ইগুয়ানা—গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চলে বাস করা, গা ভর্তি আঁশ, লম্বা লেজ আর তীক্ষ্ণ নখের এক প্রাচীন সরীসৃপ। দেখতে খানিকটা ডাইনোসরের ছোট সংস্করণের মতো হলেও, ইগুয়ানা আসলে নিরীহ প্রকৃতির প্রাণী। প্রধানত গাছপালা ও ফলমূল খেয়েই তারা বেঁচে থাকে। পৃথিবীর নানা প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকলেও প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপ রাষ্ট্র ফিজিতে তাদের উপস্থিতি একসময় গবেষকদের অবাক করেছিল। এত দূর দ্বীপে তারা এল কীভাবে? কারণ সেখানে ছিল না কোনো সেতু, ছিল না কোনো মানুষও।
সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, প্রায় ৩৪ মিলিয়ন বছর আগে উত্তর আমেরিকার পশ্চিম উপকূল থেকে ইগুয়ানার পূর্বপুরুষরা পাড়ি দিয়েছিল ৮ হাজার কিলোমিটার দূরের ফিজিতে। গন্তব্যে পৌঁছাতে তারা ব্যবহার করেছিল বিশাল ঝড়ে ভেসে যাওয়া গাছপালার মাদুর। গবেষকদের মতে, এটি কোনো স্থলচর মেরুদণ্ডী প্রাণীর ইতিহাসে অন্যতম দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা।
গবেষক দলটি ১৪টি জীবিত ইগুয়ানার ডিএনএ পরীক্ষা করে। এ পরীক্ষার মাধ্যমে তারা পুরনো যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছে। নতুন এ যোগসূত্র ইগুয়ানাদের যুক্ত করে উত্তর আমেরিকার মরুভূমিতে পাওয়া ডিপসোসরাস প্রজাতির সঙ্গে। ফিজির স্থানীয় ইগুয়ানা আর এ ডিপসোসরাসের বিবর্তনীয় বিচ্ছেদ ঘটেছে প্রায় ৩১ থেকে ৩৪ মিলিয়ন বছর আগে। সময়কালটি মিলে যায় ফিজি দ্বীপপুঞ্জে আগ্নেয়গিরির উদ্গীরণ ও দ্বীপ গঠনের শুরুর সময়ের সঙ্গে।
গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা। তাদের মতে, বড় কোনো ঝড় বা বন্যার ফলে উপড়ে পড়া গাছপালা যখন সাগরে ভেসে যায়, তখন সে প্রাকৃতিক মাদুরে চড়েই সাগর পাড়ি দেয় ইগুয়ানারা। এ যাত্রা কয়েক মাস থেকে শুরু করে চার মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। গবেষকরা এটিকে বলেন ‘সুইপস্টেকস ডিসপারসাল’—অর্থাৎ ভাগ্যনির্ভর বিস্তার। যদিও ঘটনাটি বিরল, তবে এর মতো ঘটনা থেকেই শুরু হয় নতুন পরিবেশে নতুন প্রাণীর অভিযোজন।
কিন্তু প্রশ্ন জাগে—এত দীর্ঘ সময় সাগরে ভেসে থেকেও কীভাবে তারা বেঁচে থাকল?
উত্তরটি লুকিয়ে আছে ইগুয়ানার দেহগত বৈশিষ্ট্যের মধ্যেই। এরা ঠাণ্ডা রক্তের প্রাণী। অর্থাৎ পরিবেশের তাপমাত্রা অনুযায়ী তাদের শরীরের তাপমাত্রা ওঠানামা করে। ফলে এরা দীর্ঘ সময় না খেয়েও বেঁচে থাকতে পারে। আর এদের শরীরও দীর্ঘ সময় পানির ঘাটতি সহ্য করতে সক্ষম। এমনকি ভেসে থাকা গাছের পাতা কিংবা ছাল খেয়েও তারা চলতে পারে দীর্ঘদিন।
—সিএনএন










