মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষ বোস্টনের কাছে টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের তুর্কি পিএইচডি শিক্ষার্থী রুমেইসা ওজতুর্ককে গ্রেফতার করেছে এবং তার ভিসা বাতিল করেছে। রুমেইসা গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের সময় ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। খবর আল জাজিরা।
৩০ বছর বয়সী রুমেইসা মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) রাতে বন্ধুদের সঙ্গে ইফতার করতে যাওয়ার সময় হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এজেন্টরা তাকে আটক করে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী মাহসা খানবাবাই।
রুমেইসার ঘনিষ্ঠরা বলছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে বোস্টন এলাকায় এমন বিক্ষোভের সঙ্গে জড়িত কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে এটিই প্রথম কোনো অভিবাসী শিক্ষার্থীকে গ্রেফতারের ঘটনা।
ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তি দিয়েছে যে, কিছু বিক্ষোভ ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ যা মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তবে সমালোচকরা এটিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত বলে দেখছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটিজের মুখপাত্র ট্রিসিয়া ম্যাকলাফলিন বলেছেন, রুমেইসা হামাসের সমর্থনে নানা কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন, যা আমেরিকানদের হত্যাকে সমর্থন করে। তবে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
গ্রেফতারের পর রুমেইসার আইনজীবী তার মুক্তির দাবিতে আদালতে মামলা করেন। একজন ফেডারেল বিচারক নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, তাকে ম্যাসাচুসেটসের বাইরে যেন না নেয়া হয়। তবে পরের দিন জানা যায়, রুমেইসাকে লুইজিয়ানায় সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
এই গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাট সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন। তিনি বলেছেন, এই গ্রেফতার নাগরিক স্বাধীনতা দমনের একটি বিপজ্জনক নজির।
স্থানীয়রা বলছেন, সন্ধ্যা ৫টা ৩০ মিনিটের দিকে আবাসিক এলাকায় এই গ্রেফতার দেখতে অনেকটা ‘অপহরণের মতো’ লেগেছে। এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, তারা মুখ ঢেকে রুমেইসা ওজতুর্ককে ধরে নিয়ে গেছে। গাড়িটাও চেনা যায়নি।
ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন কঠোর করার অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের লক্ষ্যবস্তু করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।










