মরু শহর দুবাইয়ের আকাশছোঁয়া দালানগুচ্ছের সঙ্গে নতুন যুক্ত হচ্ছে সিয়েল টাওয়ার। নির্মাণ শেষে ১ হাজার ২০০ ফুট উচ্চতার এ স্থাপনা হবে বিশ্বের উচ্চতম হোটেল। এর ৮২টির বেশি তলায় থাকছে সহস্রাধিক কক্ষ।
টাওয়ারটি নির্মাণের পেছন আছেন ইয়াহিয়া জান। দুবাইয়ের স্থাপত্য নিয়ে যারা এক-আধটু ধারণা রাখেন, তাদের কাছে নামটি পরিচিত হওয়ার কথা। হোটেল আটলান্টিস, শাংরি লা হোটেল, আমিরাত টাওয়ারের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইয়াহিয়ার নাম।
স্থাপত্য ও প্রকৌশলের বিশ্ববিখ্যাত প্রতিষ্ঠান এনওআরআর-এর ডিজাইন ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করছেন ইয়াহিয়া জানান। বর্তমানে সিয়েল টাওয়ার নিয়ে পার করছেন ব্যস্ত সময়। ২০১৮ সালে নির্মাণ শুরু হওয়া টাওয়ারটি চালুর কথা রয়েছে ২০২৩ সালে।
সিয়েল টাওয়ারকে স্বপ্নের প্রজেক্ট হিসেবে অভিহিত করে থাকেন ইয়াহিয়া জান। মাত্র ২ হাজার ৫০০ বর্গমিটার জমিতে তৈরি হচ্ছে এই হোটেল। আকাশছোঁয়া উচ্চতার অট্টালিকা হিসাবে জমির পরিমাণ বলতে গেলে কমই। সেটা মাথায় নিয়েই অভিনব কিছুর জন্য কাজ করেছেন তিনি।
টাওয়ারের জানালা দিয়ে যেন গোটা শহরের ৩৬০ ডিগ্রি ভিউ পাওয়া যায়, ইয়াহিয়ার এমনই পরিকল্পনা। সেই সঙ্গে যেন উপভোগ করা যায় উপকূল এবং পাম জুমেইরাহ দ্বীপপুঞ্জের সৌন্দর্য। পর্যটকরা ছাদের সুইমিংপুল কিংবা রেস্টুরেন্ট বসেই এ সৌন্দর্যের সাক্ষি হতে পারবেন।
গোটা পরিকল্পনায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সাশ্রয় ব্যাপক গুরুত্ব পাচ্ছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সাধারণ ভবনের চাইতে ২৫ শতাংশ কম বিদ্যুৎ ব্যবহার হবে সিয়েল টাওয়ারে। অবশ্য ইয়াহিরা জান বলছেন, আসলে এটা শুধু স্থাপত্যের বিষয় না। স্থাপত্য ও প্রকৌশল উভয়েরই। ঠিক এই জন্যই কাজটাকে আমি ভালোবেসেছি। এমন এক আবেগ যেখানে শিল্প ও বিজ্ঞান মিলেমিশে একাকার।
ইয়াহিয়া জান প্রথম দুবাইতে আসেন ১৯৯৬ সালে। বেড়ে উঠেছেন পাকিস্তানের করাচিতে। আঠারো বছর বয়সে বৃত্তি নিয়ে যান যুক্তরাষ্ট্রে। প্রকৌশল নিয়ে পড়াশোনা করেছেন প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে, এরপর স্থাপত্যবিদ্যায় মাস্টার্স। যুক্তরাষ্ট্রে নয় বছরের মতো কাজ করে চলে আসেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে। অবশ্য দুবাইয়ে স্থায়ী হবার কোন পরিকল্পনা ছিল না তার। ২২ বছরের যে যুবক স্বপ্নাতুর চোখ নিয়ে এসেছিলেন তার বয়স এখন ৫৭ বছর। আর গত সিকি শতাব্দিতে তার হাত ধরে তৈরি হয়েছে বিশ্বের আলোচিত কিছু ভবন।
নিজেকে অত উচ্চতায় তুলতে পারার কথা কখনো কল্পনাও করেননি ইয়াহিয়া জান। ভাবতেও পারেননি তার হাতেই নির্মিত হতে যাচ্ছে দুবাইয়ের আইকনিক কিছু স্থাপনা। কিন্তু এখন তিনি স্বপ্ন ও কাজের মেলবন্ধন ভীষণ উপভোগ করেন। ইয়াহিয়া জানের বিশ্বাস, সিয়েল টাওয়ারকে একদিন কালজয়ী হিসেবেই গণ্য করা হবে। যেমনটা এখন এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং কিংবা ক্রিসলার বিল্ডিংকে গণ্য করা হয়।
ফরাসি শব্দ সিয়েলের অর্থ আকাশ। এই নামের তাত্পর্য নিয়ে জানতে চাইলে ইয়াহিয়া বলেন, আমাদের জীবনে কেবল আকাশটাই সীমানা। বিশেষ করে আমার জীবনে। আমি এমন কিছু করার সুযোগ পেয়েছি, যাকে পাবার ব্যাপারে কল্পনাও করিনি। এটি সত্যিই বিস্ময়কর।
সেই বিস্ময় এখন বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচিত হওয়ার অপেক্ষায়। যেখানে ইয়াহিয়া জানের কল্পনা সত্যি সত্যি আকাশ ছুঁয়েছে।
সিএনএন অবলম্বনে









