প্রযুক্তির হাত ধরে সময় বদলায়। বদলে যায় জীবন ব্যবস্থাও। ২০০০ সাল থেকে সেরা উদ্ভাবনের তালিকা করে আসছে টাইম ম্যাগাজিন। ২০২৫ সালে সেরা উদ্ভাবনের তালিকা করার পাশাপাশি নতুন অধ্যায় শুরু করেছে টাইম ম্যাগাজিন। ‘বেস্ট ইনভেনশনস হল অব ফেম’- গত ২৫ বছরের আইকনিক সব উদ্ভাবন জায়গা পেয়েছে এ তালিকায়। যার মাধ্যমে ২৫ বছরে মানুষের কল্পনা, চিন্তা ও বিজ্ঞানের অগ্রগতির ধারাবাহিকতা প্রতিফলিত হয়েছে।

গত ২৫ বছরের আইকনিক উদ্ভাবনগুলোকে পাঁচ পর্বে উপস্থাপন করবে বণিক বার্তা। আজ থাকছে তৃতীয় পর্ব—

২০১১: আইবিএম ওয়াটসন

২০১১ সালে জনপ্রিয় টেলিভিশন কুইজ শো জেপার্ডির মঞ্চে দুজন কিংবদন্তি চ্যাম্পিয়নকে হারিয়েছিল একটি যন্ত্র। যার নাম ওয়াটসন, আইবিএমের তৈরি সুপারকম্পিউটার।

টাইম ম্যাগাজিন সে বছর ওয়াটসনকে বিশ্বের সেরা উদ্ভাবনগুলোর একটি হিসেবে ঘোষণা করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘এ সুপারকম্পিউটারটির আকার প্রায় ১০টি রেফ্রিজারেটরের সমান এবং এটি প্রতি সেকেন্ডে ৮০ ট্রিলিয়ন অপারেশন সম্পন্ন করতে পারে।’ ওয়াটসনের নামকরণ করা হয় আইবিএমের প্রতিষ্ঠাতা থমাস জে. ওয়াটসনের নামানুসারে।

25-most-iconic-best-inventions-IBM-Watson

ওয়াটসন এক ধরনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবস্থা, যা শুধু গাণিতিক হিসাব নয়, প্রাকৃতিক ভাষা বুঝতে ও প্রশ্নের বিশ্লেষণ করতে পারত। মানুষের মতো ভাবতে পারা, অন্তত তার কিছুটা অনুকরণ করাই এ সুপার কম্পিউটারের মূল বৈশিষ্ট্য।

২০১১ ও ২০১২: নাসার কিউরিওসিটি রোভার

২০১১ সালের নভেম্বরে মঙ্গলগ্রহের উদ্দেশে রোবটযান উৎক্ষেপণ করেছিল নাসা। এক টন ওজনের, এসইউভির আকারের মহাকাশযানটির নাম কিউরিওসিটি রোভার। পরের বছরের আগস্টে মঙ্গলগ্রহের গেল ক্রেটারে এটি সফলভাবে অবতরণ করে।

২০১২ সালে নাসার কিউরিসিটি রোভারকে বেস্ট ইনভেনশন তালিকাভুক্ত করে টাইম। ম্যাগাজিনটির ভাষায়, নাসা আগেও মঙ্গলে পৌঁছেছিল, কিন্তু ক্রেটারে অবতরণ করা কিউরিওসিটির বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতির পরিমাণ আগের যেকোনো মিশনের তুলনায় দশগুণ বেশি।

PIA20316large

১৩ বছর পরও কিউরিওসিটি এখনো মঙ্গলে কর্মরত। ১০টি উন্নত যন্ত্র নিয়ে এটি শিলা ও ধূলিকণার নমুনা বিশ্লেষণ করছে। মঙ্গলগ্রহের মাটি থেকে বস্তু সংগ্রহ করছে। সেইসঙ্গে গ্রহটির অতীতের সম্ভাব্য জীবনযাপনের উপযোগিতা অনুসন্ধান করছে। ২০১৩ সালের আগস্টে, অবতরণের এক বছর পূর্তিতে এটি নিজেই হ্যাপি বার্থডে গান বাজিয়ে জন্মদিন উদযাপন করেছে।

