারম্যান। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষে সুইডেনের নরকপিংয়ে সুইডিশ মেটিওরোলজিক্যাল ও হাইড্রোলজিক্যাল ইনস্টিটিউটের পোস্ট-গ্রাজুয়েট অ্যাডভান্স কোর্স সম্পন্ন করেন। নগরের অস্বাভাবিক উষ্ণতা, বর্ষার ব্যতিক্রমী আচরণ, ঢাকার বাসযোগ্যতা ও ড্যাপ নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আল ফাতাহ মামুন

এবার বেশ ব্যতিক্রমী বর্ষা দেখতে পাচ্ছি। এই বৃষ্টি, এই আবার তীব্র গরম। বর্ষা এসেছেও দেরি করে। বিষয়টির ব্যাখ্যা জানতে চাই। 

বর্ষার মূল প্রাণ হলো মৌসুমি বায়ু। বাংলাদেশসহ পৃথিবীর হাতে গোনা কয়েকটি দেশে মৌসুমি বায়ুর প্রভাব থাকে। এ বছর আমাদের দেশে একটু দেরি করে মৌসুমি বায়ু এসেছে। মৌসুমি বায়ু কীভাবে আসে? নিয়মিত বায়ুকে প্রচণ্ড ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে মৌসুমি বায়ু নিজের জায়গা করে নেয়। কিন্তু এ বছর মে মাসে মোখা নামে একটি ঘূর্ণিঝড় আসে। যার ফলে মৌসুমি বায়ু আসতে দেরি হয়ে যায়। বর্ষার শুরুতে আমাদের আকাশে প্রচুর মেঘ দেখা গেছে এবং অনেক বৃষ্টিও হয়েছে। আবার জুলাইয়ের শেষার্ধে তেমন একটা বৃষ্টির দেখা পাওয়া যায়নি। একে তো বৃষ্টি নেই, তার ওপর প্রচণ্ড গরম ছিল। ভারতীয় উপমহাদেশসহ পৃথিবীর অনেক দেশেই প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ চলছে। ইউরোপের অনেক দেশেই ভয়াবহ দাবানল দেখেছি আমরা। আফ্রিকায়ও দেখেছি আমরা। এখন প্রশ্ন হলো, বিশ্বজুড়ে এমন তীব্র দাবদাহ হচ্ছে কেন? সম্প্রতি নাসা একটি গবেষণা করেছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতের পাশাপাশি এল নিনো তথা প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ স্রোতের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে এ তাপপ্রবাহ চলছে। যে কারণে আমাদের দেশে এবার বর্ষার ব্যতিক্রমী রূপ দেখতে পাচ্ছি। এই বৃষ্টি তো এই প্রচণ্ড গরম। বিশ্বব্যাপী যে তীব্র গরম পড়ছে তা আগামীতে আরো বাড়বে। দুটো কারণেই এমনটি বলা হচ্ছে—এল নিনো বা প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ স্রোতের প্রভাব সারা পৃথিবীতেই পড়বে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত সহসা আমরা বদলে ফেলতে পারব না। তাই জলবায়ু বিজ্ঞানীরা যেভাবে সতর্ক করছেন সে আলোকে আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। 

রাজধানী ঢাকার জন্য কী ধরনের প্রস্তুতি নেয়া উচিত বলে মনে করেন?

বিশেষ করে ঢাকার ব্যাপারে আলাদা করে প্রস্তুতি নিতে হবে। ঢাকার ৩৫ শতাংশ জলাশয় হারিয়ে গেছে। ঢাকার সবুজও উল্লেখযোগ্যভাবে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে সরকারের পক্ষ থেকে কিছু উদ্যোগের কথা শোনা যায়। সম্মিলিত প্রয়োগের মাধ্যমে ঢাকার বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এর উদাহরণও আছে। খরাপ্রবণ আফ্রিকার বিভিন্ন শহরে পুনরায় সবুজায়ন করার কথা আমরা জানি। পিগেলে নামে একটি শহর আছে, নাইরোবিয়া নামের একটি শহর আছে; এগুলোর বাসযোগ্যতা মারাত্মক খারাপ ছিল। সে অবস্থা থেকে তারা ফিরে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যের অনেক শহর আছে যেগুলো এখন সবুজে ভরে গেছে। আমরা যদি একটা বড় ধরনের মাস্টার প্ল্যান করে ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোকে আবার গ্রিন বেল্টের আওতায় নিয়ে আসতে পারি, জলাশয়গুলো আবার উন্মুক্ত করতে পারি এবং ঢাকার খালগুলোকে পুনরুদ্ধার করতে পারি তাহলে হয়তো কিছুটা আমাদের রক্ষা হবে। পাশাপাশি আরেকটা বিষয়ও বিবেচনায় রাখতে হবে, ঢাকাকে সাপোর্ট দেয় আশপাশের বনাঞ্চলগুলো। যেমন মধুপুর ফরেস্ট, ভাওয়াল ফরেস্ট ও ঢাকার পার্শ্ববর্তী বিলগুলো। জলাশয়গুলো সংরক্ষণের পাশাপাশি বনাঞ্চল বৃদ্ধির দিকেও নজর দিতে হবে। এ দুটি কাজ সঠিকভাবে করতে পারলে আগামী দিনগুলোয় ঢাকার তাপমাত্রা জনিত সমস্যা কিছুটা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

