‘জাপানিজ এনসেফালাইটিস’ ভাইরাসটি মূলত কিউলেক্স মশার মাধ্যমে ছড়ায়। এ ভাইরাস বাংলাদেশে প্রথম ময়মনসিংহ জেলায় ১৯৭৭ সালে শনাক্ত হয়েছিল। সর্বশেষ তথ্যানুসারে, এ পর্যন্ত ৬৪টি জেলার ৩৬টিতে এ রোগে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইন্দোনেশিয়ায় এ রোগের প্রকোপ দেখা গেছে।
সারা বছরই এ রোগে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। তবে মে মাস থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোয় এ রোগের প্রকোপ বেশি।
আমাদের দেশে এ রোগ এখনো আশঙ্কাজনক হারে বাড়েনি। তবে মানবদেহে রোগটির প্রভাব মারাত্মক হওয়ায় এখন থেকেই সচেতনতার পরামর্শ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। কারণ এ রোগে আক্রান্ত রোগীদের পরবর্তী সময়ে শারীরিক ও মানসিক অক্ষমতা তৈরি হয়। যেমন স্থায়ী বুদ্ধিবৃত্তিক, আচরণগত ও স্নায়বিক ক্ষতি, অনেকে পঙ্গু হয়ে যায়, বারবার খিঁচুনি, কথা বলতে না পারা।
সব বয়সের মানুষের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তবে ১৫ বছর বা এর চেয়ে কম বয়সের শিশুদের মধ্যে আক্রান্তের হার বেশি। এছাড়া শিশুদের ক্ষেত্রে মৃত্যুর আশঙ্কা বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণ সারা বছর ঘটতে পারে, তবে উষ্ণ মৌসুমে ও বর্ষাকালে এর সংক্রমণ বাড়ে। গ্রামাঞ্চলে রোগটির প্রাদুর্ভাব বেশি। বিশেষ করে যেখানে কৃষিকাজে সেচ ব্যবহার হয় সেসব জায়গায়।
লক্ষণ: এ রোগের লক্ষণগুলো এক থেকে ছয়দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।৷ রোগটির প্রধান লক্ষণগুলো হচ্ছে:
• জ্বর ও দুর্বলতা
• গায়ে ব্যথা
• মাথায় যন্ত্রণা
• ঘাড়ের জড়তা বা শক্ত হয়ে যাওয়া
• খিঁচুনি
• অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
• মানসিক অবসাদ
• দেহের কোনো অংশের অসাড়তা
• রোগী কোমা অবস্থায়ও চলে যেতে পারে
শিশুদের মধ্যে পেট ব্যথা এবং বমি হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা যেতে পারে। সাধারণত মশা কামড় দেয়ার চার থেকে ১৪ দিনের মধ্যে এ রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। আবার অনেকে ভাইরাসে আক্রান্ত হলেও কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। তবে এ ভাইরাস একজন রোগীর থেকে অন্য সুস্থ লোকের শরীরে ছড়ায় না। শুধু ভাইরাসবাহী মশা কামড়ালেই ছড়াবে। গবাদিপশুও মশার মাধ্যমে এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এসব প্রাণীর ক্ষেত্রে রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রধান লক্ষণ হলো গাভীর সন্তানহীনতা, গর্ভপাত, জ্বর ও আলস্য ভাব।
চিকিৎসা
কোনো রোগীর মধ্যে উল্লিখিত লক্ষণগুলো দেখা দিলে তাকে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে ভর্তি করানো উচিত। ভাইরাস সংক্রমণের ফলে রোগীর মস্তিষ্কে প্রদাহ হতে পারে। তাই সময়মতো চিকিৎসা না নিলে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন। দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা গেলে রোগী সুস্থ হতে পারেন।
বাংলাদেশের সব সরকারি জেলা পর্যায়ের হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোয় এ রোগের চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে বলে জানা যায়। অ্যান্টিবডি পরীক্ষার মাধ্যমে রোগটি শনাক্ত করা হয়।
সূত্র: এনএইচএস ও বিবিসি