২০১৩: টেসলা এস মডেল

বিশ্বের গাড়ি শিল্পের ইতিহাসে ২০১২ সাল এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এর আগে বৈদ্যুতিক গাড়ি বলতে মানুষের ধারণা ছিল ছোট আকারের, ধীরগতির, সীমিত দূরত্বে চলতে সক্ষম কিছু পরীক্ষামূলক যান। কিন্তু মডেল এস সেই ধারণা ভেঙে দেয়। একবার চার্জে এটি চলতে পারে প্রায় ৪২৬ কিলোমিটার।

tesla-model-s

টাইম ম্যাগাজিন ২০১২ সালে মডেল এস-কে বছরের সেরা উদ্ভাবনের তালিকায় স্থান দেয়, লিখেছিল—‘এই বৈদ্যুতিক চার দরজার সেডানটির নকশায় আছে জাগুয়ারের মতো সৌন্দর্য, একবার চার্জে ছুটতে পারে ২৬৫ মাইল। এতে রয়েছে সম্পূর্ণ টাচস্ক্রিন নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা—জিপিএস নেভিগেশন থেকে শুরু করে সাসপেনশন পর্যন্ত সবকিছু এক স্ক্রিনেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়।’

২০১৩: ক্রোনাট

২০১৩ সালে জন্ম নেয় বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত ‘ফিউশন ফুড’ ক্রোনাট। টাইম ম্যাগাজিন সে বছর লিখেছিল, আইসক্রিম কেক বা টারডাকেনের মতো ফিউশন ফুডের দলে যোগ—ক্রোনাট। এটি এমন এক পেস্ট্রি, যার আকার ও স্তর ক্রোয়াসাঁর মতো, কিন্তু বানানো হয় ডোনাটের মতো ভেজে। ভেতরে থাকে ক্রিম, আর ওপরে চকচকে মিষ্টি গ্লেজ।

25-most-iconic-best-inventions-Cronut-1

নিউইয়র্কের ফরাসি বংশোদ্ভূত শেফ ডমিনিক আনসেল তার লোয়ার ম্যানহাটনের বেকারিতে প্রথম এই পেস্ট্রি বিক্রি শুরু করেন। দাম ছিল মাত্র ৫ ডলার। দ্রুতই ক্রোনাট বিশ্বব্যাপী ক্রেজে পরিণত হয়।

২০১৭: নিনটেন্ডো সুইচ

ভিডিও গেম কনসোলের জগতে ২০১৭ সালে এক নতুন অধ্যায় যোগ করে নিনটেন্ডো সুইচ। এর বহুমুখী ব্যবহারিক বৈশিষ্ট্য এটিকে অন্যান্য কনসোল থেকে আলাদা করেছে।

টাইম ম্যাগাজিন লিখেছিল, ‘এটি একটি হ্যান্ডহেল্ড ট্যাবলেট, যা ব্যবহারকারীকে চলাফেরার মধ্যে গেম খেলার সুযোগ দেয়। এ ডিভাইসে দুইটি কন্ট্রোলার পাশে থেকে সরিয়ে নেয়ার সুবিধাও রয়েছে। যাতে একাধিক ব্যবহারকারী একসঙ্গে খেলার আনন্দ পেতে পারে। আর বাসায় পৌঁছালে তারা সেই ট্যাবলেটটি একটি ডকিং স্টেশনে বসিয়ে হোম কনসোল-এর সুবিধা ভোগ করতে পারে।’

25-most-iconic-best-inventions-nintendo-switch

উদ্ভাবনের বছরে কনসোলটি বিক্রি হয়েছে ৭ দশমিক ৬৩ মিলিয়ন ইউনিট। ২০২৩ পর্যন্ত মূল সুইচের মোট বিক্রয় হয়েছে ১৫৩ মিলিয়ন ইউনিট। এ বছরেরও নিনটেন্ডো সুইচ ২ টাইম-এর সেরা উদ্ভাবন তালিকায় স্থান পেয়েছে।