প্রায় ১০ হাজার কিলোমিটার পথে প্রশান্ত মহাসাগরের স্রোতের আনাগোনা। ভাবা যায়, এই স্রোত একদিন সংকুচিত বা বন্ধ হয়ে যেতে পারে! আগামী ৩০ কোটি বছরের মধ্যে পরবর্তী অতিমহাদেশের আবির্ভাব ঘটলে ‍পৃথিবীর ব্যাপক পরিবর্তনের মাঝে এটি হবে উল্লেখযোগ্য একটি ঘটনা। খবর সিএনএন।

সম্প্রতি সুপার কম্পিউটার ব্যবহার করে পৃথিবীর টেকটোনিক প্লেটের বিবর্তন ও ভবিষ্যতের সুপারমহাদেশ গঠনের মডেল তৈরি করেছে অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন ইউনিভার্সিটি ও চীনের পিকিং ইউনিভার্সিটির গবেষকরা।

গবেষণা ফলাফলটি গত ২৮ সেপ্টেম্বর ন্যাশনাল সায়েন্স রিভিউ জার্নালে প্রকাশ হয়। সেখান থেকে জানা যায়, প্রশান্ত মহাসাগর সঙ্কুচিত ও বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ২০-৩০ কোটি বছরের মধ্যে নতুন এটি অতিমহাদেশ তৈরি হতে পারে। গবেষকরা এর নাম দিয়েছেন আমাশিয়া।

অতিমহাদেশ গঠনের এই প্রক্রিয়ায় ২০০ কোটি বছর ধরে চলছে। এ অনুসারে প্রতি ৬০ কোটি বছরে মহাদেশগুলোর সংঘর্ষে একটি অতিমহাদেশ গঠিত হয়। যা অতিমহাদেশীয় চক্র হিসেবে পরিচিত। এর মানে হলো, বর্তমান মহাদেশগুলো কোটি কোটি বছর পর আবার একত্রিত হতে চলেছে। গবেষণার প্রধান লেখক ড. চুয়ান হুয়াং এক বিবৃতিতে এ সব তথ্য জানান।

দলটি দেখায় গঠনের পর থেকে শত কোটি বছর ধরে পৃথিবী শীতল হচ্ছে। এর কারণে সময়ের সঙ্গে সমুদ্রের নিচে টেকটোনিক প্লেটের পুরুত্ব ও শক্তি হ্রাস পাচ্ছে। এর সঙ্গে অতিমহাদেশীয় চক্রের সম্পর্ক রয়েছে।

এর আগে ৩২ কোটি বছর আগে পানজিয়া নামের সর্বশেষ অতিমহাদেশ গঠিত হয়। যা ১৭-১৮ কোটি বছর আগে ভেঙে গিয়েছিল। তখনো পৃথিবীতে ডাইনোসররা ছিল। ওই সময় আটলান্টিক ও ভারত মহাসাগরের আবির্ভাব ঘটে।

এর বিপরীতে প্রশান্ত মহাসাগর পৃথিবীর প্রাচীনতম মহাসাগর। এই বিশাল জলরাশিটি আসলে পান্থলাসা অতিমহাসাগরের অবশিষ্টাংশ যা ৭০ কোটি বছর আগে তৈরি হতে শুরু করে।