পাশ্চাত্যের খাবার হলেও বার্গার ও পিৎজা এখন সারাবিশ্বেই পরিচিত। অনেক দেশে স্থানীয় খাবারের মতোই ফাস্টফুড আইটেম দুটির চাহিদা।

আজকাল সারাবিশ্বে হাজার হাজার আউটলেট থাকার কারণে ফাস্টফুড জায়ান্ট ম্যাকডোনাল্ড’স বা কেএফসির নাম এক বাক্যে সবাই জানেন। বার্গার-পিৎজায় অনেকের হাতেখড়ি এই সব চেইন ফুডশপে। তবে ভারতে এই সব খাবারকে জনপ্রিয় করার পেছনে রয়েছে একটি নাম; দীপক নিরুলা।

তিনিই ভারতে প্রথম ফাস্টফুড রেস্তোরাঁ চালু করেন। আর সেই নিরুলা'স রেস্তোরাঁর উদ্যোক্তার জীবনাবসান ঘটেছে গত ৪ অক্টোবর।

১৯৭০ থেকে পরের দশকে দেশটির রাজধানী দিল্লিতে বেড়ে উঠেছেন এমন কেউ নেই, যিনি নিরুলা’সের সঙ্গে পরিচিত নন।

রেস্তোরাঁর চেয়েও বেশি কিছু নিরুলা’স। যা অনেকের কাছে আবেগের নাম। যার প্রকাশ ঘটেছে দীপকের মৃত্যুর পরপরই। ওই দিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই শোক প্রকাশ করেছেন, সঙ্গে জুড়ে দিয়েছিলেন স্মৃতি।

ভারতের একটি পুরো প্রজন্মকে আমেরিকান স্টাইলের ফাস্টফুডের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন দীপক নিরুলা। এই গল্পের শুরু ১৯৪২ সালে। দুই ভাই লক্ষ্মী চাঁদ নিরুলা ও মদন নিরুলা ভাড়া করা কক্ষে উপমহাদেশীয় ও ভারতীয় খাবারের একটি রেস্তোরাঁ খোলেন। নাম দেন নিরুলা’স কর্নার হাউস। এর সঙ্গে যোগ করেন ফরাসি স্টাইলের ক্যারাবেটস, দক্ষিণ স্পেনীয় ফ্লামেনকো নাচ ও জাদু প্রদর্শনী। এতেই রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে উঠে রেস্তোরাঁটি।

১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার পর রেস্তোরাঁ সংস্কৃতি পাল্টে যাওয়ায় নিরুলা’স কর্নারে ক্রেতার আনাগোনা কমে যায়। তখন দুই ভাই রেস্তোরাঁটি বন্ধ করে নতুন তিনটি আউটলেট চালু করেন- ১৫০ সিটের আধুনিক ক্যাফে, ফরাসি স্টাইলের রেস্তোরাঁ ও ভারতের প্রথম চাইনিজ রেস্তোরাঁ।

উদ্যোগগুলো অর্ধশতক ধরে সফলভাবে চলে। পরবর্তী বছরগুলোতে নিরুলা পরিবার বেশ কয়েকটি বিশেষ বিশেষ রেস্তোরাঁ চালু করে, যা ভারতীয় মধ্যবিত্তের নাগালের মধ্যে পিৎজা, বার্গার, কোমল পানীয় ও আইসক্রিমের নতুন স্বাদ নিয়ে আসে।

এ বিষয়ে দীপকের ভাই ললিত নিরুলা লিখেছেন, ওই সময়ে রেস্তোরাঁগুলো এত জনপ্রিয় হয়ে উঠে যে সাহেব থেকে ট্যাক্সি ড্রাইভার সবাই এখানে আসা শুরু করলেন। শ্রেণি ভেদাভেদ ভুলে টেবিল ভাগাভাগি করে ও লাইনে দাঁড়িয়ে খাবার খেতেন।

দীপকের ‍মৃত্যুর পর আরেক দফা বোঝা গেছে সময়ের আচড় পড়লেও নিরুলা’স এখনো কতটা জনপ্রিয়। তবে এর জন্য নিরুলা পরিবারের চেষ্টা কম নয়। তারা পরিবেশনার ক্ষেত্রে পুরোনো সেই আবেগ আজো ধরে রেখেছে।