যুক্তরাজ্যের এক পুরনো সমাধিস্থলে মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা অবস্থায় হাজার বছর আগের নারীর দেহাবশেষ পাওয়া গেছে। নারীর এই কঙ্কালের হাড় আর দাঁতের ভেতর লুকিয়ে আছে এক অজানা গল্প। তিনি কি তখন মা হতে চলেছিলেন? বিজ্ঞানীরা বলছেন এখন হয়তো সেই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া সম্ভব।
ইংল্যান্ডের শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ববিদ অ্যাইমি বারলো ও তার দল সম্প্রতি এমন এক পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন, যার মাধ্যমে হাজার বছর আগের কোনো নারীর গর্ভাবস্থা শনাক্ত করা সম্ভব। এ গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে জার্নাল অব আর্কিওলজিক্যাল সায়েন্সে।
এ গবেষণায় জানা গেছে, মানুষের হাড় ও দাঁতের ভেতরে লুকিয়ে আছে এক ধরনের ‘হরমোন আর্কাইভ’। এই আর্কাইভে পাওয়া গেছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রজনন হরমোন। এগুলো হলো— ইস্ট্রোজেন, প্রোজেস্টেরন ও টেস্টোস্টেরন।
অ্যাইমি বারলো জানান, কঙ্কালের হাড় ও দাঁতের ভেতর এক ধরনের ‘হরমোন আর্কাইভ’ খুঁজে পাওয়া গেছে। এর আগে কখনো এমনটা খুঁজে পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে প্রোজেস্টেরন হরমোন যা গর্ভাবস্থায় নারীদের শরীরে বেড়ে যায়। আর এই প্রথমবার এটি মানুষের হাড়ে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল, এত পুরোনো কঙ্কালে জৈব উপাদান টিকে থাকার সম্ভাবনা নেই। কিন্তু বারলো সেটি পরীক্ষা করে দেখতে চেয়েছিলেন। তাই তিনি এক থেকে উনবিংশ শতকের মধ্যে মারা যাওয়া সাত জন নারী ও তিন জন পুরুষের হাড় ও দাঁতের নমুনা সংগ্রহ করেন। আর এই পরীক্ষার জন্য ব্যবহার করেন ‘ইলিসা’ নামের একটি বিশেষ প্রযুক্তি, যা সাধারণত প্রোটিন ও হরমোন শনাক্তে ব্যবহার করা হয়।

গবেষণার জন্য নমুনা হিসেবে ব্যবহৃত নারী কঙ্কালগুলোর মধ্যে এটি একটি, যাকে ছবিতে একটি নবজাতক শিশুকে কোলে নিয়ে শুয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে
পরীক্ষার ফলাফল ছিল বিস্ময়কর। দাঁতের এনামেল, রুট, এমনকি ক্যালকুলাস বা দাঁতের পাথরেও এই হরমোনগুলোর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। কিছু নমুনায় প্রোজেস্টেরনের মাত্রা এতটাই বেশি ছিল যে গবেষকেরা মনে করছেন, ওই নারীরা মৃত্যুর সময় গর্ভবতী ছিলেন।
এই আবিষ্কার প্রত্নতত্ত্বে এক নতুন গল্পের দরজা খুলে দিতে পারে। বারলো আশা প্রকাশ করে বলেন, যদি হাড়ে এই হরমোনগুলোর সংরক্ষণের উপায় জানা সম্ভব হয়, তাহলে হয়তো একদিন জানা যাবে কোন নারী কবে, কখন প্রথম গর্ভবতী হয়েছিলেন, সন্তান হারিয়েছিলেন কিনা, কিংবা কত বছর পর পর তারা সন্তান জন্ম দিয়েছিলেনসহ আরো নানা তথ্য।
তবে এই বিজ্ঞানী সতর্ক করে বলেন, গবেষণাটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। আরো বেশি সংখ্যক নমুনায় পরীক্ষা চালিয়ে জীবিত নারীদের চিকিৎসা-তথ্যের সঙ্গে এর তুলনা করতে হবে। এছাড়া মাটির নিচে শত শত বছর ধরে এসব হরমোন কিভাবে নষ্ট না হয়ে টিকে থাকে, সেই রহস্যও উদঘাটন করা প্রয়োজন।
—সিএনএন










