বাল্যকালের কিছু কিছু ঘটনা ও বিষয় উজ্জ্বল হয়ে মাঝে মধ্যেই আমার স্মৃতিকে আন্দোলিত করে। তখনো স্কুলে যেতে শুরু করিনি। স্কুলে যাওয়ার পূর্ব প্রস্তুতির অনুষঙ্গ হিসেবে আমার হাতে কয়েকটি রঙিন ছবি ও ছড়ার বই ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি ছড়া এখনো মনে আছে—

সোনা বাজায় ক্বণা

বলদ বাজায় ঢোল

সোনার বউ রেঁধে রেখেছে

ইলিশ মাছের ঝোল

ছবিতে সোনা বউটি বয়সে শিশু। তবে মাথায় ঘোমটা। সে ইলিশ মাছ রান্না করছে। ইলিশের সঙ্গে পরিচয় তখন থেকেই। জীবনের শুরুতেই ইলিশের সঙ্গ পেয়েছি কিন্তু সখ্য গড়ে ওঠেনি এখন অবধি। এর কারণ হয়তো এই যে ছেলেবেলা থেকেই ইলিশের প্রাচুর্য দেখতে দেখতে বড় হওয়া। প্রায় প্রতিদিন না হলেও সপ্তাহে অন্তত দুইদিন ইলিশ খেতে হতো অনেকটা বাধ্য হয়েই। অতিরিক্ত ইলিশ খাবার কারণে ইলিশের প্রতি যে নিস্পৃহতা মজ্জাগত হয়ে আছে তা এখনো মুছে ফেলা সম্ভব হয়নি। তাই আমার ব্যক্তিগত পছন্দের জায়গায় স্থান করে নিয়েছে রুই, চিতল, পাঙাশ, বাচা, রিঠা, বাইন, গোচি, খরশুলা স্বরপুঁটি, কৈ, বাটা, বাঁশপাতা—এ জাতীয় অনেক সুস্বাদু মাছ, যেখানে ইলিশ অনেকটাই নিষ্প্রভ অন্তত আমার কাছে। এ কথাগুলো নিতান্তই ব্যক্তিগত; মোটেই বৃহত্তর বাঙালি জনগোষ্ঠীর নয়।

ইলিশের প্রসঙ্গে আসা যাক। গবেষক ও মৎস্য বোদ্ধাদের ভাষায় ইলিশ যদি মাছের রানী হয়ে থাকে, তবে নিশ্চিতভাবে রুই হচ্ছে মাছের রাজা। ইলিশ নিয়ে বাঙালি কবি সাহিত্যিকরা এত বেশি সরব এবং এদের কলমে এত রচনা সৃষ্টি হয়েছে যা রুই, চিতল, পাঙাশের ক্ষেত্রে দেখা যায় না। ইলিশ নিয়ে প্রাচীন যে তথ্য পাওয়া যায়, সেটি আয়ুর্বেদ শাস্ত্রকারদের লেখা থেকে—

ইল্লিশো মধুর

ইল্লিশো রোচনো

বহ্নি বর্জনঃ

পিত্তিকৃৎ কফকৃৎ

কিঞ্চিল্লঘু ধর্মোহ নিলাজহঃ

ইলিশ হলো মধুর শিক্ষরোচক ও বলবর্ধক, পিত্তকারী, কফ্কারী, লঘু পুষ্টিকর ও বাতনাশক।

আরেকটি প্রাচীন শ্লোকে ইলিশ এবং রুই মাছের বর্ণনা লক্ষ করি—

ইলিশো খলিশশ্চৈব ভেট্কির্মদ্গূর এবচ।

রোহিত মৎস রাজেন্দ্রঃ পঞ্চমসা নিরামিষঃ

এখানে রুই মাছকে ‘মৎস্য রাজেন্দ্র’ অর্থাৎ মাছের সম্রাট আখ্যা দেয়া হয়েছে। নিরামিষ ভোজীরাও ইলিশ মাছ নিঃসংকোচে খেতে পারেন শ্লোকে এ কথাটিই বলা হয়েছে।

