আমাদের লক্ষ্য ছিল জনগণের জন্য একটি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও প্রযুক্তিনির্ভর যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যা দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও সামগ্রিক উন্নয়নকে আরো গতিশীল করবে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সড়ক, রেল ও নৌ—এ তিন খাতকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসনে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নের একটি সমন্বিত রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর আওতায় প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা, ট্রাফিক মনিটরিং, গণপরিবহন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা, নারীদের জন্য বিশেষায়িত বাস চালুর ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও অবকাঠামোগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে, যাতে নগরবাসীর যাতায়াত আরো সহজ ও স্বস্তিদায়ক হয়।
সড়কে বিশৃঙ্খলা, অবৈধ দখল, চাঁদাবাজি এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। যাত্রীসেবার নামে কোনো ধরনের অনিয়ম বা হয়রানি বরদাশত করা হবে না—এ বার্তা মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশের সব মহাসড়ক পর্যায়ক্রমে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার একটি বৃহৎ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধ দমনে আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
চলমান মেগা প্রজেক্টগুলোর কাজ দ্রুত সম্পন্ন করাও সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, মহাসড়ক উন্নয়ন, সেতু নির্মাণ এবং রেল অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। কাজের গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পগুলো সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডার, প্রকৌশলী ও বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একই সঙ্গে জাইকা, বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরো জোরদার করা হয়েছে, যাতে আধুনিক প্রযুক্তি ও বিদেশী বিনিয়োগের মাধ্যমে টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ নিশ্চিত করা যায়।
রেলপথে যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন এবং শিডিউল বিপর্যয় কমাতে তদারকি বাড়ানো হয়েছে। ট্রেন পরিচালনায় শৃঙ্খলা, স্টেশন ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্নতা ও যাত্রীসেবাকে আরো কার্যকর করতে মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তাদের সক্রিয় করা হয়েছে। পাশাপাশি নৌপথে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ফেরিঘাট ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, অতিরিক্ত যাত্রী বহন নিয়ন্ত্রণ এবং নৌপথে নজরদারি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। নৌপথের নাব্যতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ড্রেজিং কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।
সরকার বিশ্বাস করে, একটি আধুনিক ও সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্পায়ন, বিনিয়োগ এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। সরকারের প্রথম ১০০ দিনে গৃহীত উদ্যোগগুলো সেই দীর্ঘমেয়াদি রূপকল্প বাস্তবায়নের ভিত্তি তৈরি করেছে। জনগণের আস্থা ও সহযোগিতা নিয়ে আগামী দিনগুলোতেও সড়ক, রেল ও নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরো আধুনিক, নিরাপদ ও জনবান্ধব করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাবে।










