পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম (পিসিওএস) একটি সাধারণ হরমোনজনিত অবস্থা, যার কারণে প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। এ সমস্যা সাধারণত বয়ঃসন্ধিকালে শুরু হয়। তবে এর লক্ষণগুলো ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়।
পিসিওএসের কারণে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, অনিয়মিত মাসিক, অতিরিক্ত এন্ড্রোজেনের মাত্রা বৃদ্ধি এবং ওভারিতে সিস্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। যার ফলে গর্ভধারণের ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। পিসিওএস বন্ধ্যাত্বের অন্যতম প্রধান কারণ।
পিসিওএস বর্তমানে একটি উল্লেখযোগ্য সমস্যা। এটি নারীদের একটি কমন হরমোনাল সমস্যা। প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের ৮-১৩ শতাংশ এ রোগের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এদের মধ্যে ৭০ শতাংশ নারী নিজের রোগ সম্পর্কে জানেন না।
কিছু জাতিসত্তার মধ্যে প্রাদুর্ভাব বেশি এবং তারা প্রায় এ-সংক্রান্ত জটিলতার মুখোমুখি হয়। পিসিওএসের কারণে নারীদের শারীরিক ও মানসিক দুই ধরনের সমস্যারই সম্মুখীন হতে হয়।
পিসিওএস পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য রোগ নয়। তবে চিকিৎসার মাধ্যমে এ রোগের ঝুঁকির মাত্রা কিছুটা কমানো যায়। এ রোগের লক্ষণগুলো দেখা দিলে তাকে অবশ্যই দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা উচিত। লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে অনিয়মিত মাসিক, অতিরিক্ত ব্রণ এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় অবাঞ্ছিত লোম। নারীদের গর্ভধারণ না করতে পারার পেছনে অন্যতম একটি কারণ পিসিওএস।
পুরোপুরি নিরাময় করা না গেলেও দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস ও জীবনাচরণের মাধ্যমে এ রোগের ঝুঁকি কিছুটা কমানো যায়। স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, ওজন নিয়ন্ত্রণে এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি যাতে না বাড়ে সেদিকে নজর রাখা এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।
অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসক পিসিওএস আক্রান্ত গর্ভনিরোধক ওষুধ সাজেস্ট করেন। এতে মাসিক নিয়মিত হয়। এছাড়া ব্রণ ও অবাঞ্ছিত লোমের জন্যও ওষুধ সাজেস্ট করেন। পিসিওএসের কারণে বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে জীবনযাত্রার পরিবর্তন, ওষুধ বা সার্জারি। এছাড়া গর্ভধারণের আরেকটি পদ্ধতি হলো ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ)। যদিও এ পদ্ধতিরও কিছু ঝুঁকি রয়েছে।
পিসিওএসকে মোকাবেলা করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) তার সদস্য রাষ্ট্র ও অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে। বিশ্বব্যাপী নারীদের স্বাস্থ্য ও প্রজনন সুস্থতার উন্নতির জন্য বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করে যাচ্ছে। ডব্লিউএইচও পিসিওএস সংক্রান্ত সচেতনতা বাড়াতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে কাজ করে আসছে। কীভাবে এ রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা করা যায় সে সম্পর্কে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের পরামর্শ দিচ্ছে। এছাড়া ডব্লিউএইচও পিসিওএসে আক্রান্তদের কীভাবে বন্ধ্যাত্ব প্রতিরোধ করা যায়, এ রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসাসংক্রান্ত বিভিন্ন গবেষণা পরিচালনা করতে বিভিন্ন প্রকল্পে সহযোগিতা করছে।
ডব্লিউএইচওর সদস্য দেশগুলো বন্ধ্যাত্ব এবং এর কারণগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত জাতীয় স্বাস্থ্য নীতি, পরিষেবা ও অর্থায়নের জন্য আরো সাহায্য করছে। যাতে বন্ধ্যাত্ব সম্পর্কিত চিকিৎসার ক্ষেত্রে খরচ কিছুটা কমে আসে বা বিনামূল্যে চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারে।










