প্রশান্ত মহাসাগরের নীল জলে মাথা উঁচিয়ে
থাকা হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ সারা বিশ্বের পর্যটকদের জন্য আঙ্ক্ষিত গন্তব্য। দীর্ঘ সমুদ্র
সৈকত, বনের পাশাপাশি রয়েছে এই অঞ্চলের দীর্ঘ ঐতিহ্য, যা যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড
থেকে একদমই আলাদা।
সম্প্রতি দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হাওয়াইয়ের মাউই দ্বীপ। হতাহতের সংখ্যার সঙ্গে দ্বীপের ইতিহাসে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে সৃষ্ট যেকোনো দুর্ঘটনাকে পাল্লা দেয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দাবানলে পুড়ে ধ্বংসাস্তূপে পরিণত হয়েছে ঐতিহাসিক শহর লাহাইনা। এক হাজার ৭০০টির মতো অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে আগুনে।
পুড়ে যাচ্ছে ওয়াইওলা চার্চ। ছবি: রয়টার্স
গত ৯ আগস্ট কল্পনার চেয়েও দ্রুত দাবানল
ছড়িয়ে পড়ে বলে জানায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। শহরের কেন্দ্রস্থলের দিকে এগিয়ে ধ্বংস করে
দেয় শতশত বছরের স্থাপনা।
মাউইয়ের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহরটি বরাবরই দেশী-বিদেশী
পর্যটকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। তাই দ্বীপের অধিকাংশ হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট এই এলাকায়
অবস্থিত।
বর্তমান আদলে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত
হওয়ার আগেই লাহইনায় মানুষ বসবাস শুরু করে। যার ঐতিহ্য প্রায় এক হাজার বছরের। মূলত আড়াই
হাজার কিলোমিটার জলপথ পাড়ি দিয়ে পলিনেশিয়ার লোকেরা প্রথম দিকে হাওয়াই দ্বীপে বসতি
স্থাপন করেছিলেন। দ্বীপের সর্বত্র সেই চিহ্ন বিদ্যমান।
ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় বিভিন্ন হাওয়াইয়ান শাসক দ্বীপগুলোতে আধিপত্য বিস্তারের জন্য লড়াই করে গেছেন। সেদিক থেকে লাহাইনা রাজকীয় ও ধর্মীয় গুরুত্ববহ একটি স্থান। শহরটি একসময় রাজা কামেহামেহার বাসস্থান ছিল, যিনি অন্যান্য দ্বীপের নেতাদের পরাজিত করে পুরো অঞ্চলকে একক রাজ্যের অধীনে এনেছিলেন। তার উত্তরসূরিরা ১৮২০ থেকে ১৮৪৫ সালে রাজধানীতে উল্লেখযোগ্য স্থাপনাগুলো গড়ে তোলে।
ছবি: হাওয়াই ট্রাভেল
পাশাপাশি গভীর সাংস্কৃতিক গুরুত্ব রয়েছে।
লাহাইনা শহরে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম বটগাছ। সেটিও আগুনে পুড়ে গেছে বলে জানা
যায়। লাহাইনা ব্যানিয়ান কোর্ট পার্কে এর অবস্থান। ১৮৭৩ সালে বটগাছটির বীজ ভারত থেকে
আমদানি করা হয়।
রয়েছে প্রাচীন কবরস্থান ও ঐতিহাসিক গীর্জা।
১৮ শতকের গোড়ার দিকে হাওয়াই দ্বীপে খ্রিস্টান ধর্মের আবির্ভাব। সাম্প্রতিক আগুনে ঐতিহাসিক
ওয়াইওলা চার্চ আগুনে পুড়ে গেছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশ কিছু জাদুঘর।
আলা মোনা স্ট্রিট থেকে লাহাইনা শহরের দক্ষিণে
অবস্থিত লাহায়ানা জোডো মিশন। বলা হয়, এই মিশন হাওয়াই মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর স্থান।
১৯৭০ সালে এটি নির্মাণ করা হয়।
১৮৯৮ সালের পর হাওয়াইকে যুক্তরাষ্ট্রের
সঙ্গে যুক্ত করা হয়। এর আগে পর্যন্ত রাজা কামেহামেহার লাহাইনা ছিল এ রাজ্যের রাজধানী।
এক সময় স্থানীয় বন্দর ঘিরে বৈশ্বিক তিমি বাণিজ্যকেন্দ্র গড়ে উঠেছিল। এখন অবশ্যই তিমি
শিকারের জাহাজগুলো প্রমোদতরীরে রূপান্তরিত হয়েছে। আর বিধ্বংসী আগুনে পুড়েছে এমন অনেক
জলযান।










