দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ১০০ দিনে আমরা দেশের এভিয়েশন খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা এবং পর্যটন শিল্পে নতুন প্রাণের সঞ্চার করতে বেশকিছু সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছি।
১৬ ডিসেম্বরকে সম্ভাব্য বিবেচনায় রেখে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালুর লক্ষ্যে কাজ চলছে, যা দেশের আকাশপথের যোগাযোগে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।
এ বছর হজ ফ্লাইটে হাজিদের অর্থ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে বিমানের প্রতিটি টিকিটের খরচ প্রায় ১২ হাজার টাকা হ্রাস করা হয়েছে। বিমানবন্দরগুলোতে ফ্রি ওয়াই-ফাই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্রান্স সরকারের সঙ্গে জিটুজি সহযোগিতার মাধ্যমে বাস্তবায়িত অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে, যা দেশের আকাশসীমার নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে। একটি যুগোপযোগী এয়ারলাইনস হিসেবে বিমানকে উন্নীত করতে আমরা বিমানের বহর সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। ১৪টি বোয়িং কেনার লক্ষ্যে এরই মধ্যে চুক্তি করা হয়েছে। মিক্সড ফ্লিট তৈরির লক্ষ্যে ১০টি এয়ারবাস ক্রয়ের কার্যক্রমও চলমান। এছাড়া দেশে একটি অত্যাধুনিক Maintenance Repair and Overhaul (MRO) unit স্থাপন, বগুড়ায় আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পাইলট প্রশিক্ষণ একাডেমি প্রতিষ্ঠা, ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর সম্প্রসারণ এবং কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর স্থাপনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি আমরা।
পর্যটন খাতের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে মন্ত্রণালয়। দেশের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন স্পটকে উন্নয়নের লক্ষ্যে মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজ চলছে। বিশেষ করে সিলেট ও কক্সবাজারের মতো পর্যটন কেন্দ্রগুলোকে আধুনিকায়ন এবং পরিবেশবান্ধব পর্যটন নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। আমরা দেশীয় জিডিপিতে পর্যটন খাতের অবদান ৩ থেকে ৬ শতাংশে উন্নীত করতে চাই। সরকারের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা, বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ এবং সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি বিশ্বমানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।
- বহুপাক্ষিক আলোচনা ও কর্মকৌশল ঠিক করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ১৬ ডিসেম্বরকে সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে বিবেচনায় রেখেই সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
- উল্লেখ্য, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রায় ৯৪ হাজার বর্গমিটার এলাকাজুড়ে ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক বিস্তৃত। এর আওতায় রয়েছে—টার্মিনাল ১, টার্মিনাল ২, ডোমেস্টিক টার্মিনাল, ভিআইপি টার্মিনাল, ভিভিআইপি টার্মিনাল এবং কার পার্কিং এলাকা। এ বিস্তৃত কাভারেজের ফলে বিমানবন্দরের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ অংশেই যাত্রীরা বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। এ শক্তিশালী প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর মাধ্যমে বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্থানে দ্রুত ও স্থিতিশীল ফ্রি ওয়াই-ফাই সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
- ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে শাহজালাল, শাহ আমানত ও এমএজি ওসমানী বিমানবন্দরে উন্নত দেশের মতো ফ্রি ইন্টারনেট ব্যবস্থার নির্দেশ ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরে উদ্বোধন করা হয়েছে।










