২০০৮ সালের মহামন্দার সময় যারা তরুণ ছিলেন, আজ জেন-জিদের (জেনারেশন জেড) সতর্ক করেছেন তারা। নতুন এই প্রজন্মের প্রতি মিলেনিয়ালদের পরামর্শ, এবারের সংকট আরো কঠিন হতে পারে। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে টিকটকে ভাইরাল হচ্ছে মিলেনিয়ালদের দেয়া টিপস— কীভাবে বাজেট ম্যানেজ করতে হয়, কোন খরচগুলো কাটাতে হবে এবং অল্পতেই কীভাবে টিকে থাকা যায়।

যুক্তরাষ্ট্র এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মন্দার সম্মুখীন না হলেও বৈশ্বিক বাজারে এ আশঙ্কার সুর স্পষ্ট। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিগত অস্থিরতা, বৈশ্বিক বাণিজ্য যুদ্ধে উত্তেজনা, কোভিড-উত্তর মূল্যস্ফীতি এবং তরুণদের আয়ের নিম্নসূচক- সব মিলিয়ে পরিস্থিতি দিন দিন ২০০৮-এর মতোই হয়ে উঠেছে। এই অবস্থায় জেন-জি— প্রথমবার মতো দেখতে যাচ্ছে মন্দা। আর তারা ফিরে তাকাচ্ছে মিলেনিয়ালদের দিকে, যারা এক যুগ আগে এই লড়াইয়ের ফ্রন্টলাইন বা সামনের সারিতে ছিলেন।

জেন-জির তরুণ দর্শকেরা এই গল্প শুনছে বিস্ময়ে। অনেকে তাদের নিজের রেশন পরিকল্পনা, ব্যয় সংকোচন, সাবস্ক্রিপশন ভাগাভাগি ও সৌন্দর্যসেবায় কাটছাঁট করার কৌশল শেয়ার করছেন। একই সঙ্গে ‘লিপস্টিক ইনডেক্স’-এর মতো সামাজিক তত্ত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এই তত্ত্ব বলে, মন্দার সময় মানুষ ছোট ছোট আনন্দের জন্য খরচ বাড়ায়— লিপস্টিক, ক্যান্ডেল, ক্যাফে কফি ইত্যাদিতে। তবে গবেষকরা বলছেন, এবারের পরিস্থিতি ব্যতিক্রম।

জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ সাইমন ব্ল্যানচার্ড বলেন, মানুষ সাধারণত পুরো একটি খরচের বিভাগ বাদ দেয়, আর কিছুটা করে সবখানে কাটছাঁট করে না। তার মতে, লিপস্টিক বা ক্যান্ডেলের মতো ছোট ছোট আনন্দ এখন বাদ পড়বে প্রথমে।

কিন্তু জেন-জির দুশ্চিন্তা আরো গভীর। কোভিড মহামারীর সময় চাকরি শুরু করা এই প্রজন্ম এরই মধ্যে দেখেছে রেকর্ড মুদ্রাস্ফীতি। কেউ কেউ বলছেন, ২০০৮-এ একটা রিটেইল জবেও বাঁচা যেত, আজ তাও সম্ভব হচ্ছে না।

তবে মিলেনিয়ালদের বার্তা পরিষ্কার, আমরা অল্পতেই খুশি থাকতে শিখেছি, তোমরাও পারবে। এই অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে মিলেনিয়ালদের অভিজ্ঞতা হয়ে উঠছে জেন-জিদের জন্য জীবন্ত পাঠ্যবই। তাদের মূল বার্তা— মন্দা চিরস্থায়ী নয়, কিন্তু প্রস্তুতি জরুরি।