ড. আহসান এইচ মনসুর বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ও ব্র্যাক ব্যাংকের প্রাক্তন চেয়ারম্যান। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে (আইএমএফ) তিনি দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। ১৯৯১ সালে বাংলাদেশে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) চালুতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ২০২৩ সালে দেশের অর্থনীতির সার্বিক মূল্যায়ন এবং ২০২৪ সালের সংকট ও সম্ভাবনা, অর্থনীতিতে রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব ও আর্থিক খাতের নানা দিক নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাবিদিন ইব্রাহিম
অর্থনৈতিকভাবে ২০২৩ সাল বাংলাদেশের জন্য কেমন ছিল? আপনি এ বছরকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
অনেক বছরের স্থিতিশীলতার পর ২০২২ সালের মাঝামাঝি থেকে অস্থিরতা শুরু হয়। এটি ২০২৩ সালে পুরোদমে খারাপের দিকেই যায়। এ সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার সঙ্গে অর্থনৈতিক অস্থিরতা যুক্ত হয়। পাশাপাশি নির্বাচন ঘিরে ও রাজনৈতিক কারণে বৈদেশিক চাপও ব্যাপকভাবে অনুভূত হয়। সব মিলিয়ে ২০২৩ সালটি অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় রকমের টানাপড়েন নিয়ে এসেছে। নতুন বছর আমরা শুরু করব এ সংকটগুলোকে সঙ্গে নিয়েই।
অনেকগুলো ঝুঁকি নিয়েই আমরা নতুন বছরে পা দিচ্ছি। এ সময়ে কোনো সম্ভাবনার জায়গা কি আছে?
যে সরকারই আসুক, ঝুঁকি থাকবেই। তবে অনুমেয় যে এই সরকারই ক্ষমতায় আসবে। অন্য কোনো সরকার আসার সম্ভাবনা আপাতত দেখছি না। আগের দুবারের মতো যদি স্থিতিশীলভাবে আসতে পারে, তাহলে অর্থনৈতিক কার্যক্রমে তাদের বড় ধরনের সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।
নতুন সরকার এলে তাদের কী কী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে?
প্রথমত, সরকারকে ক্ষমতায় আসার আগে লেজিটিমিসি (বৈধতা) প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এজন্য নির্বাচনে বেশি ভোটার উপস্থিত করার প্রয়োজন পড়বে। অর্থাৎ বাস্তবে কমপক্ষে ৪০ শতাংশ ভোট যেন পড়ে। এ নির্বাচনকে আন্তর্জাতিক ও দেশীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য করার জন্য সরকারকে এটি নিশ্চিত করতে হবে।
২০২৩ সালজুড়ে মূল্যস্ফীতি সরকার থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সবারই মাথাব্যথার কারণ ছিল। নতুন বছরে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব বলে কি মনে করেন?
প্রথমত, সামগ্রিকভাবে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার করতে হবে।
অবশ্যই মূল্যস্ফীতিতে স্থিতিশীলতা আনয়ন করতে হবে। সেটি না করতে পারলে সরকারের পক্ষে কঠিন মুদ্রানীতি গ্রহণ সম্ভব হবে না। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ঊর্ধ্বমুখী করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। রিজার্ভ বৃদ্ধি না হলে টাকার বিপরীতে ডলারের মূল্যমান স্থিতিশীল করা যাবে না। এবং ডলার স্থিতিশীল না হলে মূল্যস্ফীতিও কমানো সম্ভব হবে না।
আইএমএফ তো ঋণের দ্বিতীয় কিস্তিও দিল। সরকার এটিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। পরবর্তী সময়ে ঋণের কিস্তি পেতে সমস্যা হবে না। এ রকম মনোভাব কি তৈরি হয়েছে?
