মাটি খুঁড়ে পাওয়া একটি ছোট্ট স্বর্ণের আংটি। জেরুজালেমের পুরোনো শহরের নিচে লুকিয়ে ছিল সে আংটি— যেন কোনো কিশোরীর গোপন স্বপ্ন!

প্রায় ২ হাজার ৩০০ বছর আগের এই সোনার আংটি সদ্য আবিষ্কৃত হয়েছে সিটি অব ডেভিড এলাকায়। এর গায়ে খচিত একটি লাল রত্ন, যার চমক এখন ইতিহাসে আলো ফেলছে।

গবেষকদের বিশ্বাস, এটি ইচ্ছা করে মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়েছিল। তার পাশে মিলেছে আরো কিছু অলঙ্কার— স্বর্ণের পুঁতি, ব্রোঞ্জের দুল ও এক শিংওয়ালা প্রাণীর অবয়ব।

প্রথম আংটিটি যখন পাওয়া যায়, তখন এক খননকর্মী প্রথমে সেটিকে আধুনিক গহনা ভেবে ভুল করেছিলেন। পরে খেয়াল করে দেখেন সেটি প্রাচীন নকশার। তখন সবার মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আরেকটি আংটি আগে একই স্থানে পাওয়া যায়। আর সেখান থেকেই শুরু হয় নতুন করে ইতিহাস খোঁজার অভিযান।

WhatsApp Image 2025-06-16 at 13.30.59

প্রারম্ভিক হেলেনিস্টিক যুগের এই দুই স্বর্ণের আংটি (বামে ও ডানে) জেরুজালেমের প্রাচীন ইতিহাসের সাক্ষী

বার-ইলান বিশ্ববিদ্যালয়ের খনন ব্যবস্থাপক এফরাত বোখার বললেন, এই রকম সূক্ষ্ম কাজ করা স্বর্ণের অলঙ্কার জেরুজালেমে খুব একটা দেখা যায় না। এটা শুধু অলঙ্কার নয়, একটি কিশোরীর জীবনের গল্পও।

এই অলঙ্কারগুলো হেলেনিস্টিক যুগের। গবেষকেরা বলছেন, সেই সময়ের একটি প্রথা ছিল—যৌবনে পা দেয়ার আগে মেয়েরা নিজেদের প্রিয় অলঙ্কার মাটিতে পুঁতে রাখতেন। হয়তো সেই কিশোরী মেয়েটিও তার জীবনের কোনো বিশেষ মুহূর্তের গহনা রেখে গিয়েছিল ভবিষ্যতের জন্য— যা সে নিজেও জানত না যে এতদিন পরে আবার আলো দেখবে।

তাদের ধারণা, এই জায়গায় একসময় একটি অভিজাত পরিবার বসবাস করত। বাড়িটির ভিতে এই অলঙ্কারগুলো মাটিচাপা অবস্থায় পাওয়া গেছে। শুধু অলঙ্কার নয়, সেখানে পশুর হাড়, মুদ্রা আর মৃৎপাত্র বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা বোঝার চেষ্টা করছেন— সেই সময়কার মানুষ কী খেতেন কিংবা তারা ইহুদি ধর্মের কাশরুত বিধি মানতেন কি না!

অনেক আগে থেকে ধারণা ছিল, জেরুজালেম বাইরের সংস্কৃতির প্রভাব থেকে দূরে ছিল। কিন্তু এই অলঙ্কারগুলো সে ধারণা পাল্টে দিচ্ছে।

একটি ছোট্ট আংটি, তাতে খচিত লাল রত্ন। হয়তো কেউ ভালোবেসে দিয়েছিল কিংবা কেউ হারিয়ে ফেলেছিল। আর এখন সেই আংটি হয়ে উঠেছে ইতিহাসের এক নীরব সাক্ষী।

—সিএনএন