আমরা যখন আকাশে বজ্রপাত দেখি, তখন কি কখনো ভেবেছি—এই শক্তিই হয়তো কোটি বছর আগে পৃথিবীতে প্রথম প্রাণের সঞ্চারে ভূমিকা রেখেছিল! বিজ্ঞানীদের বহুদিনের বিশ্বাস, বজ্রপাতের মাধ্যমে রাসায়নিক বিক্রিয়া হয়ে পৃথিবীতে প্রথম জীবনের উপাদান তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এবার গবেষকরা বলছেন, এর চেয়েও ছোট একটি শক্তি— মাইক্রোলাইটেনিং বা ক্ষুদ্র বজ্রপাত—জীবন তৈরির রহস্য উন্মোচনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

স্ট্যানলি মিলারের পরীক্ষা: নির্জীব অণু থেকে জীবনের উৎপত্তি প্রমাণের জন্য ল্যাবরেটরিতে গবেষণা চলছে। ছবি: সিএনএন
সালটা ১৯৫৩। স্ট্যানলি মিলার ও হ্যারল্ড ইউরি এক ঐতিহাসিক পরীক্ষা চালান। তারা প্রাচীন পৃথিবীর পরিবেশ তৈরি করে এতে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করেন। অবাক করা বিষয় হলো, এতে জীবন গঠনের মূল উপাদান—অ্যামিনো অ্যাসিড তৈরি হয়! এবার বিজ্ঞানীরা আরো এক ধাপ এগিয়ে ছোট ছোট জলকণার মধ্যে বিদ্যুৎ প্রবাহ করালেন। ফলাফল? গ্লাইসিনসহ বিভিন্ন অ্যামিনো অ্যাসিড ও আরএনএর মূল উপাদান ইউরাসিল তৈরি হলো।
গবেষক রিচার্ড জারে বলেন, আমরা নতুন কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়া আবিষ্কার করিনি। বরং আরো গভীরে গিয়ে বুঝতে পারছি। হয়তো আমাদের চারপাশেই জীবন সৃষ্টির সূত্র লুকিয়ে আছে।
ভাবুন তো, এক ফোঁটা পানির ভেতরই যদি ক্ষুদ্র বজ্রপাত হয়, আর সেটিই যদি জীবনের ভিত্তি তৈরি করে, তাহলে জীবন কত বিস্ময়করভাবে গড়ে উঠতে পারে! হয়তো কোনো দূর গ্রহের ছোট জলকণার মধ্যেও একই ঘটনা ঘটছে, যেখানে নতুন প্রাণের জন্ম হচ্ছে। জীবন কেবল একবারই কি সৃষ্টি হয়েছিল? নাকি এরকম আরো বহুবার হয়েছে? গবেষণাটি আমাদের এই চিরন্তন প্রশ্নের উত্তর খোঁজার ক্ষেত্রে নতুন আলো দেখাচ্ছে।
—সিএনএন










