জলবায়ু  ও আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে  ছত্রাকের ধরনও পরিবর্তন হয়।  কিছু রোগ সৃষ্টিকারী ছত্রাক ধীরে ধীরে আরো বেশি অঞ্চলজুড়ে ছড়াতে থাকে। যদি তারা উপযুক্ত পরিবেশ পায়। এছাড়া নতুন ধরনের ছত্রাকেরও সংক্রমণ বাড়তে পারে। যেগুলো উষ্ণ তাপমাত্রার সঙ্গে খাপ খায় এবং মানবদেহে সংক্রমিত হতে পারে। ছত্রাকজনিত রোগের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব রয়েছে।  

জলবায়ু পরিবর্তন জৈবিক, পরিবেশগত ও সামাজিক ব্যবস্থার জন্য অনেক হুমকির সৃষ্টি করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা এবং আবহাওয়ার ধরন পরিবর্তনের ফলে পরিবেশ এবং ছত্রাকের আবাসস্থল পরিবর্তন হচ্ছে।

যথাযথ গবেষণার অভাবে ছত্রাক সংক্রমণের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সম্পূর্ণরূপে বোঝা যাচ্ছে না। ছত্রাকের বিস্তার বাড়ার পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। সেগুলো হলো—

পরিবেশের পরিবর্তন: তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে কিছু অঞ্চলে ছত্রাক সংক্রমিত হতে পারে। যেমন ভ্যালি ফিভার সৃষ্টিকারী ছত্রাক কক্সিডিওইডোমাইকোসিস গরম ও শুষ্ক অঞ্চলের মাটিতে বিস্তার লাভ করে। এ ছত্রাক সাধারণত দক্ষিণ-পশ্চিম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি মেক্সিকো এবং মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অংশে পাওয়া যায়। ২০১৫ সালের দিকে ওয়াশিংটন রাজ্যে এ  ছত্রাকের উপস্থিতি পাওয়া যায়।  

পরিবেশগত পরিবর্তনে ব্লাস্টোমাইকোসিস ও হিস্টোপ্লাজমোসিস সৃষ্টিকারী ছত্রাক বেঁচে থাকে এমন এলাকায় বিস্তৃতি বাড়াতে পারে। আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের ছত্রাকের সংক্রমণ বিস্তৃত অঞ্চলজুড়ে ছড়াতে পারে। 

জনসংখ্যা: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মানুষ নিজেদের বাসস্থান পরিবর্তন করছে।  যার কারণে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা বাড়তে পারে। এছাড়া জীবনযাত্রার মানও নিম্ন হতে পারে। এগুলোর কারণে দাদ সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। দাদের সংক্রমণ মূলত গরম ও আর্দ্র পরিবেশে বাড়ে। 

প্রাকৃতিক দুর্যোগ: ঝড়, তাপ তরঙ্গ, খরা ও দাবানলের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ফ্রিকোয়েন্সি এবং তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ধরনের দুর্যোগও ছত্রাকের বৃদ্ধি এবং বিস্তারকে প্রভাবিত করে।  

অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন ধুলো ঝড়, টর্নেডো ও দাবানল পরিবেশগত বিঘ্ন ঘটায়, যা বাতাসে ছত্রাকের জীবাণু ছড়াতে পারে। এর কারণে ছত্রাকের জীবাণু সম্ভাব্যভাবে রোগগুলোকে নতুন জায়গায় স্থানান্তর করে। দূষিত পানি বা মাটির সংস্পর্শে এলে গুরুতর আবহাওয়ার কারণে আঘাত, কাটা এবং ক্ষতগুলোর মতো ছত্রাকের সংক্রমণ হতে পারে।

তাপের সঙ্গে ছত্রাকের অভিযোজন: পৃথিবীতে আনুমানিক লাখ লাখ ছত্রাকের মাত্র অল্প শতাংশই মানুষকে সংক্রমিত করতে পারে। বর্তমানে বেশির ভাগ ছত্রাক মানুষের শরীরের তাপমাত্রায় (প্রায় ৯৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট) বেঁচে থাকতে পারে না এবং শীতল পরিবেশের প্রয়োজন হয়।

পরিবর্তনশীল তাপমাত্রার সঙ্গে ছত্রাক মানুষের শরীরসহ উষ্ণ পরিস্থিতিতে বসবাসের জন্য বিকশিত হতে পারে (পরিবর্তন ও অভিযোজিত)। নতুন ছত্রাকজনিত রোগের উদ্ভব হতে পারে, কারণ ছত্রাক মানুষের মধ্যে বেঁচে থাকার জন্য আরো অভিযোজিত হয়। তাপ অন্যান্য জিনগত পরিবর্তনও ঘটাতে পারে, যা মানুষকে সংক্রমিত করার জন্য ছত্রাকের ক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে।

অ্যান্টিফাঙ্গাল প্রতিরোধ: পরিবেশে ছত্রাকনাশক ব্যবহার করলে ছত্রাকরোধী প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে পারে। এর অর্থ হলো ছত্রাকের সংক্রমণের চিকিৎসার জন্য যে ওষুধ রয়েছে তা কার্যকারিতা হারাচ্ছে।

কীভাবে ছত্রাকজনিত রোগ থেকে নিজেকে রক্ষা করা যায়

• ছত্রাকজনিত রোগ এবং তাদের সম্প্রসারিত ভৌগোলিক পরিসর সম্পর্কে জানা।

• ছত্রাক সংক্রমণের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরীক্ষা-নিরীক্ষা দরকার।

• দুর্যোগের পর বাড়ির যেসব স্থানে ছত্রাক ছিল তা পরিষ্কার করা। 

• অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ গ্রহণ করার সময় ডাক্তারের নির্দেশাবলি অনুসরণ করা। 

•       রোগ নির্ণয় ছাড়া ওভার দ্য কাউন্টার অ্যান্টিফাঙ্গাল ব্যবহার করা এড়িয়ে চলা। 

সূত্র: সিডিসি