পদ্মপুরাণে রয়েছে রান্নার বিবরণ। এখান থেকে রুই ও ইলিশসংশ্লিষ্ট দুটি পদের উল্লেখ করছি—

রোহিতের মুণ্ডু দিয়া রান্ধে মুলা শাক

সরিষার শাক রান্ধে ইলিশার শিরে

ইলিশ কিংবা রোহিত বা রুই নিয়ে উল্লিখিত রচনাগুলোর সবই ছিল প্রাচীন যুগের। মধ্যযুগে ইলিশ নিয়ে মাতামাতি খুব কমই লক্ষ করা গেছে। ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর তার বিখ্যাত অন্নদামঙ্গল কাব্যের রন্ধনপর্বে যে ৩১ জাতের মাছ রান্নার কথা উল্লেখ করেছেন সেখানে রুই, কাতলা, চিতল, কই, বাচা এমনকি শোল, মাগুর ও ভেটকি মাছের উল্লেখ থাকলেও ইলিশ নেই। তবে তা দিয়ে প্রমাণ হয় না যে ইলিশ অপছন্দের মাছ। ইলিশ অনাদিকাল থেকেই বাঙালির পছন্দের মাছের তালিকায় আদরণীয় ছিল এখনো আছে।

তবে প্রকৃত রসজ্ঞ এবং সমঝদার বাঙালি রুই মাছকেই কৌলিন্যের আসনে অভিসিক্ত করেছে। রুইয়ের সঙ্গে রয়েছে চিতল। পেটে লাল আভাযুক্ত পাঁচ কেজি ওজনের একটি রুই পাকা হাতে রান্না হয়ে ভাতের থালায় আসার পর তার স্বাদ তো তুলনারহিত। চিতল মাছের পেটি বা নদীর বড় পাঙাশ হতে পারে এর পরিপূরক অন্য কোনো মাছ দিয়ে নয়।

এ কথা ঠিক যে বাঙালি সংস্কৃতির অত্যন্ত গভীরে প্রোথিত ইলিশ। এর দুটি কারণ। একটি হলো এর সহজলভ্যতা। বাংলাদেশে প্রাচীনকাল থেকেই ইলিশের জোগান ছিল প্রচুর। মেঘনা পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র যমুনা, মধুমতী তেঁতুলিয়াসহ প্রায় সব বড় ও মাঝারি দৈর্ঘ্যের নদ-নদীগুলোতে এত বেশি ইলিশ ধরা পড়ত যে মাছ খাওয়ার মানুষ খুঁজতে হতো। মনে পড়ে ১৯৫৬ সালের একটি দিনের কথা। গৃহশিক্ষকের সঙ্গে পাবনা শহর সন্নিহিত পদ্মার ঘাটে গিয়ে ৪ আনার (১ টাকার এক-চতুর্থাংশ) বিনিময়ে চারটি বড় আকৃতির ইলিশ (একেকটি প্রায় দেড় কেজি ওজনের) ক্রয় করে বাসায় ফিরেছি। নানীর মুখে শুনেছি, জেলেরা পদ্মা থেকে এত বেশি পরিমাণ ইলিশ জালে তুলত যা ক্রয় করার মানুষ পাওয়া যেত না। বাধ্য হয়ে নৌকা বোঝাই ইলিশ মাটিতে পুঁতে ফেলা হতো কিংবা নদীতে ফেলে দেয়া হতো।

