স্ট্রোক-পরবর্তী সময়ের চিকিৎসা কী হবে এ নিয়েও রয়েছে নানা জটিলতা। আমাদের দেশে অনেক সাধারণ মানুষই জানে না স্ট্রোকে যদি কেউ প্যারালাইজড বা পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে তবে তাকে কী চিকিৎসা দিতে হবে। এক্ষেত্রে কার্যকর একটি পদ্ধতি হলো ফিজিওথেরাপি।

স্ট্রোকের পর বেশির ভাগ মানুষই আগের জীবনে ফিরে আসতে পারে না। ব্রেনের কোন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার ওপর নির্ভর করে শরীরে নানা সমস্যা তৈরি হয়। কারণ ব্রেনের একেক অংশ শরীরের একেক অংশকে নিয়ন্ত্রণ করে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, স্ট্রোকের পর শরীরের এক পাশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়। অনেকের আবার কথা বলতে সমস্যা হয়। অনেকের ক্ষেত্রে চোখেও সমস্যা দেখা দেয়। অর্থাৎ আমাদের হাঁটাচলা, কাজকর্ম, কথা বলা, চোখে দেখা ও আবেগ-অনুভূতি সবকিছুই ব্রেনের ভিন্ন ভিন্ন অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। তাই ব্রেনের টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হলে এসব কাজেরও বিঘ্ন ঘটে। যেমন মস্তিষ্কের ডান দিকের অংশ শরীরের বাঁ দিকের অংশকে নিয়ন্ত্রণ করে, আবার বাঁ দিকের অংশ শরীরের ডান দিকের অংশকে নিয়ন্ত্রণ করে। সুতরাং কারো যদি ব্রেনের ডান দিকে স্ট্রোক হয় তাহলে শরীরের বাঁ পাশের হাত-পা প্যারালাইজড হবে। আমাদের কথা বলা নিয়ন্ত্রণ করে ব্রেনের বাঁ অংশ, তাই কারো যদি বাঁ পাশে স্ট্রোক হয় তাহলে ডান হাত-পা প্যারালাইজড হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার কথা বলায়ও সমস্যা হতে পারে।

একজন ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের মূল লক্ষ্যই হলো স্ট্রোক-পরবর্তী সমস্যাগুলো নির্ণয় করে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনা। অনেক ক্ষেত্রে ওষুধও এ কাজ পুরোপুরি করতে পারে না। এর জন্য দরকার সঠিক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা। তাই কেউ স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে অতি দ্রুত কাছাকাছি হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে এবং রোগী কিছুটা স্থিতিশীল হলে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা শুরু করতে হবে। মনে রাখতে হবে স্ট্রোকের পর যত তাড়াতাড়ি ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা শুরু করা যায়, রোগীর কার্যক্ষমতা ফিরে আসার সম্ভাবনা তত বেশি থাকে। বিশেষ করে কিছু কিছু ব্যায়াম তাদের করতেই হয়।

পাশাপাশি তাদের প্রাত্যহিক জীবনযাপনে কিছু বিষয় মেনে চলতে হবে। ব্যায়ামগুলো নিয়মিত করার পরও মাঝেমধ্যে চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করতে হবে। চিকিৎসক পর্যবেক্ষণ করে দেখবেন রোগীর পেশি শক্তির কতটুকু উন্নতি হলো। সমস্যা না থাকলে এর ভারসাম্য রক্ষার জন্য নির্দিষ্ট গাইডলাইন দেয়া হবে। বিশেষ করে রোগীর অবস্থা বুঝে ভিন্ন ভিন্ন ফিজিওথেরাপি দেয়া হয়।