আমি মনে করি যে সরকার ডিসেম্বরের রিজার্ভ টার্গেটটি পূরণ করতে পারবে। রাজস্ব টার্গেট পূরণ করবে কিনা জানি না তবে সরকার চেষ্টা করেছে। সরকার চেষ্টা করছে আইএমএফের অন্যান্য টার্গেট পূরণ করার জন্য। মার্চে তারা যখন আসবে, ডিসেম্বরের উপাত্তগুলোই দেখবে। তারা যেন এ উপাত্তগুলো দেখে মোটামুটি একটা ভালো ফিডব্যাক দেয়—সরকার সেটিই চেষ্টা করছে এবং তাই করা উচিত।
২০২৩ সালে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় অর্ধেক কমেছে (২০২২ সালের তুলনায়)। ২০২৪ সালে আমাদের রিজার্ভ বাড়বে বলে কি মনে করেন?
এটি পুরোপুরি সরকারের পলিসির ওপর নির্ভর করবে তবে রিজার্ভ বিল্ডআপ করতেই হবে। সরকার এরই মধ্যে তা শুরু করেছে। বাজার থেকে কিনে হলেও তারা রিজার্ভ বিল্ডআপ করছে। এখন কিন্তু সরকার (নিট ভিত্তিতে) বিক্রি করছে না, কিনছে। এ মনোভাব আগে ছিল না। কিন্তু এখন এই মনোভাবেই থাকতে হবে, যেটা আছে। আমার ধারণা, সরকার প্রথমে ডিসেম্বরের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করবে। বাংলাদেশ ব্যাংক ডিসেম্বরের যে রিজার্ভ টার্গেট ছিল, সেটি ডলার কিনে বা অন্যান্যভাবে অ্যারেঞ্জ করে ফেলেছে।
বাজারে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা ছিল সিন্ডিকেট। আমরা এ সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে আনতে পারিনি কেন?
সিন্ডিকেটের মধ্যে দুটো বিষয় খেয়াল করতে হবে। একটি হচ্ছে জরুরি প্রয়োজনীয় পণ্য যেমন—গম, ভোজ্যতেল, চিনি এসব সিন্ডিকেট দিয়ে প্রভাবিত। কারণ, মাত্র পাঁচ-ছয়টি বড় প্রতিষ্ঠান এ ধরনের পণ্য আমদানি করে থাকে। কিন্তু অন্যান্য পণ্য যেমন পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, আলু এসব ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট সেভাবে কার্যকর হয় না এবং হবেও না। সংকট এখানে সরবরাহ ও জোগানের। যেসব পণ্যে সিন্ডিকেট আছে বলে মনে করি সেখানে সরকারি নজরদারি বিশেষভাবে বাড়াতে হবে বলে আমি মনে করি।
চলমান রাজনৈতিক সংকট যদি না কাটে, তার অর্থনৈতিক ঝুঁকি কী হতে পারে?
ঝুঁকি তো আছেই। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা অর্থনীতির জন্য ভালো নয়। মূল্যস্ফীতি সমস্যা কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে বাজারে সুব্যবস্থাপনা দরকার। ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল করা জরুরি। আন্তঃব্যাংক ফরেন এক্সচেঞ্জ মার্কেটে একক বিনিময় হার নিশ্চিত করতে হবে। এটিকে বাজারভিত্তিক করতে হবে। এ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক দেরিতে হলেও ইদানীং কাজ শুরু করছে। কিন্তু বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার বাজার ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে হচ্ছে না। একই আন্তঃব্যাংক বাজারে অনেকগুলো রেট সরকারি ও বেসরকারিভাবে বিরাজমান যা বাংলাদেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে অন্যদের চোখে দুর্বল বলে প্রতীয়মান করে। একই সঙ্গে বলতেই হবে বাংলাদেশ ব্যাংকে রিজার্ভ বাড়াতেই হবে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং তা করতে হবে কঠোর মুদ্রানীতি গ্রহণ করে।
২০২৩ সালে বেশ কয়েকটি অবকাঠামো চালু হয়েছে। অবকাঠামোগুলো দেশের অর্থনীতিতে কী ভূমিকা পালন করতে পারে? আবার সেগুলো আমাদের ঋণের বোঝা বাড়াল কিনা?
