বিগত ৫০ বছরে গড়ে পৃথিবী থেকে ৬৯ শতাংশ প্রাণী হারিয়ে গিয়েছে। এর পেছনে মুখ্য ভূমিকা রেখেছে প্রকৃতির ওপর মানুষের স্বেচ্ছাচার। এখনই কোনো ব্যবস্থা না নিলে সমগ্র গ্রহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ড (ডব্লিউডব্লিউএফ) এবং জুওলজিক্যাল সোসাইটি অব লন্ডনের (জেডএসএল) যৌথ গবেষণায় এই ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষকরা ১৯৭০ থেকে ২০১৮ সালের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দায়ী কারণগুলো তুলে ধরেন। তারা জানান, বিরামহীন বৃক্ষনিধন, প্রাণী শিকার ও পরিবেশ দূষণের মাধ্যমে পৃথিবীকে অস্থিতিশীল করে তুলছে মানুষ।

বর্তমানে পৃথিবী ষষ্ঠ বিপুল বিলুপ্তির সময় পার করছে বলে বিশ্বাস করেন বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, ডাইনোসরের যুগ থেকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় পরিসরে প্রাণীকূলের হারিয়ে যাওয়ার সাক্ষী হচ্ছি আমরা।

সাধারণত সমুদ্র ও ঘন বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে পাখি, মাছ, উভচর ও সরীসৃপের বসবাস। অথচ সূচক বলছে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে গত ৪৮ বছরে বন্যপ্রাণী কমেছে ৯৪ শতাংশ। সেখানে বৃক্ষনিধনের হার এখনো ঊর্ধ্বমুখী। সংকুচিত হয়ে আসছে পৃথিবীর ফুসফুস বলে পরিচিত অ্যামাজন বনের পরিধি।

গত ৪৮ বছরের মধ্যে আফ্রিকায় বন্যপ্রাণী কমেছে ৬৬ শতাংশ। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ৫৫ শতাংশ এবং উত্তর আমেরিকায় ২০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ইউরোপ ও মধ্য এশিয়ায় হ্রাসের পরিমাণ ১৮ শতাংশ। ১৯৭৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত মাত্র ৪২ বছরে শুধু অস্ট্রেলিয়ার সি লায়নই কমে গেছে ৬৪ শতাংশ।

কানাডার মন্ট্রিয়লে আগামী ডিসেম্বরে কপ-১৫ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে জীববৈচিত্র্যের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। সেদিকে ইঙ্গিত করেই সতর্কবাণী উচ্চারণ করছেন বিজ্ঞানীরা।

তারা বলছেন, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের রক্ষায় বৈশ্বিক নেতাদের অবশ্যই সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে। দ্রুত কমিয়ে আনতে হবে কার্বন নিঃসরণ ও মানবসৃষ্ট দূষণ। প্রাণী বিলুপ্তি দ্রুত কমিয়ে আনা না গেলে মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে পৃথিবী।