একসময় এ দেশের গ্রামে গ্রামে কলেরা মহামারীতে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হতো। অতিরিক্ত ইলিশ মাছ ভক্ষণ এর অন্যতম প্রধান কারণ ছিল। ইলিশ মাছের তুলনায় নদী হাওর-বাঁওড় ও বিলে জন্ম নেয়া রুই-কাতলা-মৃগেল-চিতল-বোয়াল-পাঙাশ—এগুলোর উৎপাদন অনেক কম। ইলিশ ব্যতীত উল্লেখকৃত অতি মনোহর স্বাদের মাছগুলো চাইলেই সবসময় সব স্থানে পাওয়া সম্ভব হতো না। কিন্তু ইলিশ প্রচুর পরিমাণে প্রতি বছর ধরা হয় এবং সেগুলো বরফজাত করে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছানো সম্ভব হয় বলেই মাছটির জনপ্রিয়তা এত বেশি। মোট কথা ইলিশ হলো, বাঙালি বিত্তবান শ্রেণী থেকে শুরু করে সাধারণ শ্রমজীবী সব মানুষের কাছেই সহজলভ্য ছিল। স্বাদের দিক থেকেও অনুপম। তাই ইলিশ নিয়ে এত কথা বলেছেন এ দেশের কবি সাহিত্যিকরা।

হঠাৎ করেই বিগত শতাব্দীর সত্তর দশকের শেষ দিক থেকে ইলিশের উৎপাদন কমতে দেখা যায়। বহুকাল পূর্ব থেকেই গোয়ালন্দ হয়ে পদ্মার আরো উজান বেয়ে ইলিশের ঝাঁক চলে যেত সেই ভগবানগোলা পেরিয়ে ভাগলপুর অবধি। ইলিশের এ চলাচলে ভীষণভাবে ব্যত্যয় ঘটে গেল ফারাক্কা বাঁধ নামক বাংলাদেশের জন্য একটি মরণ ফাঁদ নির্মিত হওয়ার কারণে। পদ্মার স্রোত গেল কমে। গোয়ালন্দের উজানে ঝাঁকে ঝাঁকে সেই ইলিশের দলকে আর দেখা গেল না। শুধু গঙ্গা নয়, উজানের প্রায় সব নদীর পানির প্রবাহই কমতে থাকল। এর ফল হলো এই—ইলিশের ঝাঁক আগের মতো গঙ্গা-পদ্মা-ব্রহ্মপুত্র-যমুনাসহ এর শাখা-প্রশাখার উজান বেয়ে এগিয়ে যাওয়া ভুলে গেল। আজ থেকে ৫০ বছর আগেও দেশের প্রায় সব নদ-নদীতেই ইলিশের বিচরণ ছিল যা এখন শুধুই স্মৃতি। অভিন্ন নদীর পানি একতরফাভাবে প্রত্যাহার হওয়ার ফলে স্রোত আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। ফলে ইলিশ উজান বেয়ে প্রত্যন্ত এলাকায় ছুটে বেড়াতে পারছে না। আরেকটি কারণ হলো অতিরিক্ত জাটকা ইলিশ ধরা। সব কিছু মিলিয়ে বিগত শতাব্দীর সত্তরের দশক না পেরোতেই ইলিশের অভাব প্রকট হতে থাকে। ইলিশের সহজ প্রাপ্যতায় নানা কারণে বিঘ্ন ঘটায় মাছটি স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য দুষ্প্রাপ্য হয়ে যায়।

এরই মধ্যে এ দেশের বাংলা নববর্ষ উৎসব ঘটা করে উদযাপন শুরু হয় (বিগত শতাব্দীর আশির দশকের শুরু থেকে)। এ উৎসবে অংশগ্রহণকারী ও উদ্যোক্তা এক শ্রেণীর বিত্তবান মানুষ (যাদের অধিকাংশই গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি এলাকার বাসিন্দা)। হঠাৎ করেই এরা নিজেদের অতি বাঙালি প্রমাণের জন্য পহেলা বৈশাখে মাটির পাত্রে (সানকি) পান্তা ইলিশের প্রচলন ঘটালেন। পাশাপাশি প্রচারমাধ্যমের কর্মীরা বিষয়টিকে সাজিয়ে এমন সুন্দরভাবে জনসমক্ষে উপস্থাপন করতে শুরু করলেন যার ফল হলো কয়েক বছরের মধ্যেই ইলিশ নামক একসময়ের অতি সহজপ্রাপ্য বাঙালির প্রিয় মাছটির দাম এক লাফে তিন-চার গুণ বেড়ে গেল। শ্রমজীবী এমনকি মধ্যম আয়ের মানুষের কাছেও ইলিশ হয়ে রইল অধরা। এর সঙ্গে যোগ হলো পশ্চিম বাংলার বাঙালিদের বাংলাদেশের ইলিশ প্রাপ্তির নিদারুণ আগ্রহ। এ দেশ থেকে ইলিশ রফতানির চুক্তিও হলো। ফল হলো এই—ইলিশ আর ইলিশ রইল না, হয়ে গেল সোনা। বাংলাদেশের শতকরা ৯০ ভাগ মানুষ সেই বিংশ শতাব্দীর নব্বইয়ের দশক থেকে আজ অবধি ইলিশের সান্নিধ্য পায়নি। ইদানীং বাংলা নববর্ষ শুরু হওয়ার কয়েক দিন আগে থেকে কেজি ওজনের একেকটি ইলিশের দাম হয়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার টাকা।

ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় মাছ। যেমন জাতীয় ফল কাঁঠাল। এর কারণ কিন্তু এই নয় যে ইলিশ দামি মাছ। আসল কারণ হলো এটি গণমানুষের মাছ। যেমন কাঁঠাল গণমানুষের কাছে সহজলভ্য এবং স্বল্প মূল্যে ক্রয় করা যায় এবং একটি সুমিষ্ট ফল। এর উৎপাদন হয় প্রচুর। ইলিশের ক্ষেত্রে তেমনটাই ছিল। যে কারণে এটি হতে পেরেছে জাতীয় মাছ। সেই গণমানুষের মাছটি আজ বাংলাদেশের ৯০ শতাংশ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ঊর্ধ্বে।

তবে বিগত শতাব্দীর আশির দশক থেকে দেশের মৎস্যবিজ্ঞানীদের কল্যাণে বিভিন্ন জেলায় ব্যাপকভাবে পুকুরে পাঙাশ মাছের চাষ শুরু হয়েছে। কার্পজাতীয় মাছ থেকে শুরু করে কৈ, পাবদা, মাগুর—এই জাতের মাছ ব্যাপকভাবে চাষ হচ্ছে। নিম্ন আয়ের মানুষ স্বল্প মূল্যে চাষকৃত পাঙাশ, কার্পজাতীয় মাছ ইত্যাদি ক্রয় করতে পারছে। জাতীয় মাছ ইলিশ এদের ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাবে। ইলিশ বরাবরই সাধারণ মানুষের মাছ। অসাধারণ কিছু নয়। এর প্রমাণ বাংলা প্রবাদ ও প্রবচন।

এখনো বাংলাদেশে এমন অনেক প্রবীণ জন বেঁচে আছেন যাদের মুখে বলতে শুনেছি—ঘরে যেদিন ভালো মাছ-মাংস রান্না হয় না সেদিন হাতের পাঁচ ইলিশ দিয়েই রান্না পর্বটি সারতে হয়। প্রবাদটির সপক্ষে একটি বাস্তব ঘটনার উল্লেখ করছি—১৯৯৫ সালের কথা। পাবনার ফরিদপুর থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে আমি কর্মরত। কার্যোপলক্ষে পাবনা সদর আদালতে এসেছি তৎকালীন একজন ম্যাজিস্ট্রেটের দপ্তরে। এরই মধ্যে দুপুর হয়েছে। আরদালি টিফিন ক্যারিয়ারে করে খাবার এনেছেন। ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব ক্যারিয়ারের পাত্র খুলে দেখলেন বাসা থেকে ভাতের সঙ্গে কোন ধরনের তরকারি পাঠানো হয়েছে। সহসাই বলা শুরু করলেন, ‘আজ দুপুরের খাবারটি সাদামাটা, বাঙালির ঘরে যেদিন ভালো কিছু না থাকে সেদিন ইলিশ দিয়েই খাবার পর্বটি সেরে নিতে হয়। আজ দুপুরে আমার ভাগ্যেও তাই।’ বলা বাহুল্য, ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব বয়সে প্রবীণ ছিলেন। হয়তো দুই-এক বছরের মধ্যেই অবসরে চলে গেছেন।