এখন যেভাবেই হোক প্রকল্পগুলো হয়ে গেছে। প্রকল্পগুলোর সঠিক বিশ্লেষণ করলে কিছু প্রকল্প হয়তো আগে নেয়া হতো না। যেমন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো বিশাল প্রকল্প। যার রিটার্ন সহজে আসবে না। পদ্মা সেতু ঠিক আছে। কিন্তু পদ্মা রেল সেতু ও প্রজেক্ট, এটার রিটার্ন আসবে না। এ জায়গাগুলোসহ আরো কিছু জায়গা আছে, যেখানে সরকারের বিনিয়োগ সঠিক হয়নি। এসব জায়গায় সহজে রিটার্ন আসবে না এবং সরকারকে বড় রকমের ভর্তুকি দিতে হবে। বড় প্রকল্প বাংলাদেশ সরকারকে অবশ্যই নিতে হবে। আমাদের আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রো রেল সিস্টেম লাগবেই। মেট্রোরেল-১, মেট্রোলাইন ৫, ৬ এগুলো করতেই হবে। এজন্য জাপানের সহায়তা লাগবেই। এগুলো যেন বন্ধ না হয়। জাপানি অর্থায়নের প্রকল্পগুলো আমাদের জন্য ভালো এবং সেগুলো সবই বাস্তবায়ন করা উচিত (যেমন—এয়ারপোর্ট, মেঘনা সেতু, মাতারবাড়ী প্রকল্প)।
দেশের কর্মসংস্থানের অবস্থা কেমন? এটি কি আশানুরূপ?
কর্মসংস্থানের অবস্থা খুবই খারাপ। কারণ বিনিয়োগ পরিস্থিতি খুবই নাজুক। দীর্ঘদিন ধরেই বিনিয়োগ কমছে। বিদেশী বিনিয়োগ যথেষ্ট আকৃষ্ট করা যাচ্ছে না। এতে নতুন অনেক উদ্যোগ চালু হচ্ছে না। শিক্ষিতদের মধ্যে আশঙ্কাজনকভাবে বেকারত্ব হার বাড়ছে। বাংলাদেশের শিক্ষার মান এবং শ্রমিকদের দক্ষতা আরো অনেক না বাড়াতে পারলে নতুন প্রজন্মের যুবকদের জন্য বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি কঠিন হবে। আগামীতে আরো কঠিন হবে। আমাদেরকে অবশ্যই প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববাজারের জন্য নতুন প্রজন্মকে প্রস্তুত করতে হবে।
২০২৪ সালে গার্মেন্ট খাতে কী ঝুঁকি আছে? অনেকে নিষেধাজ্ঞার ভয় করছেন। আপনি কী মনে করেন?
বড় ধরনের ঝুঁকি অবশ্যই থাকতে পারে। সেটা অর্থনৈতিক কারণে হতে পারে, আন্তর্জাতিক চাহিদার কারণে হতে পারে এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির কারণে হতে পারে। সরকারকে সবই ম্যানেজ করতে হবে। আমাদের কয়েকটি বিষয় ভাবতে হবে। যেগুলোর মাধ্যমে সামনে ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে বলে আমি মনে করি। একটি হচ্ছে লেবার ইস্যু, যেখানে বহুদিন ধরেই বাংলাদেশ ও আমাদের বাণিজ্য সহযোগীদের মধ্যে টানাপড়েন চলছে। এখানে সরকার, আইএলও ও অন্যান্য বিদেশী সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতামূলক মনোভাব নিয়ে এ সমস্যাগুলো দূর করতে হবে। মানবাধিকার ইস্যুতেও আমাদের সমস্যা আছে, সেখানেও জাতিসংঘ এবং অন্যান্য দেশের সঙ্গে আমাদের কাজ করতে হবে। বিদেশীদের চাপে মানবাধিকার পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে আমি মনে করি। কিন্তু অতিসম্প্রতি রাজনৈতিক দমন কার্যক্রমের মাধ্যমে মানবাধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে অনেকেরই ধারণা। এ বিষয়গুলো আমাদের ম্যানেজ করতে হবে। যাতে এগুলোর মাধ্যমে কোনো ধরনের স্যাংশন বা বড় নিষেধাজ্ঞা আমাদের ওপর না চেপে বসে।
২০২৪ সালে আমাদের অনেক ঋণের কিস্তি দিতে হবে। সামনে কেমন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে?
