২০০০ সাল থেকে সেরা উদ্ভাবনের তালিকা করে আসছে টাইম ম্যাগাজিন। ২০২৫ সালে সেরা উদ্ভাবনের তালিকা করার পাশাপাশি নতুন অধ্যায় শুরু করেছে টাইম ম্যাগাজিন। ‘বেস্ট ইনভেনশনস হল অব ফেম’- গত ২৫ বছরের আইকনিক সব উদ্ভাবন জায়গা পেয়েছে এ তালিকায়। যার মাধ্যমে ২৫ বছরে মানুষের কল্পনা, চিন্তা ও বিজ্ঞানের অগ্রগতির ধারাবাহিকতা প্রতিফলিত হয়েছে।

প্রযুক্তির হাত ধরে সময় বদলায়, বদলে যায় জীবন ব্যবস্থাও। কিন্তু কিছু উদ্ভাবন সবসময়ই প্রাসঙ্গিক। সেগুলোই স্থান পেয়েছে ‘বেস্ট ইনভেনশনস হল অব ফেম’ তালিকায়। গত ২৫ বছরের আইকনিক উদ্ভাবনগুলোকে পাঁচ পর্বে উপস্থাপন করবে বণিক বার্তা। আজ থাকছে প্রথম পর্ব—

২০০১: জন্ম নিয়ন্ত্রক নুভারিং

একবিংশ শতাব্দীর শুরু পর্যন্ত নারীদের জন্মনিয়ন্ত্রণে মূল পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হতো—দৈনিক পিল ও শরীরে স্থাপিত ইমপ্লান্ট। ঠিক তখনই জন্মনিয়ন্ত্রণে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনে নুভারিং।

টাইম ম্যাগাজিন ২০০১ সালের সেরা আবিষ্কারগুলোর তালিকায় নুভারিংকে অন্তর্ভুক্ত করে লিখেছিল—‘পিল বা ইনজেকশন পছন্দ না করা নারীদের জন্য এখন আছে নতুন, দীর্ঘমেয়াদি বিকল্প।’

নুভারিং একটি পাতলা, নমনীয় প্লাস্টিক রিং। নারীরা এটি সহজেই প্রতি মাসে একবার যোনিতে স্থাপন করতে পারেন। তিন সপ্তাহ হরমোন নিঃসরণ করে গর্ভধারণ প্রতিরোধ করতে পারে রিংটি। ফলে প্রতিদিন পিল খাওয়ার ঝামেলা দূর হয়। সবচেয়ে বড় সুবিধা এটি স্থায়ী নয় এবং ব্যবহারকারী চাইলেই খুলে ফেলতে পারেন। গত ২৫ বছরে জন্মনিয়ন্ত্রণের এ পদ্ধতি ইউরোপীয় নারীদের জন্য হয়ে উঠেছে, ‘ফ্লেক্সিবল অথরিটি’ বা স্বাচ্ছন্দ্য ও স্বাধীনতার প্রতীক।

25-most-iconic-best-inventions-nuva-ring

নুভারিং

২০০২: আইরোবট রুম্বা

আইরোবট রুম্বা— ভ্যাকুয়াম রোবট রুম ক্লিনার। ২০০২ সালে টাইম ম্যাগাজিনের সেরা উদ্ভাবনে জায়গা করে নেয় এটি। ডিস্ক-আকৃতির রোবটটি বাড়ির ভেতর ঘুরে ঘুরে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র আবর্জনা পরিষ্কার করে। সেন্সরের মাধ্যমে এটি আসবাবপত্র বা অন্যকিছুর সঙ্গে ধাক্কা লাগানো এড়িয়ে চলে। পুনরায় চার্জযোগ্য ব্যাটারিতে চলা রোবট ক্লিনারটি সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে প্রবেশ করতে সক্ষম।

সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, কাজ শেষ হলে রুম্বা গর্বের সঙ্গে সিগন্যাল দিয়ে নিজেই বন্ধ হয়ে যায়। এ উদ্ভাবন শুধু মানুষকে দৈনন্দিন ঝঞ্ঝাট থেকে মুক্তি দেয়নি, বরং প্রযুক্তির নতুন দিগন্তও উন্মোচন করেছে।

25-most-iconic-best-inventions-roomba

ভ্যাকুয়াম ক্লিনার

২০০৩: ক্যামেরা ফোন

২০০৩ সালে প্রযুক্তি বিশ্বে আলোড়ন তোলে ক্যামেরাযুক্ত সেলফোনের আবিষ্কার। শুধু ফটোগ্রাফির উপকরণ নয়, যোগাযোগের নতুন ও স্বতস্ফূর্ত মাধ্যম হিসেবে এটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। অন্যদের চোখে এটি সাধারণ ফোনের মতো দেখালেও, ব্যবহারকারীরা সহজেই ছবি তুলতে পারে। কিছু ক্লিকেই কোনো তার বা কম্পিউটার সংযোগ ছাড়াই ছবিগুলো ই-মেইল বা ওয়েবসাইটে আপলোডও করতে পারে।

প্রাথমিকভাবে, এই ফোনগুলো বন্ধু, পরিবার, শিশুর ছবি বা পোষ্যদের ছবি তোলার কাজে ব্যবহৃত হয়। মুহূর্ত ধরে রাখার পাশাপাশি সেসময় অপরাধীদের চিহ্নিত করতে ক্যামেরা ফোন বেশ অবদান রাখে।

উদ্ভাবনের প্রথম বছরেই প্রায় ৮ কোটি ক্যামেরা ফোন বিক্রি হয়েছিল। যার মধ্যে ৬০ লাখই বিক্রি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে।

invphones

ক্যামেরা ফোন

২০০৪ সালের কোনো উদ্ভাবনকে ‘বেস্ট ইনভেনশনস হল অব ফেম’-তালিকায় স্থান দেয়া হয়নি। এর কোনো ব্যাখ্যাও উল্লেখ করেনি টাইম ম্যাগাজিন।

২০০৫: লাইফস্ট্রো

বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ আজও নিরাপদ পানির অভাবে ভুগছে। সুপেয় পানির সংকট সমাধানে ২০০৫ সালে উদ্ভাবিত লাইফস্ট্রো একটি সাশ্রয়ী সমাধান।

সাধারণ পানির টিউবের মতো দেখতে এ যন্ত্রের ভেতরে লোহার জাল, আয়োডিন ও অ্যাক্টিভ কার্বন সম্বলিত সাতটি স্তর রয়েছে। এটি টাইফয়েড ও ডায়রিয়ার মতো পানিজনিত রোগ প্রতিরোধে সক্ষম। শুধু তাই নয়, হারিকেন, ভূমিকম্প বা অন্যান্য প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময়ও এটি নিরাপদ পানীয় জল সরবরাহ করতে পারে। পাশাপাশি, এটি বেক-কান্ট্রি হাইকিং বা ছোটবড় আউটডোর অভিযানে ব্যবহার করা যায়।

LifeStraw-Personal_Blue_Outdoors-Sipping-From-Lake-Close-Up_Yosemite_Barker_15

লাইফস্ট্রো

উদ্ভাবনের বছর লাইফস্ট্রো সম্পর্কে টাইম ম্যাগাজিন লিখেছিল, ‘৩ ডলার বা এক কাপ কফির দামের সমমূল্য এ জিনিসটি বাস্তবে একজনের জীবন বাঁচাতে পারে।’ ২০ বছর পর কফির দাম বদলালেও, লাইফস্ট্রো এখনো সুলভ প্রযুক্তি হিসেবে বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত হচ্ছে।