আগামীর ঢাকা খরাপ্রবণ নগরী হওয়ার কোনো শঙ্কা আছে বলে মনে করেন কি?

আমাদের নগরগুলোকে খরাপ্রবণ বলা যায় না। স্বাভাবিক তাপমাত্রার চেয়ে শহরের তাপমাত্রা যেহেতু বেশি থাকে তাই আমরা একে আরবান হিট আইল্যান্ড বলে থাকি। ঢাকা শহরে অবকাঠামো বেশি, কংক্রিট আচ্ছাদিত ভূমির পরিমাণ বেশি, ভূগর্ভস্থ পানি রিচার্জের সুযোগ কম, অপরিকল্পিত আবাসন বেশি—এসব কারণে ঢাকার তাপমাত্রা বেড়েছে। তবে ঢাকা এখনো খরাপ্রবণ নগরীতে পরিণত হয়নি। 

ঢাকা নিয়ে কাজ করতে গিয়ে কী ধরনের সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে হয় গবেষকদের? 

আমাদের তথ্য-উপাত্তেরও গ্যাপ আছে। আমাদের একটি মাত্র ওয়েদার স্টেশন আছে। একটি ওয়েদার স্টেশনের রেজাল্ট দিয়ে ঢাকা শহরকে বিবেচনা করলে এটা কিন্তু সায়েন্টিফিক হয় না। এখানে সরকারের একটা বড় গ্যাপ আছে। এখানে অন্তত ২০০ ওয়েদার স্টেশন থাকা দরকার। বৃহত্তর ঢাকা যেটাকে বলি আমরা, সেটা নারায়ণগঞ্জ থেকে শুরু করে ভাওয়াল গাজীপুর পর্যন্ত—এ বিশাল অঞ্চলে মাত্র একটা ওয়েদার স্টেশন দিয়ে কীভাবে আমরা বুঝব নগরীর তাপমাত্রা কতটুকু বেড়েছে বা কমেছে। এটা আমাদের বড় গ্যাপ বলে মনে হয়। দ্বিতীয় যে বিষয়টি বলব, আমরা ঢাকার সমস্যা নিয়ে কথা বলছি, কিন্তু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় যখন ঢাকার সমস্যা নিয়ে কাজে নামে তখন একাডেমিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করে না। দুর্যোগ মন্ত্রণালয় দুর্যোগ প্রশমনের কাজ করবে ঠিক আছে, কিন্তু আমরা যারা দুর্যোগ নিয়ে গবেষণা করছি, আমাদের সঙ্গে যদি সমন্বয় না করে তাহলে একটা গ্যাপ থেকেই যাবে। তাই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের গবেষকদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে। কিন্তু প্রায় ক্ষেত্রেই এর ব্যতিক্রম দেখতে পাই আমরা। ঢাকার বাসযোগ্যতা ফেরানোর ক্ষেত্রে সরকারের সদিচ্ছার কোনো অভাব আছে বলে মনে করি না। অভাব আছে কার্যকর অ্যাকশন প্ল্যানের। এ বিষয়ে নজর দেয়া উচিত। 

