উত্তর ইথিওপিয়ার আকাশ হঠাৎ করেই ধূসর হয়ে উঠেছিল গত রোববার। দীর্ঘ ১২ হাজার বছর ধরে নীরব থাকা হায়লি গুব্বি আগ্নেয়গিরি যেন হঠাৎ ঘুম ভেঙে জেগে উঠেছিল সেদিন। বিরল এ অগ্ন্যুৎপাতের ফলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছিল ঘন ছাই।

আর কিছুক্ষণের মধ্যেই অগ্ন্যুৎপাতের প্রভাব বাতাসে ভেসে লোহিত সাগর পেরিয়ে দূর ইয়েমেন, ওমান, এমনকি ভারত ও উত্তর পাকিস্তান পর্যন্ত পৌঁছে যায়। নিকটবর্তী আফদেরা গ্রামটি ঢেকে গেল ছাইয়ের স্তরে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এ ঘটনা শুধু বিরলই নয়, বরং এটি ‘আন্ডারস্টাডিড’ (কম গবেষণা হওয়া) একটি অঞ্চলের বড় অগ্নুৎপাতের উদাহরণ।

আগ্নেয়গিরির নিচে চলছিল নীরব প্রস্তুতি

হেইলি গুব্বি আফ্রিকার রিফট ভ্যালির ঠিক ওপরে। এ জায়গায় আফ্রিকা ও আরবের টেকটোনিক প্লেট প্রতি বছর সামান্য দূরত্বে সরে যায়। এতে ভূগর্ভে ম্যাগমা তৈরি হওয়ার জায়গা তৈরি হয়। তাই হাজার বছর শান্ত থাকলেও আগ্নেয়গিরি জেগে ওঠা বিজ্ঞানীদের কাছে অস্বাভাবিক নয়।

নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট ইউনিভার্সিটির আগ্নেয়গিরি বিশেষজ্ঞদের মতে, ম্যাগমা জমা হওয়ার শর্ত থাকলে অগ্নুৎপাত ঘটতেই পারে। এখন সেটা হাজার বছরে একবার হোক কিংবা দশ হাজার বছরে একবার।

সত্যিই কি ১২ হাজার বছর নীরব ছিল?

ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা বলছেন, স্যাটেলাইটের সাম্প্রতিক ছবিতে লাভা বেরোনোর চিহ্ন পাওয়া গেছে। তাই এত দীর্ঘ নীরবতার ধারণা পুরোপুরি সঠিক নাও হতে পারে। গবেষকেরা বলছেন, ছাইয়ের বিশাল ছাতা তৈরি করা এমন বিস্ফোরণ এ এলাকায় খুবই বিরল।

আগাম ইঙ্গিত ছিল, কিন্তু নজরে পড়েনি

রোববারের বিস্ফোরণ দেখে মনে হয়েছে সবকিছু হঠাৎ হয়েছে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলছেন, কয়েকটি সংকেত আগে থেকেই দেখা যাচ্ছিল। গত জুলাইয়ে কাছাকাছি থাকা আরেক আগ্নেয়গিরি এরতা আলেতেও অগ্নুৎপাতের ঘটনা ঘটে। এ অগ্নুৎপাত ঘটার পর ভূগর্ভে নড়াচড়া শুরু হয় এবং তা হেইলি গুব্বির নিচে চলে আসে। এ সময় পাহাড়ের চূড়ায় সাদা ধোঁয়া দেখা যাচ্ছিল, মাটিও ফুলে উঠছিল, যা আগ্নেয়গিরি জেগে ওঠার স্পষ্ট ইঙ্গিত।

ছাই উড়ে গেল কয়েক হাজার কিলোমিটার দূর

ফ্রান্সের টউলুস ভলক্যানিক অ্যাশ অ্যাডভাইজরি সেন্টার (ভিএএসি) জানিয়েছে, ঘন ছাইয়ের মেঘ ১৪ কিলোমিটার আকাশে উঠে গিয়েছিল। এর প্রভাবে ইয়েমেন, ওমান, ভারত ও পাকিস্তানের আকাশেও ছাই ভেসে গেছে। মাত্র ৫০০ মিটার উচ্চতার আগ্নেয়গিরির জন্য এটি অস্বাভাবিক বড় বিস্ফোরণ।

সৌভাগ্যজনকভাবে কেউ আহত হয়নি। তবে স্থানীয় যাযাবর জনগোষ্ঠীর দৈনন্দিন জীবন এতে ব্যাহত হতে পারে।

বিজ্ঞানীদের তদন্ত ও দৌড়ঝাঁপ

অগ্নুৎপাতের সময় ইথিওপিয়াতে ছিলেন সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূবিজ্ঞানী ডেরেক কিয়ার। তিনি সোমবার ঘটনাস্থলে গিয়ে ছাই সংগ্রহ করেন। এ নমুনা থেকেই জানা যাবে, আসলে ম্যাগমার ধরন কী এবং সত্যিই কি আগ্নেয়গিরিটি ১২ হাজার বছর নীরব ছিল, নাকি এর মধ্যে নিয়মিত ছোট-খাটো বিস্ফোরণ হয়েছে।

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, বিস্ফোরণটি দেখিয়ে দিয়েছে হেইলি গুব্বিসহ পুরো অঞ্চলটি এখনো অনেকটাই ‘আন্ডারস্টাডিড’ অবস্থায় রয়েছে।

—এনডিটিভি থেকে নেয়া