২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজশায়ার কাউন্টির একটি গ্রাম থেকে এক কিশোরীর কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা, ৬৮০ থেকে ৮৮০ সালের মধ্যে অর্থাৎ, মধ্যযুগের প্রথম পর্যায়ে ১৫ বছর বয়সী মেয়েটিকে কবর দেয়া হয়েছিল। কবর থেকে উঠে যেন সে পালাতে না পারে এজন্য তার মাথা নিচের দিকে ঘুরিয়ে পুঁতে রাখা হয়। এমনকি দাফনের সময় তার পাগুলোকেও জোড়া করে বেঁধে নেয়া হয়েছিল বলেও জানান বিজ্ঞানীরা।
উদ্ধারের পর থেকে কঙ্কালটিকে নিয়ে গবেষণা
করছেন মিউজিয়াম অব লন্ডন আর্কিওলজির (এমওএলএ) বিজ্ঞানীরা। কঙ্কালটিকে মধ্যযুগীয় বর্বরতার
দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন তারা।
মিউজিয়াম অব লন্ডন আর্কিওলজির প্রত্নতাত্ত্বিকদের
উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যম সিএনএন বলছে, যে সময়ে মেয়েটিকে কবর দেয়া হয়, ওই সময় মৃতদেহ
কবর দেয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম ছিল না। তবে সাধারণত মরদেহের মুখ উপরের দিকে রেখেই
কবর দেয়ার প্রচলন ছিল। তবে কেউ যদি সমাজের রীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক কিছু করে মৃত্যুদণ্ড
পেতো বা অপমৃত্যুর শিকার হতো তখন তার মুখ নিচের দিকে করে কবর দেয়া হতো। এ ধরনের সামাজিক
প্রতিক্রিয়ার ফলেই উল্লিখিত মেয়েটিকে নিচের দিকে মুখ করে কবর দেয়া হয়ে থাকতে পারে।
হাড় বিশেষজ্ঞ প্রত্নতত্ত্ববিদরা বলছেন, ওই
মেয়েটির সামাজিক অবস্থান সংক্রান্ত কিছু তথ্য তারা পেয়েছেন। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে
তারা ধারণা করছেন, মেয়েটি নিম্নবর্গীয় ছিল। কারণ তার হাড়ের গঠন বলছে, সে শৈশবে অপুষ্টিতে
ভুগেছে। এছাড়া শিশু বয়সে অতিরিক্ত কায়িক পরিশ্রমের প্রভাবে তার মেরুদণ্ডের জয়েন্টেও
কিছু বিকৃতি খুঁজে পাওয়া গিয়েছে। এছাড়া মেয়েটি সম্ভবত আকস্মিকভাবে মারা গিয়ে থাকতে
পারে, কেননা তার হাড়ে দীর্ঘমেয়াদী অসুস্থতার কোনো চিহ্ন তারা পাননি।
প্রত্নতাত্ত্বিকরা বলছেন, আমরা হয়তো কোনোদিনই
জানতে পারব না, মেয়েটি তার সমাজে ঠিক কেমন ছিল। কিন্তু কবরে তার কঙ্কালের অবস্থান আমাদের
এই ইঙ্গিত দেয় যে, সামাজিকভাবে এই মেয়েটি অবশ্যই অপরায়ণের শিকার হয়েছিল। কঙ্কালটির
গোড়ালির অবস্থান দেখে অনুমান করা যাচ্ছে, এই দুটি সম্ভবত একসঙ্গে বাঁধা ছিল। আর সে
যেন কবর থেকে ফিরে আসতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই প্রথাগত বিশ্বাস অনুযায়ী তার মুখ
নিচের দিকে ঘুরিয়ে কবর দেয়া হয়।
অষ্টম থেকে নবম শতাব্দীর শেষদিকে মেয়েটিকে কবর দেয়া হয়। তার কবর থেকে ৩০ মাইল দূরে পাওয়া আরো একটি নারীর কঙ্কালের সঙ্গে মেয়েটির মিল রয়েছে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, ওই নারীর কঙ্কালটির মাথা, হাত, ঘাড় এবং মেরুদণ্ডের অনেকগুলো অংশই পাওয়া যায়নি। তবে তাকে সম্ভবত মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়ছিল। মৃত্যুর পর নিজেদের বসতির সীমার পাশে তাকে পুতে রাখা হয়। গির্জার পাশে থাকা কবরস্থানগুলোতে সাধারণত এ ধরনের মরদেহ কবর দেয়া হতো না। সেগুলো থাকতো অভিজাত বা অন্তত স্বাভাবিক মৃত্যু হওয়া সাধারণ মানুষদের জন্য। অপরায়ণের শিকার হওয়াদের জন্য বরাদ্দ ছিল বসতির প্রান্তে থাকা এলাকাগুলো।
সিএনএন অবলম্বনে










