বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও প্রভাবশালী চিত্রশিল্পী এবং শিল্প আন্দোলনের পথিকৃৎ পাবলো পিকাসোর একটি চিত্রকর্ম স্পেনে এক প্রদর্শনীতে নেয়ার সময় হারিয়ে গেছে। এ ঘটনার তদন্তে নেমেছে স্পেনের পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, প্রদর্শনীর পথে থাকা অবস্থায় এটি নিখোঁজ হয়েছে।
১৯১৯ সালের গৌয়াশ (জলভিত্তিক রঙ)-এর মাধ্যমে আঁকা চিত্রকর্মটির নাম 'স্টিল লাইফ উইথ গিটার'। এটির আকার মাত্র ১২ দশমিক ৭ সেন্টিমিটার বাই ৯ দশমিক ৮ সেন্টিমিটার (প্রায় ৫ ইঞ্চি বাই ৩.৯ ইঞ্চি)। চিত্রটি ৯ অক্টোবর থেকে দক্ষিণ স্পেনের গ্রানাডা শহরের কাজাগ্রানাডা কালচারাল সেন্টারে একটি অস্থায়ী প্রদর্শনীতে প্রদর্শিত হওয়ার কথা ছিল। খবর সিএনএন।
কাজাগ্রানাডা ফাউন্ডেশনের পক্ষে জানানো হয়, চিত্রকর্মটি ব্যক্তিগত সংগ্রাহকের মালিকানাধীন এবং এর বীমা মূল্য ধরা হয়েছিল আনুমানিক ৬ লাখ ইউরো বা প্রায় ৭ লাখ মার্কিন ডলার।
প্রদর্শনী শুরুর আগে, মাদ্রিদ থেকে আর্টওয়ার্কগুলো পরিবহনের দায়িত্বে থাকা একটি কোম্পানির ভ্যান নির্ধারিত সময়ে সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে পৌঁছায়। ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, সব শিল্পকর্মই ভ্যান থেকে নামিয়ে ভূগর্ভস্থ তলা (-১) থেকে প্রথম তলা (১) পর্যন্ত একটি মালবাহী লিফটে করে তোলা হয়, যেখানে পরিবহন কোম্পানির কর্মীরা সবাই একসঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
এরপর পণ্যগুলোকে ভিডিও নজরদারির মধ্যে দিয়ে লিফট থেকে প্রদর্শনীকক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। বিভিন্ন প্যাকেজের উৎস যাচাই করে প্রদর্শনীর ব্যবস্থাপক পরিবহন কোম্পানির সঙ্গে সম্মত হন, প্যাকেজগুলো খোলার আগে ডেলিভারির নথিপত্রে স্বাক্ষর সম্পন্ন করা হবে।
ফাউন্ডেশনের তথ্যানুসারে, সপ্তাহান্তজুড়ে প্যাকেজগুলো ভিডিও নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছিল এবং পরে খোলার কাজ শুরু হয়। ভিডিও রেকর্ডিংগুলো পরীক্ষা করে দেখা গেছে, সপ্তাহান্তে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি।
তবে পরের দিকে যখন সব শিল্পকর্ম খোলা শেষ করে প্রদর্শনীর কক্ষে সাজানো হচ্ছিল, তখনই প্রদর্শনীর কিউরেটর এবং বিভাগীয় প্রধান লক্ষ্য করেন, পিকাসোর 'স্টিল লাইফ উইথ গিটার', যা স্প্যানিশে পরিচিত 'নাতুরালেজা মুয়ের্তা কন গিতারা' নামে, সেটি নেই।
এরপরই ফাউন্ডেশন পুলিশকে চিত্রকর্ম হারানোর খবর জানায়। ভিডিও রেকর্ডিংগুলো পুনরায় পরীক্ষা করে নিশ্চিত করা হয়, সপ্তাহান্তে কোনো ঘটনার চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
গ্রানাডা পুলিশ সিএনএনকে জানায়, এর তদন্ত চলছে এবং চিত্রকর্মটি কখন ও কোথায় হারিয়ে গেছে তা নির্ধারণের চেষ্টা চলছে। পুলিশ আরো জানায়, নিখোঁজ কাজটি এখন আন্তর্জাতিক চুরি হওয়া শিল্পকর্মের ডাটাবেসে যুক্ত হয়েছে।
পিকাসোর চিত্রকর্ম বহুবারই চোরদের টার্গেটে পরিণত হয়েছে। তার কিছু কাজ নিলামে ১৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার পর্যন্ত দামে বিক্রি হয়েছে।
২০১৯ সালে এক ডাচ আর্ট ডিটেকটিভ পুনরুদ্ধার করেন পিকাসোর ১৯৩৮ সালের মাস্টারপিস 'পোর্ট্রেট অব ডোরা মার', যা ২০ বছর আগে ফ্রান্সের দক্ষিণ উপকূলে এক সৌদি শেখের ইয়ট থেকে চুরি হয়েছিল।
২০২১ সালে গ্রিক পুলিশ উদ্ধার করে পিকাসোর 'হেড অব আ ওম্যান' এবং পিয়েত মন্ড্রিয়ানের 'ল্যান্ডস্কেপ উইথ অ্যা মিল' — যা প্রায় এক দশক আগে এথেন্সের ন্যাশনাল আর্ট গ্যালারি থেকে দুঃসাহসীকভাবে চুরি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
আর গত বছর বেলজিয়ান পুলিশ অ্যান্টওয়ার্প শহরের এক বেজমেন্ট থেকে পিকাসোর চুরি হওয়া চিত্রকর্ম 'টেট' উদ্ধার করে।










