চায়ের সঙ্গে বিস্কুট না হলে যেন দিনটাই ঠিকমতো শুরু হয় না। শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ—চকোলেট বা চকোলেট বিস্কুটের চাহিদা সর্বজনীন। কিন্তু মন খারাপ করা বিষয় হলো আমাদের প্রিয় চকোলেট বিস্কুটগুলো আসল চকোলেট দিয়ে তৈরি নয়। এগুলো মূলত ‘চকোলেট ফ্লেভার’ বিস্কুট। যেখানে চকোলেটের ঘ্রাণ আছে, কিন্তু আসল কোকো খুব কম।

কোকোর উৎপাদন কমে যাওয়ায় চকোলেট হয়ে উঠছে আরো দুষ্প্রাপ্য ও দামী। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কোকো উৎপাদনকারী দেশ ঘানা ও আইভরি কোস্ট। তবে অস্বাভাবিক তাপমাত্রা আর অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারণে উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে গেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের এ প্রভাবেই কোকোর সরবরাহ কমে গেছে। আর রেকর্ড পরিমাণে দাম বেড়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে কোকোর দাম কেজিপ্রতি প্রায় ১১ ডলারে পৌঁছে যায়, যা ইতিহাসের সর্বোচ্চ।

ফলে কোম্পানিগুলো বিকল্প পথে হাঁটছে। চকোলেটের ফ্লেভারে ‘চকোলেটের মতো অনুভূতি’ তৈরির পথে হাটছে। এমনকি অতিরিক্ত খরচ কমিয়ে আনতে রেসিপি বদল করার মতো সিদ্ধান্তও নিচ্ছে প্রস্তুতকারীরা।

বিখ্যাত বিস্কুট প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ম্যাকভিটিজ-এর প্যারেন্ট কোম্পানি প্লাডিস জানায়, তারা ক্লাব ও পেঙ্গুইন বিস্কুটে ‘চকোলেট ফ্লেভার কোটিং’ ব্যবহার করছে। এতে কিছু কোকো থাকলেও এটি পূর্ণ চকোলেট নয়। বেশি পাম অয়েল ও শিয়া অয়েল রয়েছে এতে । কোম্পানিটির দাবি, ‘নতুন আবরণ আগের মতোই স্বাদ বজায় রেখেছে।’ যদিও নিয়ম অনুযায়ী, এগুলোকে এখন আর ‘চকোলেট বিস্কুট’ বলা যাবে না।

শুধু ম্যাকভিটিজ নয় পরিবর্তনের ঢেউ পড়েছে আরো কিছু ব্র্যান্ডে। কিটক্যাট হোয়াইট ও ম্যাকভিটিজ হোয়াইট ডাইজেস্টিভস এখন আর ‘হোয়াইট চকোলেট’ নামে বিক্রি করা যাবে না। কারণ তাতে ২০ শতাংশ কোকো বাটার নেই। নেসলে জানিয়েছে, কোকোর দাম বেড়ে যাওয়ায় তারা রেসিপি বদল করেছে। ভোক্তার ওপর যেন বাড়তি দাম না চাপে সে জন্য এমন সিদ্ধান্ত। তবে মান বজায় রাখার চেষ্টা চলছে।

তবে চকোলেটের দুনিয়ায় এমন পরিবর্তন নতুন নয়। আগেও দেখা গেছে, দাম একই থাকলেও পণ্য ছোট হয়ে আসছে বা পরিমাণে কমে যাচ্ছে। যাকে বলা হয় ‘শ্রিংকফ্লেশন’। এবার শুরু হয়েছে নতুন ধারা—চকোলেট বাদ দিয়ে চকোলেট ফ্লেভার। বহু বছর আগেই এ কৌশল নিয়েছিল বিস্কুট প্রস্তুতকারী পুরোনো প্রতিষ্ঠান ওয়াগন হুইল।