ঢাকার বাসযোগ্যতা ফেরানোর ক্ষেত্রে রাজউক ও সিটি করপোরেশনের ভূমিকা সম্পর্কে বলুন। 

বর্তমানে ঢাকার অথরিটি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। তারা একটি ড্যাপ প্রণয়ন করেছে। সে প্ল্যান বাস্তবায়ন করা বেশ চ্যালেঞ্জিং। ঢাকার লোক সংখ্যা অনেক বেশি। এখানে যেকোনো পরিকল্পনাই বাস্তবায়ন অনেক চ্যালেঞ্জিং। তার পরও দুই সিটি করপোরেশন চেষ্টা করছে। তারা কিছু পার্ক অবমুক্ত করেছে। উত্তর সিটি করপোরেশন খাল নিয়ে কাজ করছে। হাতিরঝিলের মতো আরো প্রকল্প নেয়ার কথা শুনছি, বুড়িঙ্গার আদি চ্যানেল উদ্ধার হচ্ছে—এগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ঢাকার বাসযোগ্যতা কিছুটা ভালো হবে। ঢাকার বাসযোগ্যতা ফেরানোর ক্ষেত্রে রাজউকের প্রধান ভূমিকা পালন করার কথা। কিন্তু আমরা দেখছি, রাজউক প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকায় রয়েছে। নিম্নাঞ্চল ভরাট করে হাউজিং করা থেকে রাজউককে বেরিয়ে আসতে হবে। রাজউকের কাজ আবাসন করা নয়। রাজউক রেগুলেটরির কাজ করবে। তারা এখন নিম্নাঞ্চল ভরাট করছে। সম্প্রতি শুনছি, আশুলিয়ার বন্যাপ্রবাহ এলাকা ভরাট করে রিভারবেজড শহর করতে যাচ্ছে। এ ধরনের চিন্তা থেকে রাজউককে বেরিয়ে আসতে হবে। রাজউকের কাজ নিম্নাঞ্চল ভরাট করা নয়। রাজউক করবে নিয়ন্ত্রণমূলক কাজ। মানুষ অনিয়ম করলে রাজউক সেটাকে নিয়মের মধ্যে নিয়ে আসবে। এটা না করে ডেভেলপমেন্ট করলে তো রাজউক মূল জায়গা থেকে সরে যায়। উন্নয়নমূলক কাজ তো অনেক করেছে, আর কত। এবার উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ করুক। শহরটাকে সুন্দর করার ক্ষেত্রে প্রধান কাজগুলো রাজউক করে দিক। রাস্তাঘাট করে দিক, ফ্লাইওভার করুক, ওয়াটার বডি পুনরুদ্ধার করুক। এখন রাজউকের একটাই কাজ—উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ করা। 

এক্ষেত্রে রাজউকের পক্ষ থেকে বলা হয়, পরিকল্পিত উন্নয়ন করাও রাজউকের কাজের অংশ, নয়তো অপরিকল্পিত উন্নয়নে শহর ছেয়ে যাবে—এ বিষয়ে কী বলবেন?

রাজউকের একটা উইং আছে—ডেভেলপমেন্ট কন্ট্রোল। মানে উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ। আগে তো রাজউক ছিল না। ছিল ঢাকা ইম্প্রুভমেন্ট ট্রাস্ট বা ডিআইটি; পরবর্তী সময়ে এটা রাজউক হয়েছে। এখন আর উন্নয়নের প্রয়োজন নেই। এখন প্রয়োজন উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ করা। সারা পৃথিবীতে তা-ই হচ্ছে। পশ্চিমা বিশ্বে আমরা দেখছি একেকটা শহর কীভাবে কন্ট্রোল হচ্ছে। চাইলেই তো মানুষ কিছু করতে পারে না। রাজউকের কাজই তো হচ্ছে মানুষ অন্যায় করতে চাইবে তারা সেটাকে ঠেকিয়ে দেবে। এটাই রাজউকের মূল কাজ। এ জায়গাতেই রাজউক পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। আর রাজউক কেন উন্নয়ন করবে? রাজউক একই সঙ্গে উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। মানুষের উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ করে রাজউক নিজেই যদি উন্নয়ন কাজ করে তখন সে বড় প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে যায়। এটা করা যাবে না। কোনো অথরিটি এমন দ্বিমুখী কাজ করে না। রাজউকের নামও বদলানো দরকার। এটা হওয়া উচিত রাজধানী উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। রাজউক কখনো উন্নয়ন করবে না। এমন নজির কোথাও নেই। 

তাহলে হাতিরঝিলের মতো কাজগুলো কে করবে?

