ভার্জিনিয়ার ৬৪ বছরের জেফ জেরাসি সেদিন যেন মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসেছিলেন। জিম থেকে বাসায় ফেরার পথে হঠাৎ তার হার্ট অ্যাটাক হয়। গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একাধিক লেন পেরিয়ে গিয়ে সাইনবোর্ডে ধাক্কা খেয়ে থামে তার গাড়ি। আর গাড়িটি থেমেছিল ঠিক এক কার্ডিওলজিস্টের চেম্বারের সামনে।
ঘটনাটি ঘটেছিল গত মাসে। ওয়ার্কআউট শেষে জেরাসি বাসায় ফিরছিলেন। পথে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট আর অস্বস্তি অনুভব করতে থাকেন। পরে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘গাড়িতে বসে অদ্ভুত লাগছিল। ভেবেছিলাম কয়েক মিনিট চোখ বন্ধ করি। তারপর ভাবলাম বাড়ি যাই।’ সেই সিদ্ধান্তই বদলে দেয় সবকিছু। গাড়ি সোজা ছুটে যায় পার্কিং লটে আর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আছড়ে পড়ে।
সে সময় পাশের চেম্বারে ছিলেন ডা. দীপক তালরেজা। তিনি সেন্টারা হেলথের একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ। তিনি শব্দ শুনে দ্রুত ছুটে আসেন। দেখেন, গাড়ির উইন্ডশিল্ড ভাঙা, এয়ারব্যাগ ছড়িয়ে আছে, আর ভেতরে অচেতন অবস্থায় জেরাসি পড়ে আছেন। সে সময় তিনি শ্বাস নিচ্ছিলেন না, তার হৃদস্পন্দনও বন্ধ ছিল। সঙ্গে সঙ্গে তিনি ৯১১ এ ফোন করেন ও প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করেন।
ডা. তালরেজা পরে বলেন, ‘ওটা আসলে হঠাৎ কার্ডিয়াক ডেথ ছিল। হৃদপিণ্ড পুরোপুরি থেমে গিয়েছিল। কিন্তু দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ায় বাঁচানো সম্ভব হয়েছে।’ চিকিৎসকদের মতে, আট মিনিটের মধ্যে সাহায্য না এলে জেরাসিকে বাঁচানো যেত না।
পরীক্ষায় জানা যায়, জেরাসির হৃদপিণ্ডের প্রধান ধমনিতে মারাত্মক ব্লক ছিল। এক জায়গায় ৯৫ শতাংশ আরেক জায়গায় ৯০ শতাংশ। পরে জ্ঞান ফেরার পর তার মনে হচ্ছিল যেন সবকিছু স্বপ্ন। জেরাসি বলেন, ‘জেগে দেখি হাতে নানা যন্ত্র লাগানো, চারপাশে সবাই ব্যস্ত। নার্সকে জিজ্ঞেস করলাম কী হয়েছে। তখন জানলাম হার্ট অ্যাটাক হয়েছে, গাড়ি দুর্ঘটনাও ঘটেছে।’
ডা. তালরেজা বলেন, ‘সময়মতো চিকিৎসা আর সঠিক জায়গায় থেমে যাওয়াই জেরাসির জীবন বাঁচিয়েছে।’
—এনডিটিভি










