নোবেল পুরস্কারের মৌসুমে বাঙালির আগ্রহ ঝুঁকে থাকে, কে পাচ্ছেন সাহিত্য বা শান্তিতে নোবেল; সে দিকে। সঙ্গে এও আফসোস থাকে বাংলা সাহিত্যে অনেক গ্রেট মাস্টার বিশ্বমানের লেখা লিখেও এই স্বীকৃতি পাননি। যা শুধু কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অর্জনের মাঝে থমকে আছে। বিশেষ করে বিখ্যাত তিন ‘বন্দোপাধ্যায়’ নিয়ে তাদের আফসোস বেশি।
সম্প্রতি জানা গেছে, ১৯৭১ সালে সাহিত্যে নোবেলের মনোনয়ন পেয়েছিলেন বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম প্রাণপুরুষ তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে ওই বছর পুরস্কারটি গিয়েছিল চিলির কবি ও কূটনীতিক পাবলো নেরুদার হাতে।
ওই ঘটনার ৫১ বছর পর নোবেল কর্তৃপক্ষ পুরোনো আর্কাইভ প্রকাশ করলে তারাশঙ্করের বিষয়টি নজরে আসে।
জানা যায়, ভারতীয় সাহিত্য আকাডেমির সম্পাদক কৃষ্ণ কৃপালনি ‘কবি’-খ্যাত ঔপন্যাসিকের নাম প্রস্তাব করেছিলেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ওই বছরেই ১৪ সেপ্টেম্বর তারাশঙ্করের মৃত্যুর কারণে মনোনয়নটি চূড়ান্ত বিবেচনায় নেয়নি কমিটি। কারণ মরণোত্তর নোবেল দেয়ার নিয়ম নেই।
নোবেল কর্তৃপক্ষ এতদিন শুধু বিজয়ীর নাম প্রকাশ করলেও সম্প্রতি প্রকাশ্যে এনেছে পুরোনো নথি। তাতে দীর্ঘদিনের মনোনীত ব্যক্তিদের তালিকা দেখা যাচ্ছে। তারাশঙ্কর ১৯৭১ বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে নোবেলের চৌকাঠে পা রেখেছিলেন। তার আগে ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। উপমহাদেশের ইতিহাসে সেটাই প্রথম নোবেল প্রাপ্তি। এরপর অন্যান্য ক্ষেত্রে পেলেও সাহিত্যে আর নোবেল পাওয়া হয়ে উঠেনি।
১৮৮৮ সালের ২৩ জুলাই বীরভূমে জন্মগ্রহণ করেন তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। লিখেছেন ৬৫টি উপন্যাস, ১২টি নাটক ও ৫৩টি গল্প। সেখানে ‘চৈতালী ঘূর্ণি’ থেকে শুরু করে ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা ও কবির মতো অনন্য সৃষ্টিকর্মের নামও রয়েছে। ঝুলিতে পুরেছেন সাহিত্য আকাদেমি, রবীন্দ্র ও জ্ঞানপীঠ পুরস্কার। পেয়েছেন পদ্মশ্রী ও পদ্মভূষণ উপাধি। সমাজের প্রান্তিক শ্রেণীকে সাহিত্যে ফুটিয়ে তুলতে তিনি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী।