এগুলো সিটি করপোরেশন করবে। সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে এ কাজগুলো দিতে হবে। যেখানে রাজধানী নেই যেমন চিটাগং অথরিটি, তারা কাজ করছে তো। বাংলাদেশের যত নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আছে তাদের প্রত্যেকের কাজ হলো উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণের কাজ করবে। সম্প্রতি গাজীপুর অথরিটি করা হয়েছে। চিটাগং অথরিটি আছে, রাজশাহী আছে, কক্সবাজার আছে। সব অথরিটি রাজধানী থেকে ধার করা বিদ্যা নিয়ে গেছে। এ বিদ্যা দিয়ে কিন্তু বাংলাদেশের নগরগুলোয় টেকসই উন্নয়ন করা যাবে না। নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ—এই কনসেপ্ট থেকেই বেরিয়ে আসতে হবে। হবে নগর উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ অথরিটি। এই অ্যাপ্রোচে না গেলে আগামী দিনগুলোয় নগরবাসীকে মারাত্মক দুর্যোগের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। 

বর্তমান ড্যাপ নিয়ে আপনার মূল্যায়ন জানতে চাই। 

ড্যাপের কারণে একটা ব্রেক থ্রু হয়েছে। রাজউক এখন বেশ সাবধানে প্ল্যান পাস করছে। অনেক জায়গায় প্ল্যান আটকে গেছে। প্ল্যান দিচ্ছে না। এই যে প্ল্যান দিচ্ছে না—এটা কোনো সমাধান নয়। ড্যাপে কিন্তু ক্লিয়ার বলা আছে কী করণীয়। ড্যাপ বাস্তবায়নের জন্য জনগণের অংশগ্রহণ জরুরি। জনগণ যদি সহযোগিতা না করে আমি তো জোর করে ড্যাপ বাস্তবায়ন করতে পারব না। রাজউক যদি বলে এ পরিমাণ জমিতে আমি পাঁচতলার বেশি অনুমোদন দেব না, এর যৌক্তিকতা, সুফল জনগণকে বোঝানো হোক। এক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন, ওয়ার্ড কাউন্সিলর, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ভালো ভূমিকা রাখতে পারেন। জনগণকে বোঝানো হোক, আপনি যে এখানে দশতলা ভবন করতে চাচ্ছেন এটা তো ভেঙে পড়বে। এভাবে জনগণকে বোঝাতে হবে। তা না করে আমি যদি রাজউক ভবনে বসে বলতে থাকি ড্যাপে নিষেধ আছে আমি ভবনের অনুমতি দেব না, তাহলে তো জনগণ মেনে নেবে না। ড্যাপ অবশ্যই একটি ভালো পরিকল্পনা। কিন্তু এখন রাজউক যদি আশুলিয়ার নিম্নাঞ্চল ভরাট করে আবাসন করে তাহলে মানুষ হাসবে আর বলবে তোমরা নিজেরাই নিজেদের পরিকল্পনা মানো না, আমরা কী করব। রাজউক করলে ঠিক আছে, সাধারণ মানুষ করলে ঠিক নেই—এ নীতি তো কেউ মানবে না। রাজউককে টোটালি ডেভেলপমেন্ট থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। শুধু কন্ট্রোলিংয়ে থাকতে হবে। 

পুরান ঢাকার বাসযোগ্যতা ফেরানোর বিষয়ে আপনার ভাবনা কী?

নগর বিজ্ঞানে একটা শব্দ আছে ‘‌নগর নবায়ন করা।’ এটা নতুন কোনো শব্দ না। সারা পৃথিবীতে হাজার হাজার শহর নবায়ন হয়েছে। আমি যখন সখম শহরে গেলাম, তাদের ওল্ড সিটি যেটা, সেখানে কোনো গাড়ি অ্যালাও নয়। সেখানে শুধু হাঁটতে হয়। পুরান শহর কিন্তু ঐতিহাসিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। আমরা এটাকে নষ্ট করে দিয়েছি। পুরান ঢাকার সব ঐতিহ্যকেই আমরা ধীরে ধীরে শেষ করে ফেলেছি। পুরান ঢাকা নিয়ে কোনো কাজ করতে হলে অবশ্যই এখানকার বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে, তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে কাজ করতে হবে। তাদের বোঝাতে হবে এ এলাকার ঐতিহাসিক গুরুত্ব কী। আরেকটি বিষয় হলো, পুরান ঢাকায় যে পরিমাণ বিজনেস অ্যাক্টিভিটিজ আছে, সেগুলো জোরালোভাবে কমিয়ে আনতে হবে। আরেকটা কাজও করা যায়। যেহেতু এখানের বেশির ভাগ ব্যবসা পাইকারি, তাই নাইট শিফট চালু করা যেতে পারে। ফলে দিনে সাধারণ নাগরিকরা সহজে মুভ করতে পারবেন।