আধুনিক মহাদেশগুলোর রূপ নেয়ার অনেক আগে পৃথিবীর ভূত্বক ছিল টানা পরিবর্তনশীল। সে অস্থিরতা থেকেই তৈরি হয়েছে আদিম ভূখণ্ড আর প্রথম দিকের পর্বতশ্রেণি। এরই মধ্যে দুটি অঞ্চল পৃথিবীর প্রাচীনতম ভূতাত্ত্বিক ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বারবারটন গ্রিনস্টোন বেল্ট ও ভারতের আরাবল্লী পর্বতমালা।
দক্ষিণ আফ্রিকার মপুমালাঙ্গা প্রদেশে অবস্থিত বারবারটন গ্রিনস্টোন বেল্ট। এটি মাখনজওয়া পর্বতমালা নামেও পরিচিত। এর আনুমানিক বয়স ৩২০ কোটি থেকে ৩৬০ কোটি বছর। এখানে পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন কিছু শিলা পাওয়া গেছে। যার মাধ্যমে পৃথিবীর ভূত্বক প্রথম দিকে কীভাবে ধীরে ধীরে শীতল হয়েছে তার প্রমাণ মেলে।
পর্বতশ্রেণিটি কাপভাল ক্রাটন নামের এক আদিম মহাদেশীয় ভূখণ্ডের অংশ। বৈজ্ঞানিক গুরুত্বের কারণে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে বারবারটন গ্রিনস্টোন বেল্ট। ভূতাত্ত্বিকরা এ অঞ্চলকে ‘আদি পৃথিবীর জানালা’ নামে অভিহিত করেছেন।
এখানকার শিলাস্তরে ক্ষুদ্রজীবাশ্মসহ আরো অনেক রাসায়নিক উপাদান পাওয়া গেছে। যা পৃথিবীর প্রাচীন বায়ুমণ্ডল, মহাসাগর ও জীবনের সূচনা সম্পর্কে জানতে ভূতাত্বিকদের সাহায্য করে।
ভারতের পশ্চিমাঞ্চলেও আছে আরেক পুরোনো সাক্ষী — আরাবল্লী পর্বতমালা। রাজস্থান, হরিয়ানা ও দিল্লিতে বিস্তৃত এ পবর্তমালাও ৩২০ কোটি বছরের পুরনো। একসময় এটি হিমালয়ের চেয়েও উঁচু ছিল। সময়ের পরিক্রমায় ক্ষয় হয়ে বর্তমানে ঢেউখেলানো পাহাড় ও পাথুরে রিজে পরিণত হয়েছে। পর্বতমালাটি ইন্ডিয়ান শিল্ড নামের প্রাচীন ভূখণ্ডের অংশ। তামা, দস্তা, সীসার মতো খনিজে সমৃদ্ধ হওয়ায় বহু যুগ ধরেই অঞ্চলটি মানুষ বসতি, বাণিজ্য ও পথচলার কেন্দ্র ছিল। আর পরিবেশগতভাবে, এ পর্বতের বনাঞ্চল দিল্লি ও গুরগাঁওয়ের জন্য ‘সবুজ ফুসফুস’ হিসেবে কাজ করছে।
মাখোনজওয়া ও আরাবল্লী পর্বতমালা একসাথে কোটি কোটি বছরের টেকটোনিক পরিবর্তন, ক্ষয় ও পুনর্নবীকরণের সাক্ষী। যা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, আমরা যে মাটিতে দাঁড়িয়ে আছি, তা শুধু সভ্যতার নয়, পৃথিবীর জন্মেরও নীরব সাক্ষী।
ইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে










