হাত-পা কাটা গেলে আবার গজাবে— এ ধারণা এখনো আমাদের কাছে রূপকথার মতো। কিন্তু মেক্সিকোর জলাধারে ছোট্ট এক প্রাণী অ্যাক্সোলটলের কাছে এটি একেবারে বাস্তব। ছোট শরীরের এই প্রাণীটি আমাদের অক্ষমতার চোখে আঙ্গুল রাখে— সে যা পারে, আমরা তা পারি না।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নর্থইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা অ্যাক্সোলটলের দেহে এমন একটি রাসায়নিক সংকেত শনাক্ত করেছেন, যা শরীরে কাটা অঙ্গ কোথায় ও কীভাবে গজাবে, সে নির্দেশ দেয়। সংকেতটির নাম রেটিনয়িক অ্যাসিড— যা মানব ভ্রূণের হাত-পা বা মাথা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু জন্মের পর মানুষ আর এ সংকেত গ্রহণ করতে পারে না। অ্যাক্সোলটল ব্যতিক্রম। তার শরীর এই সংকেত গ্রহণ করে জীবনভর।
গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যাক্সোলটলের শরীরে থাকা একটি উৎসেচক এই সংকেত ভেঙে ফেলে, যাতে নির্দিষ্ট স্থানে অঙ্গ গজায়। এই উৎসেচক বন্ধ করে দিলে কাটা হাতের জায়গায় নতুন হাত বা পুরো বাহু গজিয়ে ওঠে।
বিজ্ঞানীরা যখন প্রাণীর শরীরে উজ্জ্বল জিন ঢুকিয়ে পর্যবেক্ষণ করেন, তখন দেখা যায়, যেসব জায়গায় অঙ্গ গজানোর সংকেত কাজ করছে, সেখানে আলো জ্বলে উঠছে। একটানা অনেক দিন ধরে তারা এসব পরীক্ষা চালিয়ে প্রমাণ পেয়েছেন, এই প্রাণীর কোষ নিজের পরিচয় ভুলে গিয়ে আবার ভ্রূণ-অবস্থায় ফিরে যায়। এরপর আবার নতুন করে অঙ্গ তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করে।
এই গবেষণার খবর শোনার পর হাত হারানো কোনো কৃষক কিংবা দুর্ঘটনায় পা হারানো কোনো শ্রমিক হয়তো নতুন করে ভাবছেন— একদিন বিজ্ঞান তার হারিয়ে যাওয়া অঙ্গ ফিরিয়ে দেবে।
গবেষণার অন্যতম সদস্য ক্যাথরিন ম্যাকাসকার বলেন, অ্যাক্সোলটলের ক্ষেত্রে অঙ্গ গজাতে কয়েক দিন লাগে, মানুষের ক্ষেত্রে হতে পারে কয়েক বছর। কিন্তু এই গবেষণাগুলোই ভবিষ্যতের চিকিৎসাব্যবস্থা বদলে দিতে পারে।
আজ যার হাত নেই, কাল তার হাতে হয়তো আবার কলম ধরা সম্ভব হবে। রাস্তায় চলতে গিয়ে যারা থেমে গেছে, তারা হয়তো একদিন আবার হাঁটবে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের জন্য অ্যাক্সোলটল যেন জলজ অলৌকিক এক পাঠশালা। —সিএনএন









