বর্তমানে বিশ্বে টাইপ-২ ডায়াবেটিস আক্রান্ত শিশু-কিশোরের হার আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। আক্রান্তদের বেশির ভাগই দক্ষিণ এশীয় ও আফ্রিকান বংশোদ্ভূত। কারণ দারিদ্র্যের হার এসব দেশে তুলনামূলক বেশি। যার কারণে এসব পরিবারের মধ্যে শিশুদের অস্বাস্থ্যকর খাবার দেয়ার প্রবণতা অপেক্ষাকৃত বেশি।

পাঁচ থেকে নয় বছরের শিশুদের মধ্যেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, শিশুদের মধ্যে এ রোগের প্রকোপে তারা উদ্বিগ্ন। কারণ এতে তাদের ভবিষ্যতে হৃদরোগ ও কিডনির রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। এছাড়া অকালে দৃষ্টিহীনতার ঝুঁকিও রয়েছে।

ডায়াবেটিসের সবচেয়ে বড় হুমকি ওজন বেড়ে যাওয়া। যেসব শিশুর এ রোগ হচ্ছে তাদের দুই-তৃতীয়াংশেরই শরীরের ওজন বেশি।

ইংল্যান্ডে ২০১৫-১৬ সালের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রাইমারি স্কুলের প্রথম শ্রেণীতে ১০ জনের মধ্যে একজন শিশু স্থূলকায়। ষষ্ঠ শ্রেণীতে এ সংখ্যা ছয়জনের মধ্যে একজন।

দক্ষিণ এশীয় ও আফ্রিকান বংশোদ্ভূত পরিবারের শিশুদের মধ্যে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি।

আক্রান্ত ও ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের মধ্যে মেয়েদের সংখ্যা ছেলেদের চেয়ে দ্বিগুণ। আক্রান্তদের অধিকাংশের বয়স ১৫ থেকে ১৯।

প্রতি বছর শিশুদের মধ্যে এ রোগের প্রকোপ বাড়ছে। ২০১৩-১৪ সালে চিহ্নিত আক্রান্তের সংখ্যা যেখানে ছিল ৫০৭, গত বছর তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬২১।

সরকারি একটি রিপোর্টে স্বীকার করা হয়েছে ডায়াবেটিসে ভোগা অনেক শিশুকে হয়তো এখনো চিহ্নিত করা যায়নি। চিকিৎসকরা বলছেন, প্রাপ্তবয়স্কদের চেয়ে শিশুদের শরীরে টাইপ-২ ডায়াবেটিস বেশি ক্ষতি করে।

সুতরাং বাচ্চাদের ওজন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিলে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। দ্রুত ওজন কমানোর জন্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া জরুরি। আর যদি দেখা যায় এরই মধ্যে শিশু আক্রান্ত হয়েছে, শরীর চর্চা থেকে শুরু করে খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে কঠোর শৃঙ্খলা পালন করতে হবে।

ব্রিটেনের রয়েল কলেজ অব চাইল্ড হেলথের চিকিৎসকরা বলছেন, নিত্যদিনের জীবনধারায় পরিবর্তন ঘটিয়ে টাইপ-২ ডায়াবেটিস ঠেকানো সম্ভব। এমনকি উপসর্গও বদলে ফেলা সম্ভব।

এছাড়া শিশুদের খাবারে চিনি ও চর্বির পরিমাণ কমানো জরুরি। ব্রিটিশ সরকার তৈরি খাবারের উৎপাদকদের আগামী চার বছরের মধ্যে চিনির পরিমাণ ২০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দিয়েছে।

সূত্র: বিবিসি