ইলিশ নিয়ে আরো অনেক সত্য ঘটনা আছে। রবীন্দ্রনাথ খেতে ভালোবাসতেন। পেটুক ছিলেন না, তবে খাদ্যরসিক ছিলেন। শাহজাদপুরে তার জীবন ও কর্ম নিয়ে যারা কাজ করেছেন তাদের লেখা থেকে জেনেছি রবীন্দ্রনাথ ছিলেন চিতল মাছের ভক্ত। শাহজাদপুরে কর্মোপলক্ষে এলেই হুরাসাগরের চিতলমাছ নিয়ে হাজির হতেন নির্ধারিত লোকেরা (বর্তমানে হুরাসাগর একটি অর্ধমৃত প্রবাহ)। চিতলমাছের পেটি ছিল তার সবচেয়ে পছন্দের। তবে তিনি ইলিশেরও ভক্ত ছিলেন। একবার শিলাইদহে নিজ পরিবারের পুত্র-কন্যা জামাইসহ বিশেষ একটি ভোজের আয়োজন করেন। রান্নার দায়িত্বে ছিলেন যজ্ঞেশ্বর। সবাই খেতে বসেছেন। মাছের আস্বাদ গ্রহণ করছেন রবীন্দ্রনাথ। হঠাৎ করেই হাস্যরসে মুখর হলেন—বললেন, ‘আমার প্রিয় ইলিশ মাছের পেটিকে দেখছি হারিয়ে দিল যজ্ঞেশ্বরের চিতল মাছের পেটি।’ আসলে চিতল মাছের পেটিই হলো রবীন্দ্রনাথের সবচেয়ে প্রিয়।

শুধু চিতল নয়, নদীর বড় আকৃতির পাঙাশ, ব্রহ্মপুত্রের বাচা, পদ্মার রিঠা—এ মাছগুলোর সাক্ষাৎ বাজারে খুব বেশি মেলে না। দামেও বেশ কড়া। কৌলিন্যের কারণে এ মাছগুলোর স্বাদ থেকে অধিকাংশ বাঙালি বঞ্চিত। এগুলো বিত্তবানদের খাবার টেবিলে স্থান করে নিয়েছে। তিন তারা-পাঁচ তারা হোটেলেও এদের আদর। আসলে বাংলাদেশকে আরো ভালোভাবে জানতে হবে। আমরা ইলিশ নিয়ে এখন অবধি যে আদিখ্যেতা দেখিয়ে চলেছি তার কণা পরিমাণও রুই, কাতলা, চিতল, পাঙাশ, রিঠা, বাচা কিংবা চলন বিলের কৈ নিয়ে ভাবিনি। আমি মৎস্য প্রেমিকদের কাছে আবেদন রাখছি—একবার টুঙ্গিপাড়ার বন্নির বাঁওড়ে জন্ম নেয়া প্রমাণ সাইজের একটি রুই মাছ কিংবা যশোরের চৌগাছা উপজেলাধীন মর্জাত বাঁওড়ের কাতলা মাছের আস্বাদ গ্রহণ করুন। ব্রহ্মপুত্রের বাচা, পদ্মার মাওয়া এলাকা থেকে ধৃত এক কেজি ওজনের রিঠা, মেঘনা অথবা যমুনার চিতল, চলন বিলের কৈ, বাইন, গোচি-দারুণ স্বাদের এ মাছগুলো সেই অনাদিকাল থেকেই আমাদের পূর্বপুরুষদের রসনায় তৃপ্তি জুগিয়েছে। বাংলাদেশকে সত্যিকারভাবে চিনতে হলে ইলিশের পাশাপাশি অন্যান্য অতি উৎকৃষ্ট স্বাদের মাছগুলোর প্রকৃত বিবরণ তুলে ধরতে হবে।

মাহবুব সিদ্দিকী : নদী গবেষক