প্রথমত, ঋণ তো এরই মধ্যে নেয়া হয়ে গেছে। সেগুলো সুদে-আসলে পরিশোধ শুরু করতে হবে। ঋণের বোঝা অতিসম্প্রতি আরো বেড়েছে। সে কারণে সামনের বছরগুলোয় ঋণের কিস্তির পরিমাণ আরো অনেক বাড়বে। বাংলাদেশের এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন হওয়ার কারণেও আমাদের ঋণের বোঝা আগামীতে খুব দ্রুত বাড়বে। কারণ আন্তর্জাতিক ঋণদাতারা আগের মতো অতিরিক্ত সাশ্রয়ী ঋণ দেবে না। আমাদের চেষ্টা করতে হবে যেন কমার্শিয়াল টার্মসে বড় কোনো ঋণ আমরা গ্রহণ না করি। খুবই প্রয়োজন না হলে আমরা যেন বড় প্রকল্পে না যাই।
দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশ সরকার গত বায়ান্ন বছরে কোনো দিনই ঋণের কিস্তিতে ডিফল্ট করেনি এবং আগামীতেও করবে না সেটাই আমরা দেখতে চাই। সেই লক্ষ্যে সরকারকে অনেক জায়গায় ব্যয় সংকোচন করে হলেও ঋণ পরিশোধ করে দেয়া উচিত।
তৃতীয়ত, সরকার চীন, জাপান ও ভারতের সঙ্গে চুক্তিগুলোকে আলোচনা সাপেক্ষে নবায়নের চেষ্টা করতে পারে। এক্ষেত্রে রিস্ট্রাকচারিং (পুনর্গঠন) বা রিশিডিউলিং (পুনঃতফসিল) করে নেয়া সম্ভব হলে আমাদের জন্য সুবিধা হবে। বিদ্যুতের ক্ষেত্রে সামিটসহ অন্যান্য বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের (আইপিপি) সঙ্গেও আলোচনায় বসতে হবে। তাদের তো বসিয়ে বসিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা দেয়া হয়েছে। এবার বাংলাদেশের জন্য আমরা তাদের কাছে কিছু ছাড় চাইতেই পারি। সেই ধরনের চুক্তির পুনর্বিন্যাস দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে করতে হবে, এককভাবে নয়।
চলমান রাজনৈতিক সংকট যদি না কাটে এবং এ অনিশ্চয়তা বিরাজ করে তাহলে বিনিয়োগ পরিস্থিতি কি আশানুরূপ হবে? রাজনৈতিক সংকটের অর্থনৈতিক ঝুঁকি কি দেখছেন?
চলমান রাজনৈতিক সংকট আগামীতে কেমন কতখানি খারাপ প্রভাব রাখবে তা বলা মুশকিল। নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতির ওপর হয়তো অনেকটা নির্ভর করবে। রাজনীতি ও রাজনীতির অঙ্গন কতটা খারাপের দিকে যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এখনই বলা কঠিন। অনেকখানি নির্ভর করবে ভোটারের অংশগ্রহণের ওপর। এটিই সরকারকে লেজিটিমিসি (বৈধতা) দেবে বা লেজিটিমিসি কেড়ে নেবে।
২০২৪ সাল নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী? বাংলাদেশের অর্থনীতিকে কোন জায়গায় দেখতে চান?
আমি আশা করব, সরকার সঠিক অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ করবে। নির্বাচনের পরই যেন সরকার নতুন একটি ইকোনমিক টিম গঠন করে। সেখানে অর্থমন্ত্রী ও সরকারের আমলাসহ পুরো টিম যেন ডায়নামিক হয়। তারা যাতে নেতৃত্ব দিয়ে সামনের দিনের নীতিগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে সেটাই আমরা আশা করব। কঠোরভাবে ব্যাংক ও রাজস্ব খাতে যেন মৌলিক সংস্কার আনা হয়। এছাড়া অন্যান্য প্রয়োজনীয় সংস্কার আনার পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে হবে। আইএমএফের কর্মসূচির সঠিক বাস্তবায়নও এ লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হবে। সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হলে বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতির ভারসাম্য এক বছরের মধ্যে আগের মতো সুশৃঙ্খল অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে আমি মনে করি।










