পম্পেই নগরীর ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে ছিল যেন এক জীবন্ত ইতিহাস। সম্প্রতি সেখানে পাওয়া গেছে দুটি প্রায় মানুষের আকারের মূর্তি। প্রত্নতত্ত্ববিদরা বলছেন, এ মূর্তিগুলো শুধু পাথরই নয়। এরা যেন সময়ের সাক্ষী, যা আমাদের অতীতের হারিয়ে যাওয়া জগতের গল্প শোনায়।

একই সঙ্গে প্রত্নতত্ত্ব বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূর্তি দুটি রোমান সমাজে নারী পুরোহিতের মর্যাদা ও ক্ষমতা সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি উন্মোচন করতে পারে।

ঘটনার শুরু পম্পেই নগরীর পোর্টা সার্নো প্রবেশদ্বারের কাছে। খননকাজ চলছিল সেখানে। আর এ জায়গাতেই পাওয়া যায় দুটি বিশাল মার্বেল মূর্তি। একটি পুরুষের, অন্যটি নারীর। কিন্তু নারীর মূর্তিটিই সবচেয়ে চমকপ্রদ। তার পরনে দুল, ব্রেসলেট, আংটি ও চাঁদ-আকৃতির লকেট পাওয়া গেছে। গবেষকরা বলছেন, এটি ‘লুনুলা’ নামে পরিচিত, যা সেরেস দেবীর পুরোহিতরা পরতেন। সেরেস ছিলেন উর্বরতা, কৃষি ও মাতৃত্বের দেবী।

এ নারী মূর্তির হাতে স্ক্রোল ও লরেল পাতা ধরা, যা পবিত্র স্থান শুদ্ধিকরণের প্রতীক। গবেষকরা ধারণা করছেন, তিনি একজন উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন পুরোহিত ছিলেন। তার পাশে থাকা পুরুষটি হয়তো তার সন্তান বা অন্য কোনো পুরোহিত।

পম্পেই প্রত্নতাত্ত্বিক উদ্যানের পরিচালক গ্যাব্রিয়েল জুচত্রিগেল বলেন, এ আবিষ্কার প্রমাণ করে, পম্পেইতে নারী পুরোহিতের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

খনন প্রকল্পটি শুরু হয় গত বছরের জুলাইতে। এরই মধ্যে গবেষকরা ৫০টিরও বেশি দাহকৃত সমাধির সন্ধান পেয়েছেন। ২০২১ সালে একই এলাকাতেই আরো একটি সমাধি থেকে মমি করা দেহাবশেষ উদ্ধার হয়েছিল।

উদ্ধারকৃত মূর্তিগুলো সংরক্ষণে রাখা হয়েছে। আগামী ১৬ এপ্রিল থেকে একটি প্রদর্শনীতে এগুলো দর্শকের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে।

—সিএনএন