সাইবেরিয়ার টুমাত অঞ্চলে ২০১১ ও ২০১৫ সালে পাওয়া বরফে মোড়ানো দুটি কুকুরছানা নিয়ে দীর্ঘ গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এগুলো আসলে গৃহপালিত কুকুর নয়। বরং ১৪ হাজার বছরের পুরোনো দুইটি নেকড়ে শাবক।
শাবক দুটির শরীর এখনো অক্ষত, পশমে ঢাকা। কারণ এরা চাপা পড়েছিল বরফের আস্তরের নিচে। তাদের পেটের ভেতর ছিল চমকপ্রদ এক প্রমাণ— গন্ডারের চামড়া, পশম ও ছোট পাখির পালক। ধারণা করা হচ্ছে, মৃত্যুর আগে গন্ডারের ছানার চামড়া খেয়েছিল তারা।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এত বড় শিকার ধরা সম্ভব ছিল কেবল একটি বড় আকারের নেকড়ে দলের জন্য। পরিবারের বড় নেকড়েরা শিকার করে ছোটদের খাইয়ে রেখেছিল— যেমনটা আধুনিক নেকড়ে পরিবারেও দেখা যায়।
বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, শাবক দুটি হয়তো মানুষের সঙ্গে ছিল না। তাদের দাঁত, হাড় ও পেটের রাসায়নিক বিশ্লেষণে মিলেছে তার প্রমাণ— তারা তখনো ছিল জঙ্গলে স্বাধীন নেকড়ে সমাজের অংশ। তারা হয়তো তখনো মায়ের দুধ খাচ্ছিল। মৃত্যু হয়েছিল হঠাৎ! হয়তো বসতঘরের ওপর কিছু ধসে পড়ে কিংবা তুষারধসে চাপা পড়ে তারা মারা যায়।
প্রাণী বিজ্ঞানীরা জানান, তাদের বাসস্থান ছিল গুহার মতো নিরাপদ জায়গায়, যেখান থেকে বাইরে দেখা যেত তৃণভূমি, ঝোপঝাড় আর বিচিত্র উদ্ভিদ। সেখানে শিকার হতো গন্ডার আর ম্যামথের। শাবকদের খাদ্যতালিকায় ম্যামথ না থাকায় ধারণা করা হয়, তাদের খাবারের জোগান দিত তাদের নেকড়ে পরিবারই, কোনো মানুষ নয়।
গবেষকরা মনে করছেন, এই দুই শাবক ছাড়াও তাদের আরো ভাইবোন থাকতে পারে, যারা হয়তো বেঁচে গিয়েছিল, অথবা এখনো বরফের নিচে লুকিয়ে আছে সেই হারিয়ে যাওয়া সময়ের সাক্ষী হয়ে।
—সিএনএন









